কবালা কবলা কব্‌লা: দলিল, দলিলকে কবালা কবলা কব্‌লা বলা হয় কেন?

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/কবালা-কবলা-কব্‌লা-দলিল-দল/
আরবি ক’বুল থেকে উদ্ভূত কবালা [আ.ক’বুল+আ] অর্থ ক্রিয়াবিশেষ্যে স্বীকার করা, অঙ্গীকার করা; বিশেষণে অঙ্গীকার করা হয়েছে এমন, স্বীকার করা হয়েছে এমন, কবুল করা হয়েছে এমন, রাজি হয়েছে এমন এবং বিশেষ্যে অঙ্গীকার, স্বীকার, রাজি। যেহেতু, দলিলের মাধ্যমে দলিলদাতা কোনো বিষয় স্বীকার করেন, অঙ্গীকার করেন বা রাজি হন, কবুল করেন এবং দলিল হচ্ছে ওই স্বীকার রাজি, কবুল বা অঙ্গীকারের গ্রাহ্য প্রমাণক। তাই দলিলের অপর নাম কবালা। এটি কবলা বা কব্‌লা নামেও পরিচিত।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান মতে, আরবি উৎসের কবালা অর্থ বিশেষ্যে ভূসম্পত্তি বিক্রয়ের দলিল। যেমন: সাফ কবালা। জমি ইত্যাদি হস্তান্তরের দলিল, বিক্রয়পত্র ইত্যাদি স্থানভেদে কবলা, বালা কোবালা প্রভৃতি নামেও পরিচিত।

কবুল শব্দের সঙ্গে কবালা শব্দের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আরবি উৎসের কবুল অর্থ বিশেষ্যে সম্মতি, স্বীকৃতি, বিবাহে সম্মতি; স্বীকার, অনুমোদন; দায় এবং বিশেষণে অনুমোদিত, স্বীকৃত।
সচরাচর
 সংস্কৃত চরাচর  শব্দের অর্থ যা চলে এবং যা চলে না, জঙ্গম ও স্থাবর সমস্ত কিছু। পৃথিবী, বিশ্ব, জগৎ অর্থে শব্দটি বিশেষ্য। সমস্ত জগৎ অর্থে শব্দটি বিশেষণ। শব্দটি বাংলায় ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। যেমন: এমন ঘটনা সচরাচর ঘটে না। দিনটিকে আমরা সচরাচর নববর্ষ নামে চিহ্নিত করে থাকি। উভয় বাক্যে সচরাচর শব্দের অর্থ সাধারণত, প্রধানত, প্রায়শ ইত্যাদি। সংস্কৃত সচরাচর শব্দটির গঠনে চরাচর শব্দটি বিদ্যমান। সংস্কৃত চরাচর শব্দটির গঠন চর্+ অ +অচর। চর্ ধাতু থেকে ক্রিয়াপদ চরা শব্দের সৃষ্টি। অর্থ যা কিছু চলে। অচর চর্ ধাতুর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।

আমি শুবাচ থেকে বলছি

error: Content is protected !!