কমা থেকে ক্ষমা চাই: বাক্যে কমা ও সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার সম্পর্কে আমার নিজস্ব ধারণা

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/কমা-থেকে-ক্ষমা-চাই-বাক্যে/
মহোদয়, আপনি যদি সাধারণ প্রথাগত বা পাঠ্যসূচিভিত্তিক ব্যবহার জানতে চান, তাহলে দয়া করে নিচের সংযোগে গিয়ে দেখুন।
আমার লেখায় কমা-সেমিকোলন চিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণ প্রথাগত বা শিক্ষার্থীদের শেখানোর উদ্দেশ্যে রচিত পাঠ্যপুস্তকে প্রদত্ত নির্দেশনা মুখ্য বিবেচিত হয় না। মুখ্য বিবেচিত হয়— ভঙ্গি  প্রকৃতি উদ্দেশ্য পরিবেশ পরিস্থিতি  মূল্যবোধ  ও মানসিক অবস্থা প্রভৃতি । এক্ষেত্রে প্রবন্ধ আর উপন্যাসেও বিশাল পার্থক্য এসে যায়। যাদের জন্য লেখা তাদের বোধগম্যতায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই মনে করলে আমি এই দুটি চিহ্নের (কমা সেমিকোলন) ব্যবহারে স্বেচ্ছাচারী। অর্থ বিঘ্নের আশঙ্কা থাকলে কমা-সেমিকোলনের প্রথাগত সাধারণ ব্যবহার মেনে চলতে হয় বই কি। আধুনিক বাংলায় কমার চেয়ে দাঁড়ির ব্যবহার বেশি।
আমার এ ধারণা শিক্ষার্থীদের জন্য রচিত পাঠ্য পুস্তকের বাইরে বিবেচনা করবেন। এটি আপনার মতো বোদ্ধাদের জন্য।
অনিবার্য না হলে বাক্যের মাঝে শব্দের ফাঁকে ফাঁকে এই ছোটো চিহ্ন দুটির সঘন উপস্থিতি এড়িয়ে যাওয়া উত্তম মনে করি। দেখতে কেমন জানি লাগে। বাক্যের মাঝে মনে হয় খোচা খোচা দাড়ি। ‘কমা’র চেয়ে আমার কাছে ‘দাঁড়ি’ অনেক বেশি বেহতর মনে হয়। দাঁড়ি,  সটান দাঁড়িয়ে থাকে রাজপুত্রের মতো মাথায় তাজ পরে। কমা, ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে উবু হয়ে লুটিয়ে থাকে নিচে। তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাকে এড়িয়ে যাওয়ার  কোনো সুযোগ নেই।
“এখানে ময়লা ফেলবেন না। ফেললে জরিমানা।” এ বাক্যে আমি যেখানে দাঁড়ি দিয়েছি সেখানে অনেকে ‘কমা’ দিয়ে থাকেন। আমি ‘দাঁড়ি’ ব্যবহার করি। কমা থেকে যত পারি ক্ষমা চেয়ে দূরে থাকি।
  • আমার এ ধারণা শিক্ষার্থীদের জন্য রচিত পাঠ্য পুস্তকের বাইরে বিবেচনা করবেন। এটি আপনার মতো বোদ্ধা পাঠকের জন্য। রাস্তার জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল আর বাক্যের জন্য যতিচিহ্ন। সিগন্যাল থাক বা না থাক সচেতন পথিক পরিস্থিতি দেখেই বুঝে যায়— কোথায় কখন এবং কতক্ষণ থামতে হবে। তাই উন্নত দেশে ট্রাফিক সিগন্যালের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনুন্নত দেশের তুলনায় কম। তবে, যারা নবীন তাদের জন্য যতিচিহ্নের সাধারণ প্রথাগত নির্দেশনা আবশ্যক।
বাক্যে অর্থ বিভ্রাটের আশংকা খুব বেশি মনে না হলে আমি ‘কমা’ ব্যবহার করি না। পাঠক এত অবোধ নয় যে, সবখানে ট্রাফিক সিগন্যালের মতো লালবাতি দেখিয়ে থামাতে হবে। সচেতন লোক সাধারণভাবে কোথায় থামতে হবে তা সিগন্যাল না থাকলেও বুঝতে পারে। রাস্তায় যেটি ট্রাফিক সিগন্যাল বাক্যে সেটি যতিচিহ্ন।   
কামাল গোপাল জালাল তমাল ও বিধান একসঙ্গে বাজারে যাচ্ছিল হেঁটে হেঁটে দিব্যি আনন্দে স্নিগ্ধ প্রকৃতির মায়াটুকু পুরোপুরি উপভোগ করে তাদের শিক্ষক শ্রীযুক্ত বাবু রমণীমোহন আচার্য্যের সঙ্গে এক বিকেলে।
ওপরের বাক্যটির অনেক স্থানে অনেকে নানা যতিচিহ্ন বসাতে পারেন। এক্ষেত্রে কখন কোথায় কোন যতিচিহ্ন বসবে বা বসাতে হবে কিংবা কোথায় থামতে হবে তা লেখক বা বক্তার নিজস্ব ঢঙে চয়িত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
আমি মনে করি, যারা বাংলায় সাধারণভাবে দক্ষ এবং লেখালিখি করে তাদের ক্ষেত্রে যতিচিহ্নের ব্যবহার বহুলাংশে নিজস্ব ঢঙে পরিচালিত হয়। যেমন:
  • চলো আগে দেখে আসি লোকটা কী করে।
  • চলো আগে দেখে আসি, লোকটা কী করে।
  • চলো, আগে দেখে আসি লোকটা কী করে।
  • চলো, আগে দেখে আসি, লোকটা কী করে।
  • চলো, আগে দেখে আসি; লোকটা কী করে।
  • চলো, আগে দেখে আসি— লোকটা কী করে।
যতিচিহ্নে থামার-অথামার সময় বর্ণনা করে যেসব বর্ণনা আছে তা সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না।
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!