কমোরোস (Comoros) ইতিহাস ও নামকরণ

ড. মোহাম্মদ আমীন

কমোরোস (Comoros)

কমোরোস ভারত মহাসাগরে মোজাম্বিক চ্যানেলের উত্তর-পশ্চিমের শেষ প্রান্তে আফ্রকার পূর্ব তটরেখায় উত্তর-পূর্ব মোজাম্বিক ও উত্তর-পশ্চিম মাদাগাস্কারের মধ্যে অবস্থিত একটি স্বাধীন দ্বীপ রাষ্ট্র। এর নিকটবর্তী অন্যান্য দেশসমূহের মধ্যে উত্তর-পশ্চিমে তাঞ্জানিয়া এবং উত্তর-পূর্বে সিসিলিস অবস্থিত। মোরোনি দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।

আরবি কামার  শব্দ হতে কমোরোস নামের উদ্ভব। আরবি কামার শব্দের অর্থ চন্দ্র। আরবীয় শব্দগুচ্ছ জাজির আল কামার  দিয়ে দেশটিকে প্রকাশ করা হতো। এর অর্থ চাঁদের দ্বীপ।

কমোরসের অধিবাসীদের কমোরান বলা হয়। ৯৮% কমোরান মুসলিম। বাকিদের অধিকাংশ রোমান ক্যাথলিক। সরকারি ভাষা কমোরিয়ান, আরবি ও ফ্রেঞ্চ। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ৬ জুলাই কমোরস ফ্রান্স হতে স্বাধীনতা লাভ করে।

কমোরোসের মোট আয়তন ২,০৩৪ বর্গকিলোমিটার বা ৭২৭ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয় ভাগের পরিমাণ নগন্য। ২০১০ খ্রিস্টাব্দের হিসাবমতে, মোট জনসংখ্যা ৭,৯৮,০০০ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা ২৭৫। আয়তন বিবেচনায় কমোরস পৃথিবীর ১৭৮-তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যা বিবেচনায় ১৬৩। অন্যদিকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় এটি পৃথিবীর ২৫-তম জনবহুল দেশ।

২০১৩ খ্রিস্টাব্দের হিসাবমতে কমোরসের জিডিপি (পিপিপি) ৯১৯.০০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার (১৭৯-তম) এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ১,২৯৭ ইউএস ডলার (১৭৯-তম)। অন্যদিকে, জিডিপি (নমিনাল) ৬৫৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার (১৮৫-তম) এবং মাথাপিছু আয় ৯২৫ ইউএস ডলার (১৫৮-তম)।

ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু কমোরসে বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এজন্য কমোরোসে বর্ষাকাল শুরু হয় নভেম্বর মাসে এবং তা মে পর্যন্ত স্থায়ী হয়। সাইক্লোন এখানে প্রতিবছরই আঘাত হানে। এটি একটি দরিদ্র দেশ। দেশের অধিবাসীদের ৬৫% ঘরবাড়ি খড়ের তৈরী। তবে ৯০% লোক নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করে। আবাদি জমির পরিমাণ ৩৬% এবং শিক্ষিতের হার মাত্র ৫৬.৫%।

অনজুয়ান, মোহেলি ও গ্র্যান্ড কোমোরÑ এ তিনটি দ্বীপ নিয়ে কমোরোস রাষ্ট্রের অবয়ব রচিত। কমোরোস তার নিকটবর্তী মাইয়োতি দ্বীপকেও নিজেদের দাবি করে। অবশ্য দ্বীপটি এখন ফ্রান্সের অধিকারে। কমোরোসের জাতীয় পতাকায় পরিদৃশ্য চারটি তারা এ চারটি দ্বীপের প্রতীক।২০০২ খ্রিস্টাব্দের ৭ জানুয়ারি ক্যামরোসের জাতীয় পতাকা গ্রহণ করা হয়।

ভ্যানিলা উৎপাদনে মাদাগাস্কারের পর কমোরোস পৃথিবীতে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী। ইলং-ইলং উৎপাদনে কমোরোস বিশ্বে প্রথম। এটি সুগন্ধি তেল উৎপাদনে অত্যাবশ্যক একটি উপাদান। দেশের অন্যান্য কৃষিজ দ্রব্যের মধ্যে লবঙ্গ, সুগন্ধি দ্রব্য, শুষ্কশাস, নারিকেল, কলা, কাসাভা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। প্রধান শিল্পের মধ্যে পর্যটন ও সুগন্ধিপাতন (perfume distillation) উল্লেখযোগ্য।

 দেখুন: চাদ 

Language
error: Content is protected !!