করণ কৃত ভবন ভূত: শুদ্ধ, কিন্তু শুদ্ধীকরণ; ঋজু কিন্তু ঋজূকরণ; সুষ্ঠু কিন্তু সুষ্ঠূকরণ

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/করণ-কৃত-ভবন-ভূত-শুদ্ধ-কিন্/
করণ কৃত ভবন ভূত: শুদ্ধ, কিন্তু শুদ্ধীকরণ; ঋজু কিন্তু ঋজূকরণ; সুষ্ঠু কিন্তু সুষ্ঠূকরণ

করণ কৃত ভবন ভূত

আত্ত, কিন্তু আত্তীকরণ, আত্তীকৃত, আত্তীভবন, আত্তীভূত।
এক, কিন্তু একীকরণ, একীকৃত, একীভবন, একীভূত।
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

একত্র, কিন্তু একত্রীকরণ, একত্রীকৃত, একত্রীভবন, একত্রীভূত।

নির্মূল, কিন্তু নির্মূলীকরণ, নির্মূলীকৃত, নির্মূলীভূত।
ঘন, কিন্তু ঘনীকরণ, ঘনীকৃত, ঘনীভবন, ঘনীভূত।
শুদ্ধ, কিন্তু শুদ্ধীকরণ, শুদ্ধীকৃত, শুদ্ধীভূত, শুদ্ধীভবন।
তীক্ষ্ণ, কিন্তু তীক্ষ্ণীকৃত, তীক্ষ্ণীকরণ, তীক্ষ্ণীভবন, তীক্ষ্ণীভূত।
স্পষ্ট, কিন্তু স্পষ্টীকরণ, স্পষ্টীকৃত, স্পষ্টীভূত।
সম, কিন্তু সমীকরণ, সমীকৃত, সমীভবন, সমীভূত।
সরল, কিন্তু সরলীকরণ, সরলীকৃত, সরলীভবন, সরলীভূত।
সহজ, কিন্তু সহজীকরণ, সহজীকৃত, সহজীভূত, সহজীভবন।
সদৃশ্য, কিন্তু সদৃশীকরণ, সদৃশীকৃত, সদৃশীভবন, সদৃশীভূত।
ঋজু, কিন্তু ঋজূকরণ, ঋজূকৃত, ঋজূভবন, ঋজূভূত, ।
লঘু, কিন্তু লঘূকরণ, লঘূকৃত, লঘূভবন, লঘূভূত।
তরল, কিন্তু তরলীকরণ, তরলীকৃত, তরলীভবন, তরলীভূত।
নিমোনিক: মনে রাখার কৌশল
(১) তৎসম শব্দের শেষে করণ, কৃত, ভবন, ভূত প্রভৃতি প্রত্যয় যুক্ত (চ্বি প্রত্যয়-সহ) হলে সাধারণত ঈ-কার আগম হয়।
নির্মূলীকরণ= নির্মূল+চ্বি+করণ।
নির্মূলীকৃত= নির্মূল+চ্বি+কৃত।
ঘণীভবন=ঘন+চ্বি+ভবন।
ঘনীভূত= ঘন+চ্বি+ভূত।
(২) তৎসম শব্দের শেষে শেষে উ-কার থাকলে এবং ওই শব্দের সঙ্গে করণ কৃত ভবন ভূত প্রভৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ওই উ-কার করণ কৃত ভবন ভূত (+চ্বি)] প্রভৃতির প্রভাবে ঊ-কার হয়ে যায়। যেমন:
ঋজু+চ্বি+করণ= ঋজূকরণ।
ঋজু+চ্বি+কৃত= ঋজূকৃত।
ঋজু+চ্বি+ভবন= ঋজূভবন।
ঋজু+চ্বি+ভূত= ঋজূভূত।
অনুরূপ:
লঘু> লঘূকরণ, লঘূকৃত, লঘুভবন, লঘূভূত।
সুষ্ঠু> সুষ্ঠূকরণ, সুষ্ঠূকৃত, সুষ্ঠূভূত।
অনু থেকে অনূকরণ হলো না কেন? কারণ, ‘অনু’ বিশেষ্য বা বিশেষণ নয়- অব্যয় এবং পরে, পশ্চাৎ, সাদৃশ্য ও ব্যাপ্তি প্রভৃতিসূচক সংস্কৃত উপসর্গ। এসব বিষয়-সহ এরূপ প্রত্যয়াদি যুক্ত হলে পদের কী পরিবর্তন হয় তা বিস্তারিত জানতে চাইলে নিচের লিংক দেখতে পারেন:

শুদ্ধিকরণ নয়, শুদ্ধীকরণ; শুদ্ধিকৃত নয়, শুদ্ধীকৃত

‘শুদ্ধিকরণ’ ভুল বানান। শুদ্ধ বানান ‘শুদ্ধীকরণ’। এ বিষয়ে একাধিক লেখা প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও অনেক লেখক ‘শুদ্ধিকরণ’ শব্দ ব্যবহার করে যাচ্ছেন।
মনে রাখবেন, ব্যতিক্রান্ত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে তৎসম শব্দের সঙ্গে করণ, কৃত, ভবন, ভূত প্রভৃতি যুক্ত হলে ঈ-কার আগম হয়। যেমন:
নিরস্ত্র থেকে নিরস্ত্রীকরণ, নিরস্ত্রীকৃত,
আত্ত থেকে আত্তীকরণ, আত্তীকৃত,
সম থেকে সমীকরণ,সমীকৃত
অঙ্গ থেকে অঙ্গীভূত,
বশ থেকে বশীভূত।
উ-কার থাকলে ঊ-কার হয়। যেমন:
সুষ্ঠু থেকে সুষ্ঠূকরণ 
সংস্কৃত ‘ঋজু (√অর্জ+উ)’ অর্থ বিশেষণে অবক্র, সোজা, সরল, অকপট, সুবোধ্য, অনকূল, হিতকর, বিলাসবর্জিত। ঋজুরেখা অর্থ বিশেষ্যে দুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী ক্ষুদ্রতম দূরত্ব, সরলরেখা। ঋজুস্বভাব অর্থ বিশেষণে সরলপ্রকৃতি, অকপট। ঋজূকরণ অর্থ বিশেষ্যে সরলীকরণ। করণ যুক্ত হলে বিশেষণ, বিশেষ্যে পরিণত হয়।
ঋজুকায়, ঋজুত্ব, ঋজুপ্রকৃতি, ঋজুরেখ, ঋজুরেখা, ঋজুস্বভাব প্রভৃতি শব্দের বানানে জ-য়ে উ-কার; কিন্তু ঋজূকরণ বানানে ঊ-কার। কারণ কী?
নিমোনিক: ব্যতিক্রান্ত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে ‘করণ’ যুক্ত হলে বিশেষণ/ বিশেষ্যের শেষের অ/আ/ই/ঈ ধ্বনি, ঈ ধ্বনিতে এবং উ/ঊ ধ্বনি, ঊ ধ্বনিতে পরিণত হয়। যেমন:
সরল থেকে সরলীকরণ, ভস্ম থেকে ভস্মীকরণ, বক্র থেকে বক্রীকরণ, ব্যক্ত থেকে ব্যক্তীকরণ, বাজি থেকে বাজীকরণ, অণু থকে অণূকরণ, সুষ্ঠু থেকে সুষ্ঠূকরণ, শুরু থেকে শুরূকরণ। অনুরূপ, ঋজু থেকে ঋজূকরণ।
অনু থেকে অনূকরণ হলো না কেন? কারণ, ‘অনু’ বিশেষ্য বা বিশেষণ নয়- অব্যয় এবং পরে, পশ্চাৎ, সাদৃশ্য ও ব্যাপ্তি প্রভৃতিসূচক সংস্কৃত উপসর্গ।* অধিকন্তু, ব্যতিক্রম তো আছেই। সূত্রটি কেবল তৎসম শব্দের জন্য প্রযোজ্য।
 
ঋজু কিন্তু ঋজূকরণ কেন: জানতে চাই
সংস্কৃত ‘ঋজু (√অর্জ+উ)’ অর্থ বিশেষণে অবক্র, সোজা, সরল, অকপট, সুবোধ্য, অনকুল, হিতকর, বিলাসবর্জিত। ঋজুরেখা অর্থ বিশেষ্যে দুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী ক্ষুদ্রতম দূরত্ব, সরলরেখা। ঋজুস্বভাব অর্থ বিশেষণে সরলপ্রকৃতি, অকপট। ঋজূকরণ অর্থ বিশেষ্যে সরলীকরণ। করণ যুক্ত হলে বিশেষণ, বিশেষ্যে পরিণত হয়।
ঋজুকায়, ঋজুত্ব, ঋজুপ্রকৃতি, ঋজুরেখ, ঋজুরেখা, ঋজুস্বভাব প্রভৃতি শব্দের বানানে জ-য়ে উ-কার; কিন্তু ঋজূকরণ বানানে ঊ-কার। কারণ কী?
নিমোনিক: ব্যতিক্রান্ত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে ‘করণ’ যুক্ত হলে বিশেষণ/ বিশেষ্যের শেষের অ/আ/ই/ঈ ধ্বনি, ঈ ধ্বনিতে এবং উ/ঊ ধ্বনি, ঊ ধ্বনিতে পরিণত হয়। যেমন:
সরল থেকে সরলীকরণ, ভস্ম থেকে ভস্মীকরণ, বক্র থেকে বক্রীকরণ, ব্যক্ত থেকে ব্যক্তীকরণ, বাজি থেকে বাজীকরণ, অণু থকে অণূকরণ, সুষ্ঠু থেকে সুষ্ঠূকরণ, শুরু থেকে শুরূকরণ। অনুরূপ, ঋজু থেকে ঋজূকরণ।
অনু থেকে অনূকরণ হলো না কেন? কারণ, ‘অনু’ বিশেষ্য বা বিশেষণ নয়- অব্যয় এবং পরে, পশ্চাৎ, সাদৃশ্য ও ব্যাপ্তি প্রভৃতিসূচক সংস্কৃত উপসর্গ।

সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, ব্যবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. (মূল্য: ৭৫০টাকা)।
error: Content is protected !!