কলকাতা নামের ব্যুৎপত্তি ২

 কলকাতা নামের ব্যুৎপত্তি ২

ইউসুফ চৌধুরী

 গুমনাম গ্রামনাম
কলকাতার বাঙালির কাছে কলকাতা শুরু হচ্ছে যখন বসাক শেঠ আর ব্রিটিশরা কলকাতায় এল তারপর থেকে। যেন তার আগে কিছুই ছিল না। মোগল পাঠান ছিল না, গুপ্ত পাল সেন ছিল না, হাড়ি বাউড়ি অস্ট্রিক ছিল না।

ইউসুফ খান

প্রাচীন বাংলার গ্রামনামগুলো মূলত অস্ট্রিক, যেগুলোর মানে উদ্ধার করতে না পেরে আমরা দেশজ বলে দায় সারি। খোদ বঙ্গ নামটাই অস্ট্রিক। তারপর কিছু আছে দ্রাবিড়, যেমন কাঁকিনাড়া। তারপর এসেছে মোগল আমলে আরবি ফারসি স্থাননাম যার বেশিরভাগটাই ব্যক্তিনামে, তাই সেসব অল্প আয়াসে বোঝাও যায়। অস্ট্রিক দ্রাবিড় নামগুলোর ব্যুৎপত্তি উদ্ধার করতে গেলে আমাদের প্রচুর পড়াশোনা লাগবে। আগামী প্রজন্মকে সেটা করতে হবে। কোনও আশ্চর্য কারণে হয়তো সেই সুদিনও আসবে। তবে আমরা দেখে যেতে পারবো না।
কলকাতার সবচেয়ে পুরনো ডকুমেন্টেশন যা আছে তা ফারসিতে, কলকাতার বিভিন্ন এলাকার জমি ভিটি পুকুরের প্রকার আর তার খাজনার হিসাব কিতাবে আর দলিল দস্তাবেজে। সেই দফতরি ফারসি পড়া একালের আমাদের কম্মো নয়, কিন্তু সেকালের শিক্ষিত সব বাঙালি সেটা পারত। দ্বারকানাথ থেকে রামমোহন সবাই। কিন্তু কোনও কিছুর রেকর্ড বা ডকুমেন্টেশন রাখা বাঙালি জাতের ধাত নয়। ফলে আমাদের ইতিহাস নিয়ে সাহেবরা যা গল্প দিয়ে গেছে তাই আমরা টুকটাক টুকে টাকে চালিয়ে দিচ্ছি।

কলিকাতা নেই কলিকাতাতেই
হবসন-জবসনে লিখছে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ১৬৭৫ খ্রিষ্টাব্দের একটা মেরিন চার্টে সুতানুটি আর গোবিন্দপুর আছে, কলকাতা বলে কোনও জায়গা নেই। কলকাতার ফ্যাক্টরি কাউন্সিল বিলেতের ইন্ডিয়া অফিসে এদেশ থেকে যে চিঠি পাঠাতো তাতে সুতানুটির নাম থাকত, কলকাতা না। ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে টমাস বাওর আর ১৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে জর্জ হেরন কলকাতার যে ম্যাপ আঁকেন তার দুটোতেই সুতানুটি গোবিন্দপুর আছে কিন্তু কলকাতা নেই। মানে এতগুলো ইংরাজ-সাক্ষী আছে যে কলকাতা নেই। অথচ ১৫৯০ খ্রিষ্টাব্দে আবুল ফজল আইন-ই-আকবরিতে শাহি সাক্ষী দিচ্ছেন যে কলকাতা আছে। কিমাশ্চর্যম!
কোম্পানির কাগজে ‘কলকাতা’ প্রথম পাওয়া গেছে ১৬৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই আগস্ট। আর ফ্যাক্টরি কাউন্সিল ১৭০০খ্রিষ্টাব্দের  জুন থেকে ক্যালকাটা এবং পরে ফোর্ট উইলিয়াম ইন ক্যালকাটা লিখতে শুরু করে। তার মানে হঠাৎ করে আবার কলকাতা গজিয়ে উঠল। আস্ত একটা গ্রাম একশ বছর ধরে ভ্যানিশ হয়ে থাকল, আর কয়েক বছর পর আবার তার মড়া ফিরল। ভানুমতীর খেল না কি?
আসলে কিছুই না, কলকাতা নামের ব্যুৎপত্তি জানলেই বোঝা যাবে যে, কলকাতা ছিল তাই কলকাতা ছিল -না, বা ছিল না তাই ছিল। মানে, “নেই তাই খাচ্ছ থাকলে কোথায় পেতে” গোছের অতি সরল তরল একটা ব্যাপার।

নবাবি কলকাতা
এখনকার কলকাতা নবাবি আমলে ছিল দুটো গ্রাম—উত্তরে সুতানুটি আর দক্ষিণে গোবিন্দপুর আর মাঝখানটা ফাঁকা।
১. উত্তরের সুতানুটি অর্থাৎ আজকের উত্তর কলকাতা তখন ছিল জল জঙ্গল খাল পুকুর ভরা একটা জায়গা। পথে ঘাটে শিয়াল খাটাশ ঘুরে বেড়ায়। এখানকার আদি বাসিন্দারা ছিল নিম্নবর্ণের হিন্দু মানুষজন। জলপথে তাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল মুসলমান পিরেরা – মানিক রির, গোরাচাঁদ পির, মওলা আলি প্রমুখ। এরপর আসে সপ্তগ্রাম হুগরির তাঁতবেনে বসক-বসুক-বসেক-বসাক আর শেঠ-শেট্টি -শ্রেষ্ঠীরা। সাতগাঁ-সপ্তগ্রাম বন্দর মজতে থাকলে বেনেরা বিপদ বুঝে হুগলি নদীর ভাটি বেয়ে সুতানুটিতে এসে ঠাঁই গাড়ে। তারও অনেক পরে ১৬৯০ খ্রিষ্টাব্দের ২৪শে আগস্ট সুতানুটির শোভাবাজার আহিরিটোলা ঘাটের কাছে এসে নৌকা ভিড়োয় জব চার্ণক।
২. দক্ষিণের গোবিন্দপুর হচ্ছে ফোর্ট উইলিয়াম থেকে আদিগঙ্গা টালির নালা পর্যন্ত। গোবিন্দপুর তখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘন জঙ্গল এলাকা, যেখানে সন্ধ্যে লাগলেই দক্ষিণ রায়ের রাজত্ব, আর শ্মশানে কাপালিক বা ডাকাতের রাজ। শ্বাপদসঙ্কুল আলিপুর কালীঘাট বেহালার সেইসব চিড়িয়ারা এখন আলিপুর চিড়িয়াখানা নিয়েই সন্তুষ্ট। গোবিন্দপুরের বেশির ভাগটাই তখন জঙ্গল, যা দাবি করার বা দখল নেবার কেউ নেই। নবাবি আমলের শেষের দিকে এসে গোটা গোবিন্দপুর জুড়ে আসন পাতে বড়িশার জমিদার সাবর্ণ রায় চৌধুরীরা।
৩. উত্তর দক্ষিণের মাঝের অংশটা, মানে উত্তরের জোড়বাগান ঘাট থেকে দক্ষিণের চাঁদপাল ঘাট পর্যন্ত, যেটা পরে সাহেবপাড়া ক্যালকাটা হবে, সেই জায়গাটা ছিল না। ছিল না মানে ডাঙা ছিল না। জায়গাটা ছিল সারাবছর হাঁটুজল বুকজলে ডুবে থাকা জলাজমি, হুগলি নদীর পথ পরিবর্তনের ফলে পুরানো খাত আটকে পড়া আড়া বিল, স্রোতহীন অগভীর জলাশয়, যাকে বলে শোল বা জোল বা বিল। মানে বৌবাজার এসপ্ল্যানেড ময়দান ডালহৌসি এসব ছিল ডুবো জমি। নদী তার গতিপথ বদলালে তার ফেলে আসা পথে এই রকম শোল জোল বিল ঝিল লেক তৈরি হয়। এই জমিতে কারও মালিকানা থাকে না, এই জমিতে চাষবাস হয় না। সারা বছর জলা প্লটটা প্লাটোর মতো পড়ে থাকত। এখানে কোনও বসতি গ্রাম ছিল না, তাই কোনও গ্রামনাম ছিল না, তাই সাহেবদের করা পুরনো ম্যাপে কলকাতা গ্রাম নেই। কিন্তু তার বহু যুগ আগে থেকে নবাবি জমিদারদের খাতায় এই মাঝের জলা জায়গাটা কোলকাতা নামে রেকর্ড হয়ে আছে। কিন্তু কেন?

নাব্য কলকাতা
শোলের বদ্ধ পচা জলে শ্বাস নিতে পারে এমন মাছ প্রচুর হয় শোলের জলে। শোলে জোলে হওয়া মাছগুলো হচ্ছে শোল জেওল মাছ, মানে শোল শাল ল্যাটা মাগুর শিঙি কই খোলসে ইত্যাদি। কোলকাতার শেয়ালদা তখন আশেপাশের হিসেবে একটু উঁচু জায়গা। হুগলির বেনেরা যখন সুতানুটিতে এসে পেছন ঠেকায় তখন হুগলির জেলেরা শেয়ালদার ডাঙায় এসে জাল খাটায়। শেয়ালদার পেছন থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত ছিলো জেলে পাড়া। বিদ্যেধরী থেকে একটা বড়ো খাল বেরিয়ে বেলেঘাটা শেয়ালদা ওয়েলিংটন জানবাজার হয়ে গঙ্গায় পড়ত। শেয়ালদার জেলেরা এই খাল দিয়ে নৌকো নিয়ে গিয়ে ওয়েলিংটন বৌবাজার এসপ্ল্যানেড বিলে মাছ ধরত। সেই খাল মজে বুজে এখন ক্রিক রো নাম নিয়ে একটা গলি হয়ে টিকে আছে। জেলেপাড়ার অসংস্কৃত কৈবর্তরাই সুতোনুটির বেনে এবং বাবুদের কেচ্ছা নিয়ে জেলেপাড়ার সঙ বার করতো। উনিশ শতকের শুরুতে শেয়ালদা বেলেঘাটার এই জেলেদের শেষ জেলে-প্রজন্মের রানিমা ছিলেন জেলে বাড়ির দাপুটে মেয়ে শ্রীরাষমনীদাশী, মানে রাণী রাসমণি ১৭৯০-১৮৬১। গত বছর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে ইস্টওয়েস্ট মেট্রোর টানেল খুঁড়তে গিয়ে বৌবাজার এলাকাটা ধসে বসে গেল। তখন ঐতিহাসিকরা জাবেদা খাতা খুলে বলল, ‘বসবে না? ওগুলোতো সব খাল ভরা জায়গা।’ বাড়ি ধসে গিয়ে বৌবাজারের বাসিন্দারা এবং রাণি রাসমনির বাড়ির লোকেরা এখনও হোটেলে বাস করছে।

সাহেবি কলকাতা
সাহেবরা যখন কলকাতায় এল তখন মাঝখানের জোলের জল শুকোতে শুরু করেছে, কারণ পুবদিকের বিদ্যেধরী নদী থেকে জলের যোগান বন্ধ হয়ে এসেছে। নবাবি আমলে কোনও জমিতে বসতে বা চষতে গেলে শাহি বা নবাববি বা জমিদারি সনদ লাগত। ইংরেজরা কলকাতার এই জোলো মাঠ ফাঁকা দেখে সনদ ছাড়াই জাঁকিয়ে বসতে গিয়েছিল। ফলে ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সিরাজউদ্দৌলা এসে সাহেবদের থাবড়ে দাবড়ে দিয়ে গিয়েছিল। ১৭৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মিরজাফরের কাছ থেকে সাহেবরা জায়গাটা কিনে নিয়ে এখানে নতুন শহর গড়ার মহাযজ্ঞ শুরু করে। একদম ফাঁকা ময়দান পেয়ে গিয়েছিল বলে, কাউকে তুলতে ফেলতে হয়নি বলে সাহেবরা সেই ফাঁকা মাঠে সহজে গোল দিতে পেরেছিল। বিলেত থেকে বিশেষজ্ঞ ডেকে কলকাতাকে নতুন লণ্ডন বানিয়েছিল। সাহেবরা মাঝখানের পুরো জোলো জায়গাটা জুড়ে সাহেবপাড়া হোয়াইট টাউন তৈরি করেছিল। উত্তরের সুতানুটির বাঙালি পাড়াকে সাহেবরা বলত ব্ল্যাক টাউন। ব্ল্যাকদেরকে হোয়াইট টাউনে বসতে ঘেঁষতে দিত না। যদিও চাকর বাকর মুনশি খানসামা ব্ল্যাকটাউন থেকেই নিত। শহর তৈরির জন্য নানান জোগাড়েদের নিয়ে ব্ল্যাক টাউনে নানান টোলা টুলি আর বাজার বসিয়ে দিয়েছিল। সে অনেক কথা। দক্ষিণের গোবিন্দপুরের সঙ্গে সাহেবদের বেশি ওঠাবসা ছিল না। সিরাজউদ্দৌল্লার কাছে ঝাড় খেয়ে সাহেবরা গায়ের জ্বালা মেটাতে গোবিন্দপুর পুড়িয়ে দিয়েছিল। এক হিসেবে দেখতে গেলে কলকাতা শহরের জন্মদাতা সত্যিই সাহেবরা। কিন্তু কলকাতা নাম কেন?

কোল কোলা কুল্যা
২৪ পরগনায় আছে শিরাকোল, বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জে আছে শিয়ালকোল, বর্ধমানের এক গ্রামের নাম ভোঁরকোল, বর্ধমানের মেমারিতে আছে মায়েরকোল। এতগুলো কোল কোল পেতে আছে অথচ আমরা নামের ফেরে কাল কিল কলি কালী ইত্যাদি সাতঘাটে ঘুরে বেড়িয়েছি। ভাবিনি যে কোল নিজেই একটা কথা।
ফারসিতে কোল کول মানে জলাশয় পুকুর। এটা এসেছে তুর্কি কোল کول মানে বিল লেক থেকে। এখনকার তুর্কিতে কোল এর বানান একই আছে কিন্তু উচ্চারণ হয়ে গেছে গোল। মোগল আমলে জমিদারিতে খাল বিল জোল শোল এই সবকিছুকে ফারসিতে একটাই অভিধা দেওয়া হতো – কোল, অর্থাৎ কিনা জলাশয়। ‘যে অংশ প্রায় ভূমি দ্বারা বেষ্টিত তাহাকে কোল কহা যায়’ – অক্ষয় কুমার দত্ত ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দ। কোলকাতার শুরুতে এই কোল-টা আছে। কারণ শুরুতে সুতানুটি গোবিন্দপুরের মাঝখানের ওই জোলটা, যা জেলেদেরকে শোলের ঝোল জোগাত, যেটাকে সাহেবরা হোয়াইট টাউন বানালো, সেটা আসলে ছিলো একটা বড়ো শোল বা ফারসিতে বললে কোল। তাই জমিদারির ফারসি দস্তাবেজে এটাকে কোল-ই লেখা হত।
সাতশ বছরের ব্যবহারে কোল একটা জলচল শব্দ হয়ে গেছে। সুনা জমির পাশে জোলো শোল জমিটা তাই কোল জমি। কোলে বাস করা ব্যাঙ কোলা ব্যাঙ, কোলে জন্মানো শাক কোলমি শাক, কোলে জন্মানো কাঁটা কুল্যাকাঁড়া কুলেখাঁড়া, কোলে মাছ ধরার পলো কোলপিঠা, কোলে মাছ ধরার জাল কোলচাপানি, কোলে মাছ ধরার জন্য জালের ফাঁদ কোলঠাপি, কোলে মাছ ধরার জন্য কাপড়ের ফাঁদ কোলঠাপানি, কোলে নামার ঘাট কোলাঘাট।কন্নড়ে কোলা মানে পুকুর জলাশয়, তামিলে কুলাম মানে পুকুর। কিন্তু কাতা আছে বলেই বোঝা যাবে কোলকাতার কোল ফারসি কোল।

জমিদারি কাতা
মহানগর কলকাতা ছাড়াও আরও কাতা আছে— হাওড়ার আমতার কলকাতা, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার কলকাতা। বীরভূমের এক গ্রামের নাম ঢোলকাতা। বাংলার পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ডেও আছে ঢোলকাতা। কাতা যে এত সব খাতা খুলে রেখেছে তাহলে এবার তো পেত্যয় যেতেই হয় যে কাতা নিজেই একটা কথা, সে মোটেই ক্ষেত্র কোঠা কোটি ঘাট হাতা এসব থেকে আসেনি।
আজকের দিনে আমরা জমির অংশ বা ভাগ বা জোত চিনি তার দাগ নম্বর দিয়ে। নবাবী আমলে দাগকে বলা হতো কাতা কত্তা কেত্তা কিত্তা। আরবি قطع ক়তা’ কিত্তা কিতা মানে অংশ, ভাগ। আরবি يقطع ইক্‌তা মানে কাটা কেটে নেওয়া। আল দিয়ে ঘিরে জমির যে ভাগ বা জোত কেটে নেওয়া হয়েছে সেটা একটা কাতা। পুরনো দলিল লেখক জিজ্ঞেস করতো— ‘পুবদিকের কাতাটা কোলজমি না ভিটি?’, ‘এই কাতাটাতে ক ভাইয়ের অংশ আছে?’
সুতানুটি আর গোবিন্দপুর এই দুটোর মাঝখানে যে বিস্তীর্ণ জলাভূমি সেটা গোটাটা একটাই কাতা। এখানে আলাদা আলাদা কোনও আবাদ বসত ভিটি নেই তাই একটাই কাতা। মহানগরের যে কাতাটা কোল সেটা কোলকাতা। কোল এর পরিচয়, কোনও গ্রামনাম নয় তাই ম্যাপে এর নাম নেই, কিন্তু জমিদারের খাতায় কাতাটা কোল হিসেবে লেখা থাকল, লোকজন জানল ওটা কোল কাতা, কিন্তু তার কোনও নাম থাকল না শুধু পরিচয় থাকল।
কাতা বানানে আরবির সাধারণ ک ক ت ত ছেড়ে স্পেশাল ق ক ط ত আছে, আবার শেষে ততোধিক স্পেশাল ع আয়েন আছে বলে কাতা-র ঠিক ‘উচ্চারণ’ করতে লোকে অনেক কেতা কসরত করত। তাই کول قطع কথাটার এত উচ্চারণ কোল.কতা কোল.কেতা কোল.কত্তা

ডিহি কোলকাতা
প্রাচীন তুর্কিতে دیه ডিহ্‌ ডেহ্‌ ডিহক্‌ মানে গ্রাম বা মফস্‌সল, আর ডিহি মানে গ্রামবাসী বা চাষি। ফারসিতে ডিহ্‌ এসেছে তুর্কি গ্রাম নাম নিয়েই। কিন্তু এদেশে মোগল যুগে জমিদারিতে গ্রাম বোঝাতে আরবি মৌজা কথাটা চলত, আর কয়েকটা মৌজার সমষ্টি বোঝাতে ফারসি ডিহ্‌ কথাটা চলত। ফারসিতে ডিহ লেখা হলেও লোকে ডি ডিহি বলত। গিরিডি সাঁওতালডি। কয়েকটা ডিহ নিয়ে হতো তহশিল। কোল কাতা চাট্টানটা এত বড়ো যে ওটাকে ডিহ্‌ কোল কাতা হিসেবেই রেকর্ড করা হয়েছিল। এই ডিহ্‌ লোকমুখে ডিহি হয়ে গেছে। সাহেবরা কিনে নেওয়ার আগে যতদিন জায়গাটা নবাবি জমিদারিতে ছিল ততদিন খাজনার খাতায় এটা ছিলো دیه کول قطع ‘ডিহ কোল কাতা’।
বাঙালি পণ্ডিত আরবি ফারসি জানল না, সাহেবি সাপোর্ট পেল না, তাও বিধান দিয়ে দিল— কলিকাতা শহর সুতানুটি গোবিন্দপুর এবং কলিকাতা এই তিনটি গ্রাম নিয়ে গঠিত। তারপর নিজেরাই দশরকম উৎপটাং ব্যুৎপত্তিও দিয়ে দিল। সাহেবরা ঠিকই বলেছে, কলিকাতা নামে কোনও গ্রাম ছিল না, কলকাতা কোনও গ্রামের নাম না। আর কোলকাতা কোনওদিন গ্রাম ছিল না, কোলকাতা জন্মেই শহর, শোল থেকে সটান সিটি। দ্য সিটি অব ক্যালকাটা। দেখুন: কলকাতা নামের ব্যুৎপত্তি ১

উৎস: কলকাতা নামের ব্যুৎপত্তি ২, ইউসুফ খান, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)

ইউসুফ খান, কলকাতা. ২০২০ সেপ্টেম্বর ০৭

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
error: Content is protected !!