কলা কলা: বাংলা কলা, সংস্কৃত কলা, ষোলোকলা পরকলা কলাবতী কলাবউ কলাবিদ্যা কলাবিদ

ড. মোহাম্মদ আমীন

কলা কলা: ষোলোকলা পরকলা কলাবতী কলাবউ কলাবিদ্যা কলাবিদ

সংযোগ: https://draminbd.com/কলা-কলা-বাংলা-কলা-সংস্কৃত/

কলা: অভিধানে পৃথক ভুক্তিতে দুটি কলা দেখা যায়।  একটি খাঁটি বাংলা কলা এবং অন্যটি সংস্কৃত কলা। খাঁটি বাংলা কলা খাওয়ার কলা। সংস্কৃত কলা খাওয়ার কলা নয়। 
  • খাঁটি বাংলা কলা: অভিধানমতে, সংস্কৃত কদলক হতে উদ্ভূত খাঁটি বাংলা কলা অর্থ— ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে চাষ করা হয় এমন বড়ো লম্বা ও সবুজ পাতাবিশিষ্ট একবীজপত্রী ওষধি উদ্ভিদ বা তার এমন ফল যা পাকলে সাধারণত হলুদ হয়ে যায়; রম্ভা; কাঁচকলা যা কাঁচা অবস্থায় রেঁধে খাওয়া যায়। 
  • সংস্কৃত কলা: সংস্কৃত বা তৎসম কলা(√কলি+অ) অর্থ (বিশেষ্যে)— গীতবাদ্যনৃত্য প্রভৃতি চৌষট্টি বিদ্যা; চারুশিল্প; চলছাতুরি (ছলাকলা); নির্মাণকুশলতা; যে বিশেষ তন্তু দ্বারা দেহের বিভিন্ন অংশ গঠিত হয়, tissue  প্রভৃতি।
ষোলোকলা: খাঁটি বাংলা ষোলো ও সংস্কৃত কলা শব্দের সমন্বয়ে ষোলোকলা শব্দটি গঠিত। অভিধানমতে, ষোলোকলা (ষোলো+কলা) অর্থ (ক্রিয়াবিশেষণে)— সম্পুর্ণভাবে, পুরোপুরি। ষোলোকলা  শব্দের ‘কলা’ কদলক ‘কলা’ নয়। ‘ষোলোকলা’ শব্দের ‘কলা’ সংস্কৃত কলা। এটি খাওয়ার কলা বা ব্যানানা নয়। 
‘ষোলোকলা’ শব্দের ‘কলা’ সংস্কৃত কলা। যার ব্যুৎপত্তি কলা=√কলি+অ। 
কলাবউ কলাবধূ: কলাবউ ও কলাবধূ সমার্থক। দুটোই বাংলা শব্দ। অভিধানমতে, কলাবউ শব্দের অর্থ— দুর্গাপূজার প্রধান দিনে পূজিত কলাগাছের বধূমূর্তি, কলা বেল প্রভৃতি নয়টি গাছের পাতার তৈরি দেবীমূর্তি; (আলংকারিক) অতি লজ্জাশীলা বধূ। বাংলা কলা ও সংস্কৃত বধূ নিয়ে গঠিত কলাবধূ শব্দটি কলাবউ শব্দের সমার্থক।
কলাবতী: অভিধানে পৃথকভুক্তিতে দুটি কলাবতী দেখা যায়। দুটোই তৎসম। ব্যুৎপত্তি অভিন্ন হলেও অর্থ ভিন্ন।  উদ্ভিদ বা অপস্পরা হিসেবে পরিচিত কলাবতী সাধারণত বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্যটি বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
  • সংস্কৃত কলাবতী (কলাবৎ+ঈ) অর্থ— ক্রান্তীয় ও আমেরিকার উপক্রান্তীয় অঞ্চলে জাত উজ্জ্বল হলুদ লাল প্রভৃতি রঙের ফুল বা তার উদ্ভিদ, ক্যানা, cana; অপ্সরাবিশেষ।
  • সংস্কৃত কলাবতী (কলাবৎ+ঈ) অর্থ— (বিশেষণে) নাচ গান প্রভৃতি চৌষট্টি কলায় নিপুণা, শিল্পকর্মে নিপুণা ; (বিশেষ্যে) মধ্যরাতে গেয় সংগীতের রাগবিশেষ।
কলাবিদ কলাবিদ্যা ও কলাবৎ: সংস্কৃত কলাবিদ (কলা+√বিদ্‌+অ) অর্থ (বিশেষণে)— শিল্পজ্ঞানী,  শিল্পরসজ্ঞ, শিল্পরসিক। চারুশিল্পবিষয়ক শাস্ত্রকে বলা হয় কলাবিদ্যা (কলা+বিদ্যা) বলা হয়। এটি তৎসম শব্দ এবং বাক্যে সাধারণ বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সংস্কৃত বিদ্যায় যে নিপুণ তাকে বলা হয় কলাবৎ (কলা+বৎ)। এটি তৎসম শব্দ এবং বাক্যে সাধারণত বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পরকলা: যে কলা দ্বারা ছোটো জিনিসকেও বড়ো করে দেখা যায় তাকে বলা হয় পরকলা। পরকলা দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী। অস্পষ্ট জিনিসকে স্পষ্ট করে দেখার সক্ষমতা আনয়নের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি উপকরণ। এই কলার জন্ম পারস্যে। অনেকে দেখেছেন, কিন্তু খাওয়ার সুযোগ কারও হয়নি। তাই বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি কমতে কমতে একসময় একদম শেষ হয়ে যায়।

অভিধানমতে, ফারসি উৎসের ‘পরকলা’ অর্থ: (বিশেষ্যে) আতশকাচ, বিবর্ধক কাচ। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় লেন্স (lens)।

জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/…
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!