কাঁঠাল: ভুতি ভুতুড়ি ভুঁড়ি ভূরি ভুনা ও ভুনাখিঁচুড়ি

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/কাঁঠাল-ভুতি-ভুতুড়ি-ভুঁড়ি/
ভুতি ভুতুড়ি: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান মতে, কাঁঠালের ভেতরের বর্জ্য অংশ যা কোষকে ধরে রাখে তাকে ভুতি বা ভুতুড়ি বলে। বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান বলছে, কাঁঠালের ভেতরের অখাদ্য অংশ যা কোষের সঙ্গে জড়িত ধরে রাখে তাকে ভুতি বা ভুতুড়ি বলে। ভুতি ও ভুতুড়ি দুটোই দেশি শব্দ এবং বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অভিধানে ভুতি বা ভুতুরিকে বর্জ্য বা অখাদ্য অংশ বলা হলেও এখন এটাকে একশব্দে সরাসরি বর্জ্য বা অখাদ্য অংশ বলার সুযোগ নেই। ভুতি-ভুতুরি এখন নানাভাবে মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। খাদ্য ছাড়াও আরও অনেক প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি তৈরি করা হচ্ছে এককালের বর্জ্য বা অখাদ্য ভুতুরি দিয়ে। গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও এটি প্রয়োজনীয়। আঞ্চলভিত্তিতে ভুতি-ভুতুরি নানা নামে পরিচিত। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ভুতি বা ভুতুরিকে বলা হয় ভোতা।
“আমাদের দেশের এক্ষণকার বড়মানুষদিগের মনুষ্যজাতিমধ্যে কাঁটাল বলিয়া বোধ হয়। . . . কতকগুলি খাসা খাজা কাঁটাল, কতকগুলির বড় আটা, কতকগুলি কেবল ভূতুড়িসার, গরুর খাদ্য।” বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কমলাকান্তের দপ্তর
ভুঁড়ি ভূরি:  বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত দেশি ‘ভুঁড়ি’ শব্দের অর্থ মোটা পেট, বড়ো পেট, স্থূল উদর প্রভৃতি। অন্যদিকে বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত তৎসম ‘ভূরি (√ভূ+রি)’ শব্দের অর্থ অনেক, প্রচুর, অতিশয় প্রভৃতি। উচ্চারণ প্রায় অভিন্ন বলে অনেকে শব্দ দুটি লিখতে গিয়ে বানানে ভুল করে ফেলেন। তন্মধ্যে আমি অন্যতম। অনেক সময় ‘ভূরিভোজন(অতিশয় ভোজন)’ লিখতে গিয়ে লিখে ফেলি ‘ভুঁড়িভোজন(পেটভোজন)’। এমন হাস্যকর সংশয় দূর করার জন্য একটি স্মৃতি-জাগানিয়া কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে: অতৎসম শব্দে ‘দীর্ঘ ঊ-কার’ ব্যবহৃত হয় না আবার তৎসম শব্দে ‘চন্দ্রবিন্দু’ ব্যবহৃত হয় না। মোটা পেট, স্থূল উদর প্রভৃতি অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত ‘ভুঁড়ি’ অতৎসম শব্দ। তাই ‘ভুঁড়ি’ শব্দের বানানে দেশীয় পণ্ডিতগণ বুদ্ধি করে হ্রস্ব উ-কার এবং চন্দ্রবিন্দু দিয়েছেন।
কিন্তু ‘ড়’ কেন? ভুঁড়ি শব্দের অর্থ বড়ো পেট। তাই বড়ো পেটের প্রমাণস্বরূপ ‘ভুঁড়ি’ বানান ‘ভুঁড়ি’। কয় বার ‘ভুঁড়ি’ শব্দটি লেখা হয়েছে গুণে দেখুন। এত বার ‘ভুঁড়ি’ দেখলে ‘ভুঁড়ি’ বানানে ভুল হবার শঙ্কা অনেকটা কমে যাবে। ‘ভুরি’ সংস্কৃত শব্দ তাই শব্দটির বানানে দীর্ঘ ঊ-কার তৎসমের প্রতীক। তো ‘র’ কেন?  ‘ভূরিভোজন’ যাতে ‘ভুঁড়িভোজন’ না-হয়ে যায় সেজন্য পাণিনি বাবু বুদ্ধি করে ‘প্রচুর’ অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত ‘ভূঁরি’ শব্দের বানানে ‘র’ বসিয়ে দিয়েছেন।
ভুনা ভুনাখিঁচুড়ি: হিন্দি ‘ভর্জন’ থেকে এসেছে ‘ভুনা’ শব্দ। ‘ভুনা’ মানে তেলে বা ঘিয়ে ভাজা। আক্ষরিক অর্থে ভাজা হলেও কোনও মসলাদার ব্যঞ্জন অল্প আঁচে রান্না হলে তাকে ভুনা বলে। বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে ভুনার চল বেশি। প্রধানত মাংস আর মাছের ভুনা হয়ে থাকে। ছোলা সিদ্ধ পিঁয়াজ মসলা দিয়ে যে শুকনো ব্যঞ্জন তৈরি হয়। তাকেও  ভুনা বলে।  আধুনিক বাংলা অভিধান মতে, হিন্দি উৎসের ভুনা অর্থ (বিশেষণে) অল্প তেলে ভেজে রাঁধা (ভুনাখিঁচুড়ি); মাছ ডিম প্রভৃতি খাদ্যবস্তু অল্প তেলে ভেজে রাঁধা।

শুবাচ-এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ

শুবাচে প্রকাশিত ও প্রকাশনীয় অধিকাংশ লেখা পেতে চাইলে ক্লিক করতে পারেন এই সংযোগে: www.draminbd.com। শুবাচে প্রকাশিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখা নিচের সংযোগসমূহে গিয়ে দেখতে পারেন। ৮ নম্বরে রয়েছে শুবাচগোষ্ঠীর নীতিমালা।
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
error: Content is protected !!