কাচারি, কাচারিবাড়ি ও তোশাখানা, তোষা, তোষামুদে: ষাঁড়: ষাঁড় বানানে চন্দ্রবিন্দু কেন

ড. মোহাম্মদ আমীন কাচারি

কাচারি, কাচারিবাড়ি ও তোশাখানা, তোষা, তোষামুদে: ষাঁড়: ষাঁড় বানানে চন্দ্রবিন্দু কেন

সংযোগ: https://draminbd.com/কাচারি-কাচারিবাড়ি-ও-তোশা/

কাচারিবাড়ি, তোশাখানা অর্থের উৎস কী?
কাচারি: হিন্দি কচহরি থেকে উদ্ভূত কাচারি অর্থ (বিশেষ্যে) বিচারালয়, আদালত; দপ্তর, কার্যালয়।
কাচারিবাড়ি: সাধারণত মূল বাড়ি হতে পৃথক যে বাড়ি বা কক্ষে অভ্যাগতরা অপেক্ষা বা বিশ্রাম করত, গৃহকর্তা যে কক্ষে অভ্যাগতদের সঙ্গে আলাপ করত, আরজি শুনত, স্বাগত জানানো বা আপ্যায়ন করা হতো সেটি কাচারিবাড়ি। কাচারি ও কাচারিবাড়ি এক নয়।তবে কাচারি থেকে কাচারিবাড়ি। সেকালে জমিদার, প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রমুখের কাচারিবাড়ি ছিল বাড়ির মতো অনিবার্য। কাচারিবাড়ি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একসময় এসব বাড়িতে বিচারালয়ের কাজও চলত। এখনও চলে।
তোশা, তোশাখানা, তোশক: ফারসি তোশক অর্থ (বিশেষ্যে) বিছানার চাদরের নিচে পাতা হয় এমন তুলা, কৃত্রিম স্পঞ্জ প্রভৃতির তৈরি গদিবিশেষ। পোশাক বানানে তালব্য-শ। তাই তোশক বানানেও তালব্য-শ। ফারসি তোশা অর্থ (বিশেষ্যে) মূল্যবান জিনিসপত্র। তোশাখানা অর্থ মূল্যবান জিনিসপত্র রাখার ভান্ডার। বিদেশি শব্দ বলে বানানে ষ আসেনি।
তোষা তোষামুদে, তোষামোদ: ফারসি তোষা অর্থ (ক্রিয়াবিশেষ্যে) তুষ্ট বা আনন্দিত করা, তুষ্ট সাধন করা। তোষা থেকে উদ্ভূত তোষামুদে, তোষামোদ প্রভৃতি শব্দের ফারসি উৎস দেখানো হলেও কেন ষ রেখে দেওয়া হয়েছে তার কোনো ব্যাখ্যা বাংলা একাডেমি দেয়নি। বিদেশি শব্দের বনানে ষ বিধেয় নয় বলা হলেও আরও কিছু শব্দের বানানের মতো এই তিনটি শব্দের বানানে ষ রেখে দেওয়া হয়েছে। এরূপ শব্দকে হিজড়া শব্দ বলা যায়।

ষাঁড় বানানে চন্দ্রবিন্দু কেন

বাবা, ছেলে বললেন, “ষাঁড় বানানে চন্দ্রবিন্দু দেব না।”
দেখো বাবা, পাগলামি করো না, চন্দ্রবিন্দুটা দাও। বাংলায় ষাঁড়-এর মতো সম্মানি শব্দ আর নেই। অতৎসম হয়েও সে একাই ষ আর চন্দ্রবিন্দু ধারণ করে আছে। তুমি আরেকটা শব্দ দেখাও যেখানে ষ-এর মাথায় চন্দ্রবিন্দু আছে। অসুর হয়েও ব্রাহ্মণের ষ নিয়ে- বাংলায় রাজত্ব করছে ষাঁড়। তাকে আমাদের সম্মান করা উচিত।
ছেলে: কিন্তু চন্দ্রবিন্দু দেব কেন? গোরু, চন্দ্রবিন্দু নিয়ে কী করবে?
ষাঁড়ের মাথায় যা আছে তা চন্দ্রবিন্দু নয়।
কী?
শিং। শিং ছাড়া কি ষাঁড় হয়? গুঁতো দেবে কীভাবে?
তাহলে, স্যার-এর মাথায় চন্দ্রবিন্দু নেই কেন? তারাও তো গুঁতো দেয়।
স্যার-এর পিঠে প্যাঁচালো য-ফলা আছে-না? মনে করো ওটাই শিং।
প্যাঁচালো য-ফলা কেন?
স্যারগণ প্যাঁচাল মারেন বেশি, তাই।
কিন্তু, সার বানানে তো আ-কার ছাড়া কিছু নেই।
যার গুণ আছে তার অত ফলা-মলা লাগে না, আ-কারই যথেষ্ট।
সর বানানে তো আ-কারও নেই।
সার-এর চেয়ে সর এক কাঠি সরস। সরস বানানেও আ-কার-ই-কার নেই।
বাবা, পাইছি।
কী পাইছ?
রস।
কীভাবে?
সর উলটিয়ে।
বাবা বললেন, তোমার মামার বাড়ি অভয়নগর। আ-কার-ই-কার নেই।
আমাদের মতলব উপজেলা বানানেও তো বাবা ই-কার-ই-কার নেই।
সূত্র: বাঙালির বাংলা হাসি, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়।
error: Content is protected !!