কানাশুক্কুর এবং অনিশ্চিত কূপ

কানাশুক্কুর এবং অনিশ্চিত কূপ

ড. মোহাম্মদ আমীন

কানাশুক্কুর

জানতে চাই কানাশুক্কুর অর্থ কী?
দৈত্যগুরু শুক্কুর থেকে কানাশুক্কুর কথার উদ্ভব। ‘কানাশুক্কুর’ অর্থ পক্ষপাতদুষ্ট লোক। যে ব্যক্তি বিবেকহীনভাবে পক্ষপাতদুষ্ট, তাকে ব্যঙ্গ করে কানাশুক্কুর বলা হয়।
শুক্কুর বা শুক্র ছিলেন দৈত্যগুরু। তিনি সর্বদা নিজের পক্ষের প্রতি সদয় এবং অন্যদের প্রতি নির্দয় আচরণ করতেন। বিভিন্ন নির্বাচনে সমর্থন থাকুক বা না থাকুক শুধু নিজ দলের লোকদের জয়ী ঘোষণা করতেন। স্বপক্ষীয় লোকদের কোনো দোষই তাঁর চোখে পড়ত না। নানা অজুহাতে কেবল অন্যপক্ষের দোষ ধরতেন। একবার তিনি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে বলিরাজের দানে বিঘ্ন সৃষ্টি করায় দৈত্যগুরু শুক্কুরের এক চোখ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে তাঁর নাম হয়ে যায় কানাশুক্কুর।
পৌরাণিক এই কাহিনি-কথন থেকে পক্ষপাতদুষ্ট লোক অর্থে কানাশুক্কুর কথাটি ব্যবহার করা হয়।রোমান ও গ্রিক পুরাণের গল্পগুলোতে একচোখা দৈত্যের দেখা পাওয়া যায়। এদের বলা হয় সাইক্লোপস।
সূত্র: বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস, ড. মোহাম্মদ আমীন

অনিশ্চিত কূপ

জানতে চাই অনিশ্চিত কূপ (Wildcat Well) কী?
অনিশ্চিত কূপ (Wildcat Well) হলো তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য খননকৃত পরীক্ষামূলক কূপ— যা আদৌ উৎপাদনশীল হবে কি না তা এখনও প্রমাণিত হয়নি। আবার অপ্রমাণিত কোনো অঞ্চলে অর্থাৎ কখনো তেল বা গ্যাস পাওয়া যায়নি এমন কোনো অবস্থানে খননকৃত কূপকেও অনিশ্চিত কূপ বলা হয়।
বাংলাদেশে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার ঊর্ধ্বভাঁজে ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম অনিশ্চিত কূপ খনন করা হয়। ওই কূপ ৭৬২ মিটার গভীর পর্যন্ত খোঁড়া হয়। প্রথম উপকূলীয় অনিশ্চিত কূপটি খনন করা হয় বঙ্গোপসাগরের সোপান অঞ্চলে ১৯৭৪-৭৫ খ্রিষ্টাব্দে। বিদেশি ৬টি তেল কোম্পানি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে উৎপাদন অংশীদারি চুক্তির ভিত্তিতে কূপটি খনন করে।
এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভূভাগে ৫৩টি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ১৩টি অনিশ্চিত কূপ খনন করা হয়েছে। যার ফলে ভূভাগে ২২টি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দুটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। তেল ও গ্যাস আবিষ্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের অনুপাত বিশ্বে সর্বোচ্চ। সারা বিশ্বে সাফল্যের অনুপাত ১:১০, বাংলাদেশে তা ১:৩.০৪।
————-
error: Content is protected !!