কাম্বোডিয়া (Cambodia) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (এশিয়া)

ড. মোহাম্মদ আমীন

কাম্বোডিয়া (Cambodia)

কাম্বোডিয়া (Cambodia) শব্দের অর্থ কাম্বোজাসদের (Kambojas) দেশ। ফরাসি (French) ভাষার ল্যাটিনিকরণ শব্দ ক্যাম্বোজ (Cambodg) এবং সংস্কৃত ক্যাম্বোজাদেস (Kambojadeśa) হতে শব্দটির উদ্ভব। তবে কাম্বোডিয়া নামের উৎপত্তি সম্পর্কে যথেষ্ট বিতর্ক এবং ভিন্নমত রয়েছে। বলা হয়, ইয়াস্কা (Yaska) বা দেবনাগরী ( খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শত) ও নিরুক্তা নামের দুইজন বিখ্যাত ব্যাকরণবিদ কাম্বোজা নামটি প্রদান করেন। তাঁদের দেওয়া এ Kamboja শব্দের অর্থ ‘সুন্দর বস্তু হতে আনন্দ গ্রহণকারী বা প্রকৃতি হতে আনন্দ গ্রহণকারী’। সেখানকার অধিবাসীরা প্রাকৃতি হতে নির্মল ও অকৃত্রিম সৌন্দর্য গ্রহণে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল। কৃত্রিমতা তারা পছন্দ করতেন না। প্রকৃতি ও প্রকৃতিজাত সুন্দর বস্তু উপভোগে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যেতেন। উল্লেখ্য ইয়াস্কা ও নিরুক্তা ছিলেন পানিনীর পূর্বে বিদ্যমান দুইজন ব্যাকরণবিদ। ৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে বাকসি চমকরঙ (Baksei Chamkrong) শিলালিপি ও কাম্বোডিয়ান ঐতিহ্যে কাম্বোজা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে একটি প্রবাদ বর্ণিত হয়েছে।

কথিত হয়, Svayambhuva Kambu নামের বিখ্যাত ভারতীয় ঋষি ইন্দোচায়না গমন করেন। সেখানে তিনি মেরা নামের এক নাগা রাজকুমারীকে বিয়ে করেন। বলা হয় হয় ঋষির নামের শেষাংশ কাম্বোর সঙ্গে জা ((-ja) প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কাম্বোজা নামের বিকাশ ঘটে। পরবর্তীকালে এ কাম্বোজা হতে কাম্বোডিয়া নামের উৎপত্তি। আবার অনেকে মনে করেন, প্রাচীন পারসি বা সমগোত্রীয় আভেস্তান(Avestan) ভাষার শব্দ কাম্বাউজাইয়া (Kambaujiya) হতে কাম্বোডিয়া নামের উৎপত্তি। উল্লেখ্য পারসি কাম্বাউজাইয়া শব্দের অর্থ দুর্বল এবং আভেস্তান ভাষায় এর অর্থ অন্তত। আবার অনেকের মতে, সংস্কৃত ও আভেস্তার মিশ্র ভাষায় শব্দটির অর্থ অবিচল। এটাও বলা হয় যে, গুজরাটি কম্বে বা খাম্বাট (Cambay or Khambhat) হতে কম্বোডিয়া শব্দটি এসেছে।

কাম্বোডিয়ার আয়তন ১,৮১,০৩৫ বর্গকিমি বা ৬৯,৮৯৮ বর্গমাইল, তন্মধ্যে জলীয় অংশের পরিমাণ ২.৫ ভাগ। জনসংখ্যা ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের অনুমিত হিসাবমতে ১,৫৪,৫৮,৩৩২ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৮১.৮ জন। আয়তন, জনসংখ্যা ও জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় কাম্বোডিয়ার স্থান যথাক্রমে ৮৮তম, ৬৫-তম এবং ১১৮-তম। মোট জিডিপি (পিপিপি) ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে ৪৯.৯৬০ ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ৩,২৬২ ইউএস ডলার। জিডিপি নমিনাল ১৬.৫৫১ ডলার এবং মাথাপিছু আয় ১,০৮০ ইউএস ডলার। গিনি (২০১১) অনুযায়ী ৩১.৮ এবং ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের হিসাব অনুযায়ী এইচডিআই ০.৫৮৪, যা বিশ্বের ১৩৬-তম। কাম্বোডিয়ার মুদ্রার নাম রিয়েল এবং রাজধানী নমপেন (Phnom Penh)। নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৯০ ভাগ খেমার, ৫% ভিযেতনামিজ, ১% চায়নিজ এবং অন্যান্য ৪%। কাম্বোডিয়ার জন্মহার মৃত্যু হারের তিনগুণ।

কাম্বোডিয়া খুনের হার খুব কম এবং তা প্রতি লাখে মাত্র তিন। কম্বোডিয়ানদের জীবনযাত্র খুব সহজ এবং প্রায় প্রত্যেকের বাড়ি আছে। সরকার বিনাসুদে বাড়ির করার জন্য ঋণ দিয়ে থাকে। অনেকে বাড়ির মধ্যে গ্রোসারির দোকান খুলে ব্যবসা করেন। কাম্বোডিয়া পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলোর অন্যতম। দৈনিক গড় আয় মাত্র ২.৬০ ডলার। তবে এক তৃতীয়াংশ লোকের আয় মাত্র ১ ইউএস ডলার এবং এ আয় নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। দরিদ্র হলেও এ দেশের জনগণের ক্যান্সার আক্রান্তের হার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক। এটি পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে কেএফসি কোনো লাভ করতে পারে না। যারাই কেএফসির দোকান খুলেছে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিকাংশ লোক পলিথিনের ব্যাগে পানীয় পান করে। তারা সবসময় তাজা ফলমুল ও মাছমাংস খেতে পছন্দ করে। দেশের ৯৫ ভাগ লোকের কোনো রেফ্রিজারেটর নেই। কাম্বোডিয়ানদের খাদ্যের কোনো বাছবিছার নেই। ছাড়পোকা, তেলেপোকা, কীটপতঙ্গ, নিষিক্ত ডিম, সাপ, লার্ভা, ইঁদুর, গবাদি পশুর পেটে মারা যাওয়া বাচ্চা, কেঁচো কোনো কিছুই তারা বাদ দেয় না।

কাম্বোডিয়ার ১ কোটি ৫০ লক্ষ লোক কিন্তু মপেড বা মোটর সাইকেলের সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লক্ষ। লাশ টানা থেকে শুরু করে প্রায় সবকাজে তারা মপেড ব্যবহার করে। কাম্বোডিয়ার রাজপথের অধিকাংশ সংযোগস্থলে থামার কোনো চিহ্ন নেই। যে যার ইচ্ছেমতো গাড়ি চালায়। যে কোনো স্থানে গাড়ির জ্বালানি পাওয়া যায়। ড্রামে ভরে তারা জ্বালানি বিক্রি করে। কম্বোডিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে ডলফিন পাওয়া যায়। খেমারুজ ভাষায় রাইচ ও ফুড একই শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

কম্বোডিয়া এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দি হ্রদ অবস্থিত। এর নাম (ঞড়হষব ঝধঢ়)। কম্বোডিয়ার পতাকা বিশ্বের একমাত্র পতাকা যেখানে বিল্ডিঙের বিশাল ছবি শোভিত। পলপট শাসিত খেমার রুজদের ক্ষমতা থাকাকালীন কম্বোডিয়ার ১৫ লাখ লোক নিহত হয়। ইউনেস্কোর হিসাবমতে, এখনও ৪ মিলিয়ন মাইন মাটির নিচে রয়েছে। ফলে প্রতিবছরই হাজার হাজার লোক আহত হয়।


বাংলাদেশ (Bangladesh) : ইতিহাস ও নামকরণ

ভুটান (Bhutan) : ইতিহাস ও নামকরণ

ব্রুনাই (Brunei) : ইতিহাস ও নামকরণ

চায়না (China) : ইতিহাস ও নামকরণ

কাম্বোডিয়া (Cambodia) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

error: Content is protected !!