কালশনিবার ফলে গ্যাচে, ক অক্ষর মহামাংস, কাফরি দাঁড়কাকের বাচ্চা, কয়াল, কানীন, কানীনী

ড. মোহাম্মদ আমীন
বাম থেকে ড. মোহাম্মদ আমীন, হায়াৎ মামুদ এবং হরিশংকর জলদাস
সংযোগ: https://draminbd.com/কালশনিবার-ফলে-গ্যাচে/
কালশনিবার ফলে গ্যাচে
অষ্টাদশ শতক এবং ঊনবিংশ শতকের প্রথম দিক পর্যন্ত শনিবারে বাগানে গিয়ে ধনী বাবুরা দশ ইয়ারের সঙ্গে নেশা করে সাঁড় নিয়ে চোহেলের হদ্দ করত। শুধু বাগানে কেন বাড়িতে রাস্তায় যেখানেই যাওয়া যায় সেখানে গিয়ে মজা করত। তাই শনিবারটি চোহেলের হদ্দ মজা করার সমার্থক হয়ে উঠেছিল।
যে সকল বাবুদের খড় দ, পেনেটি, আগড়পাড়া, কামারহাটী প্রভৃতি গঙ্গাতীর অঞ্চলে বাগান আছে, আজ তাঁদেরো ভারী ধুম, অনেক জায়গায় কাল শনিবার ফলে গেছে, কোথাও আজ শনিবার, কারু কদিনই জমাট বন্দোবস্ত— আয়েস ও চোহেলের হদ্দ!”
—হুতোম প্যাঁচার নকশা, কালীপ্রসন্ন সিংহ।
ক অক্ষর মহামাংস
 ‘ক অক্ষর মহামাংস’ কথাটির অর্থ: ক অক্ষর গোমাংস, আকাট মূর্খ, অক্ষর পরিচয় নেই— এমন অবস্থা।  এই তিনটি নেতিবাচক বিশেষণ একসঙ্গে যার ওপর ভর করেছে তাকে বলা হয় ক অক্ষর মহামাংস। যদিও তিনটি বাগ্‌ভঙ্গিই সমার্থক। তবে সমার্থক মানে অভিন্ন নয়। কিছু না কিছু পার্থক্য থাকে।   ‘ক অক্ষর মহামাংস’  বাগ্‌ভঙ্গিটি রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রথম তাঁর বিখ্যাত ‘কুলীন কুলসর্বস্ব’ নাটকে ব্যবহার করেন।
 “ কিন্তু ইহার উদরে ক অক্ষর মহামাংস. . .।”
—কুলীন কুলসর্বস্ব, রামনারায়ণ তর্করত্ন
কয়াল
যে ব্যক্তি বাজারে বা আড়তে শস্যাদি ওজন করে তাকে এককথায় কী বলা  কয়াল। কয়াল শব্দটি আরবি কইয়াল্‌ হতে উদ্ভূত। একসময় ‘কয়াল’ শব্দটি বহুল প্রচলিত ছিল। বিভিন্ন সাহিত্যকর্মে এর ব্যবহার দেখা যায়।
দুজন কয়াল জিনিস মাপতে হিমশিম খেয়ে যায়।”
— ইছামতি, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
কানীন
তৎসম কানীন শব্দের অর্থ হচ্ছে কুমারীর গর্ভজাত, কুমারীর গর্ভজাত সন্তান। সংস্কৃত কন্যা থেকে কানীন (কনীন+অ)। কানীন শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কানীনী। প্রসঙ্গত, কনীন অর্থ কন্যা।
“বেদব্যাস শান্তনুর এবং কর্ণ পাণ্ডুর কানীনপুত্র।” মনুর আইন ও মহাভারতের সমস্যা, সুভাষচন্দ্র চট্টোপাধ্যা।
 কাফরি দাঁড়কাকের বাচ্চা
পাতিকাক বা কাকের চেয়ে বেশি কালো হয় দাঁড়কাক। আফ্রিকার কাফরি (কাফ্‌রি) জনজাতিও ঘোর কালো বর্ণের হয়। এজন্য অত্যধিক কালো গায়ের রংযুক্ত বোঝাতে কাফরি দাঁড়কাক শব্দ ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, কথাটির আলংকারিক অর্থ অত্যধিক কালো। গালি হিসেবে কথাটি ব্যবহার করা হতো। ঊনবিংশ শতকে কথাটির বেশ প্রচলন ছিল।   
প্যারীচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুরের পুত্র চুনিলাল মিত্র তাঁর জুনিয়র টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লেখা ‘কলিকাতার নুকোচুরি (১৮৬৯)’ গ্রন্থে হুতোমকে কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করেন। কারণ হুতোম তাঁর ‘নকশা’য় চুনিলালের পিতা প্যারীচাঁদ মিত্র এবং শ্বশুর শিবচন্দ্র দেবকে উদ্দেশ করে প্রেমানন্দ ও জ্ঞানানন্দ চরিত্র দুটি চিত্রিত করেন। চুনিলাল মিত্রের হুতোমকে এই আক্রমণের ফলে প্যারীচাঁদ মিত্র তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র করেন।ভুবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায় নিশাচর ছদ্মনামে লেখা ‘সমাজ কুচিত্র’ বইতে চুনিলালের হুতেমকে এই আক্রমণের জন্য চুনিলালকে ‘কাফরি দাঁড়কাকের বাচ্চা’ বলে উল্লেখ করেছেন। ভুবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায় নিশাচর ছদ্মনামে লেখা ‘সমাজ কুচিত্র’ বইতে চুনিলালের হাতেমকে এই আক্রমণের জন্য চুনিলালকে ‘কাফরি দাঁড়কাকের বাচ্চা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ওদিকে কা কা কোর্ত্তে কোর্ত্তে একটা কাফরি দাঁড়কাকের বাচ্চা উড়ে এলো।
—সমাজ কুচিত্র, নিশাচর (ভুবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায়)
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
— — — — — — — — √— — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
error: Content is protected !!