কালীর দোহাই, কালির জন্য কালি নিয়ে কালি চলে এসো

ড. মোহাম্মদ আমীন

কালি কালি কালি ও কালী
 
কালীর দোহাই, কালি বের করার জন্য কালি নিয়ে কালি চলে এসো।
 
অভিধানে কালি শব্দের তিনটি পৃথকভুক্তি দেখা যায়। যথা:
সংস্কৃত কালী থেকে উদ্ভূত ও বাক্যে বিশেষ্যে হিসেবে ব্যবহৃত কালি অর্থ— লেখার জন্য ব্যবহৃত কালো তরল পদার্থ। মলিনতা। কলঙ্ক। বিশেষণে এই কালি শব্দের অর্থ—কৃষ্ণবর্ণ। প্রসঙ্গত, সংস্কৃত কালী (কাল+ঈ) অর্থ— শিবের পত্নী, দশ মহাবিদ্যার অন্যতম, চণ্ডিকার একটি রূপ।
 
সংস্কৃত কল্য থেকে উদ্ভূত কালি অর্থ— বিশেষ্যে (কাব্যে) আগামীদিন, পরদিন, আগেরদিন, পূর্বদিন, গতকাল।
 
সংস্কৃত কাল থেকে ‍উদ্ভূত এবং বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত কালি অর্থ— ক্ষেত্র বা ঘন পদার্থের আয়তন, বর্গফল, ঘনফল, সংকলন।
 
তিন কালিই খাঁটি বাংলা শব্দ।
 
প্রয়োগ: কালি বের করার জন্য এক দোয়াত কালি নিয়ে কালি চলে আসবে।
উপরের বাক্যের তিন কালির অর্থ নিচে দেওয়া হলো:
১. কালি: ক্ষেত্র বা ঘন পদার্থের আয়তন, বর্গফল, ঘনফল, সংকলন।
২. কালি: লেখার জন্য ব্যবহৃত কালো তরল পদার্থ।
৩. কালি:আগামীদিন।
বাংলা ভাষার মজা, ড. মোহাম্মদ আমীন
 
 
 
মমি শব্দের ব্যুৎপত্তি
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, ইংরেজি মমি (mummy) অর্থ (বিশেষ্যে) প্রাচীন মিশরে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত মরদেহ। তবে ইংরেজি মমি শব্দ ফারসি মোম থেকে আগত। ফারসি মোম অর্থ (বিশেষ্যে) ঠান্ডায় জমে যায় এমন আঠালো হাইড্রোকার্বনবিশেষ যা দিকে মৌচাক তৈরি হয়। মোমবাতি তৈরি ও প্রতিমাশিল্পের কাজে ব্যবহৃত হাইড্রোকার্বনবিশেষ। মোম-এর সঙ্গে মমির উৎপাদনগত সম্পর্ক নিবিড়। মৃতদেহ  বেশ কয়েকদন বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করার  গলন্ত মোমে ডুবিয়ে সংরক্ষণের সর্বশেষ ধাপ সম্পন্ন করার পর যা হয়, তাকে বলা হয় মমি।
 
অকালবোধন
অকালবোধন শব্দের আভিধানিক অর্থ– অসময়ে কাজ আরম্ভ করা।‌ সংস্কৃত ‘অকাল’ ও সংস্কৃত ‘বোধন’ শব্দের মিলনে অকালবোধন শব্দের উৎপত্তি। অকাল শব্দের অর্থ অসময়ে, নির্ধারিত সময়ের বাইরে এবং বোধন শব্দের অর্থ জাগানো। শব্দটির রূপতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: অ-কাল {√কল্ (গণনা করা) + অ (ঘঞ্), করণবাচ্য} + বোধন {√বুধ্ (জানা) + অন, ভাববাচ্য}। অকালে বোধন = অকালবোধন। এটি সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে অসময়ে আরাধ্য দেবতার নিদ্রাভঙ্গ বা আহ্বান করা বা অসময়ে জাগরণ। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিমতে– রাবণকে বধ করার উপযুক্ত শক্তি লাভের জন্য রামচন্দ্র অকালে তথা শরৎকালের আশ্বিন মাসে দেবী দুর্গার বোধন বা নিদ্রাভঙ্গ করেছিলেন। এই নিদ্রাভঙ্গ থেকে ‘অকালবোধন’ বাগ্‌ধারাটির উৎপত্তি। এ নিদ্রাভঙ্গের কারণে বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, দুর্গাপূজার আদি সময় হিসাবে বসন্তকাল নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু অকালবোধনের কারণে বাংলাদেশ-সহ অনেক স্থানে এটি শরৎকালে অনুষ্ঠিত হয়।
উৎস: বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস,  ড. মোহাম্মদ আমীন।
 
কয়েকটি সাধারণ শব্দের অসাধারণ অর্থ
কুকুর: সারমেয়
বিড়াল: মার্জার, মেকুর, বৈদূর্যলোচন (যাদের চোখ আঁধারে জ্বলজ্বল করে)
বাঘ: শার্দুল
খরগোশ: শশক
শূকর: বরাহ
বানর: শাখামৃগ, মর্কট
কাক: বায়স
হাতি: গজ, করী, ঐরাবত।
উট: ক্রমেল
পিঁপড়া: পিপীলিকা
ছাগল: অজ, গান্ধার
গাধা: ধৈবর্ত
ষাঁড়: ষণ্ড, ঋষভ
মাকড়সা: ঊর্ণনাভ
ইঁদুর: মূষিক
কুমির: মকর, মতান্তরে নক্র, কুম্ভীর
সাপ: কাকোদর
শকূন: গিদ্ধড়
কচ্ছপ: কুর্ম
খচ্চর: ঘোগা
রাজহাঁস: মরাল
মোরগ, মুরগি: কুক্কুট, কুক্কুটী
 
— — — — — — — — — — — — — — — — — — —
লিংক:  https://draminbd.com/কালীর-দোহাই-কালির-জন্য-কা/
error: Content is protected !!