কি বনাম কী, কীভাবে ও কিভাবে কোথায় কোনটি লিখবেন কেন লিখবেন

ড. মোহাম্মদ আমীন

কি বনাম কী, কীভাবে ও কিভাবে কোথায় কোনটি লিখবেন কেন লিখবেন

[ যারা নিজেদের বাংলা বিশারদ ভাবেন তাঁদের ইহা পড়ার প্রয়োজন নেই। এটি আমার মতো সাধারণ বাংলাভাষীর জন্য লেখা হয়েছে।]
১. ‘কি’ প্রশ্নবোধক অব্যয়। যেসব প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর মাধ্যমে কিংবা কেবল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সন্তোষজনকভাবে দেওয়া যায় সেসব প্রশ্নবোধক বাক্যে ‘কি’ লিখবেন। যেমন: আমি কি খাব? (Will I eat?), আমি কি আসতে পারি স্যার? টাকা আছে কি? তুমি কি জানো? (Do you know?)
“তুমি কি কেবলই ছবি?
শুধু পটে লিখা
ওই যে সুদূর নীহারিকা।”
 (রবীন্দ্রনাথ)
 
২. যেসব প্রশ্নের উত্তর ‘হাঁ বা ‘না‘ দিয়ে কিংবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সন্তোষজনকভাবে দেওয়া সম্ভব নয় সেসব প্রশ্নবোধক বাক্যে ‘কী’ লিখবেন। যেমন: আমি কী খাব? (What will I eat?), তুমি কী চাও? (What do you want?), কী করে এতদূর এলে? তোমার বাবা কী করেন? তুমি কী জানো? (What do you know?)
কী করিব বলো সখা, তোমার লাগিয়া
কী করিলে জুড়াইতে পারিব ও হিয়া। (রবীন্দ্রনাথ)।
 
৩. ‘কী’ বিস্ময়সূচক পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিস্ময় ছাড়াও অনিশ্চয়তা, অবজ্ঞা, সম্মান গৌরব, প্রশংসা প্রভৃতি প্রকাশেও ‘কী’ ব্যবহার করা হয়। যেমন – বিস্ময়: কী দারুণ দেখতে, চোখ দুটো টানাটানা–। অনিশ্চয়তা: “ কী গাব আমি কী শুনাব আজি আনন্দধামে” (রবীন্দ্রনাথ)। অবজ্ঞা : সে আবার কী ধনী! প্রশংসা: কী ভালো লোক তিনি জানো!
কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো—
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।” (রবীন্দ্রনাথ)
 
৪. কোনভাবে, কেন, কী কারণে, কার মধ্যে, কেমন করে, কত প্রকারের, কেমন, কী উপায়ে প্রভৃতি বুঝালে প্রশ্নজ্ঞাপক মূল বাক্যটির আগে ‘কী’ লিখতে হয়। যেমন : কীভাবে যাবে? কীজন্য এসেছ? কীরকম লোক তুমি? কীসে তোমার আগ্রহ? এত তাড়া কীসের? কীরূপ দেখতে সে? কী উপায়ে তোমাকে সাহায্য করতে পারি?
 
কীভাবে ও কিভাবে: ‘কিভাবে’ বানানটি ভুল। কারণ এই শব্দযুক্ত প্রশ্নসূচক বাক্যের উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ শব্দে কিংবা অঙ্গভঙ্গিতে দেওয়া যায় না। তাই লিখবেন ‘কীভাবে’। ‘কিভাবে’ লিখবেন না। তেমনি লিখবেন, কীজন্য, কীদৃশ্য, কীসে, কীসের, কীরূপ প্রভৃতি।
(শুবাচে বেশ কয়ক বার লেখাটি দেওয়া হয়েছে। তবু অনেক প্রশ্ন আসায় পুনরায় দেওয়া হলো।)
সূত্র: ব্যাবহারিক বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.।
 

কেন আর কেনো

তোমাকে বারবার বলেছি আমার জন্য শাড়িটা কেনো, হাজার বার বলেছি আমার জন্য হারটা কেনো, লাখ বার বলেছি আমার জন্য শালটা কেনো। তুমি কিছুই কেনোনি। কেন কেনো-নি?
কোন সময় বলেছিলে? বউয়ের কথা শুনে স্বামী জানতে চাইলে।
কেন, প্রতিদিন বলি। চলো আজ কিনব।
তোমার তো বউ সব আছে, কোনো কিছুর অভাব নেই। তবু কেন বারবার কেনো কেনো করো?
স্ত্রী বলল, কেন কেনো কেনো করব না? আমার যেমন কোনো কিছুর অভাব নেই, তেমনি তোমারও তো টাকা পয়সার অভাব নেই।
চলো, কেনো কেনো শুনতে শুনতে সংসারটাই আমার বাজার হয়ে গেছে।
 
error: Content is protected !!