কুম্ভিলক, চোর, ডাকাত, গবেষক, মহাচোর: লেখকমাত্রই কুম্ভিলক; কুম্ভিলকের শাস্তি

ড. মোহাম্মদ আমীন

কুম্ভিলক, চোর, ডাকাত, গবেষক, মহাচোর: লেখকমাত্রই কুম্ভিলক; কুম্ভিলকের শাস্তি

 
চোর: সংস্কৃত চোর (√চুর্+অ) অর্থ (বিশেষ্যে) যে ব্যক্তি না বলে অন্যের দ্রব্যহরণ করে, তস্কর।
 
ডাকাত: হিন্দি ডকৈত থেকে উদ্ভূত ডাকাত অর্থ (বিশেষ্যে) দলবদ্ধ হয়ে বলপূর্বক অন্যের দ্রব্য হরণ করা যার পেশা, দস্যু, ডাকু; (বিশেষণে) লুণ্ঠক; (আলংকারিক) অসমসাহসী।
 
কুম্ভিলক: প্রাকৃত কুম্ভিলক অর্থ বিশেষ্যে যে ব্যক্তি অন্যের রচনার ভাব বা ভাষা নিজের নামে চালায়, plagiarist। কুম্ভিলকের আর একটি অর্থ আছে ‘শ্যালক’। প্রায় সব শ্যালকই কুম্ভিলকের মতো দুলাভাইয়ের ভাব-ভাবনা চুরি করে। সুযোগ পেলে পকেটও।
গবেষক: সংস্কৃত গবেষক (√গবেষ্‌+অক) অর্থ (বিশেষ্যে) অজানা বিষয়ের তত্ত্বান্বেষক। তারা চোরের মতো শুধু নানা জায়গা থেকে তথ্য চুরি করে। যে কুম্ভিলক একাধিক গবেষকের লেখা থেকে তথ্য নিয়ে নতুন তত্ত্ব সৃষ্টি করার দাবি করে, স্বীকৃতি পায় তাকে গবেষক বলে। যত বেশি লেখকের লেখা থেকে তথ্য চুরি করে নিজের গবেষণায় ঢুকানো যায় সে তত বড়ো গবেষক। যেটি আমি করি।
 
মহা চোরের গল্প শুনুন এবার
খুব স্নেহের একজন জানতে চাইলেন, আপনি কি লেখা চোর, মানে কুম্ভিলকের মতো অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামের চালিয়ে দেন?
আমি কারও লেখা চুরি করি না, স্রেফ ডাকাতি করি। তাও আবার একজনের লেখা থেকে নয়, শতশত জনের লেখা থেকে। যার লেখা পাই, পছন্দ হলেই মেরে দিই। মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি যারই হোক না।
কেউ অভিযোগ করেনি?
সবার লেখা নিয়ে মিশ্রিত করে এমন এক কিম্ভূতকিমার জিনিস বানিয়ে ফেলি, কারো সাধ্য থাকে না নিজের জিনিস চিহ্নিত করার। ছাগলকে বানিয়ে ফেলি ভেড়া, ভেড়াকে গর্দভ, গর্দভকে খ্যাঁকশিয়াল আর খ্যাঁকশিয়ালকে দেশি মোরগ। মূল লেখকের দাদা খবর পেয়ে কবর থেকে উঠে এলেও ধরতে পারবে না। সুযোগ পেলে কোরোনাভাইরাসকে ইলিশ মাছের ডিম বানিয়ে ফেলব।
তাহলে তো আপনি ডাকাত, মানে মহাচোর।
না, আমি ডাকাত নই, আমি একজন গবেষক।
কীভাবে?
একজনের লেখা থেকে চুরি করলে হয় লেখা চোর বা কুম্ভিলক। একাধিক জনের লেখা ডাকাতি করলে হয় গবেষক। পৃথিবীর সব গবেষকই একাধিক লেখকের লেখা ডাকাতি করে গবেষক হয়েছেন। ডাকাতি না করে কেউ ডক্টরেট ডিগ্রি নিতে পারে না। ডক্টরেট ডিগ্রি কি এমনি এমনি পেয়েছি? কত জনের লেখা যে চুরি করতে হয়েছে! তাই পৃথবীর সব গবেষকই এক একটা মহা কুম্ভিলক; মানে মহাচোর। এই যে, এ লেখাটা– এটিও এমন অনেক জনের লেখা থেকে চুরি করা, যারা অন্যের লেখা চুরি করে লিখেছে। তবে—
তবে কী?
আমি ভুলেও একজনের লেখা চুরি করি না।

কুম্ভিলকের শাস্তি

হঠাৎ দুর্ঘটনাটা ঘটে গেল।
বাংলা মটরের মতো ব্যস্ত রাস্তায় দুর্ঘটনা সোজা কথা নয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে শত শত লোক ঘিরে ধরল অকুস্থল। সবার চোখেমুখে ঔৎসুক্য। একনজর দেখতে চায় দুর্ঘটনায় কে পড়েছে।
এসময় এক কুম্ভিলক পত্রিকার কুম্ভিলক সম্পাদক সেপথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার কাজ অন্যের লেখা চুরি করে নিজের পত্রিকায় সংগৃহীত নামে ছাপিয়ে দেওয়া।জনতার ভিড় পত্রিকার খবরের উৎস। সম্পাদক সাহেব ক্যামেরার মুখ খুলে ভিড়ের দিকে এগিয়ে গেলেন।
খবরটি যেভাবে হোক দিতে হবে। প্রথম প্রহরে সংঘটিত এরকম একটি ঘটনা সংবাদপত্রে দিতে পারলে পত্রিকার কাটতি বেড়ে যাবে। সারা জীবন অন্য পত্রিকার খবর চুরি করে ছাপিয়েছেন, অন্তত আজ একটা স্বগৃহীত খবর ছাপানো যাবে।
কুম্ভিলক সম্পাদক ওরফে সাংবাদিক ছবি তোলার জন্য জনতার ভিড় ঠেলে এগিয়ে যেতে চাইলেন। কিন্তু এত লোকের ভিড় ঠেলে কবলিতের ছবি তুলতে পারছিলেন না।
হঠাৎ তার মাথায় একটা কুম্ভিলকি বুদ্ধি এসে গেল। তিনি তার ফুসফুসের সব শক্তি একত্রিত করে কান্নার অভিনয় এনে চিৎকার দিলেন, ভাইসব আমাকে ভিতরে যাবার রাস্তা করে দিন। আমি ভিকটিমের সন্তান। যিনি মারা গেছেন তিনি আবার বাবা।
বুদ্ধিটি যাদুর মত কাজ করল।
লোকজন পথ ছেড়ে দিল।
সম্পাদক সাহেব হাতে ক্যামেরা নিয়ে ভিকটিমের একদম কাছে চলে গেলেন। ক্যামেরা ক্লিক করতে গিয়ে দেখলেন- মানুষ নয়, একটি কুকুর গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মরে আছে।
 

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com

All Link : শুবাচে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ লেখা

All Link

All Links/1

All Links/2 শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর

All Links/3

১. স্যমন্তক: এক মলাটে স্যমন্তক সম্পূর্ণ উপন্যাস একসঙ্গে

২. অর্হণা: অর্হণা : এক মলাটে সম্পূর্ণ উপন্যাস অর্হণা

৩. সন্মিত্রা: সন্মিত্রা সম্পূর্ণ উপন্যাস : প্রথম থেকে শেষ পর্ব

৪. তিনে দুয়ে দশ: তিনে দুয়ে দশ সম্পূর্ণ উপন্যাস একসঙ্গে

৫. তিনে দুয়ে দশ: এক মলাটে নিউটনের ছাত্রী সমগ্র পর্ব

error: Content is protected !!