কৃপাপরায়ণ থেকে কৃপণ; কণা চোষা থেকে কঞ্জুস

ড. মোহাম্মদ আমীন

কৃপাপরায়ণ থেকে কৃপণ; কণা চোষা থেকে কঞ্জুস

কৃপাপরায়ণ থেকে কৃপণ: অভিধানমতে, কৃপণ (কৃপ+অন) অর্থ (বিশেষণে) অত্যন্ত ব্যয়কুণ্ঠ, অনুদার। কৃপণ শব্দের মূল অর্থ কৃপাপরায়ণ। শব্দটি কৃপ ধাতু থেকে নিষ্পন্ন।যিনি কৃপাপরায়ণ এবং সবার প্রতি দয়ার্দ্র তাকে বলা হতো কৃপণ। পরবর্তীকালে কৃপণ শব্দটির মূল অর্থ কৃপাপরায়ণ পাল্টে গিয়ে হয়েছে ব্যয়কুণ্ঠ। অর্থটি সংস্কৃতেও আছে।

কেন এমন হলো?

কৃপাপরায়ণ ব্যক্তি সবার প্রতি কৃপা দেখাত। ফলে কৃপাপরায়ণ ব্যক্তি তার সমুদয় দান একজনকে না দিয় সবাইকে দেওয়ার চেষ্টা করত। সে কাউকে বঞ্চিত করতে পারত না। সবাইকে কিছু না কিছু দিত। ফলে সবার ভাগে কম পড়ে যেতে। প্রাপকগণ বলত, “ আমাদের কম দেওয়া হয়েছে’, লোকটি কম দেয়, ব্যয়ে কুণ্ঠ, দানে কুণ্ঠ। এভাবে পূর্বের কৃপাপরায়ণ ব্যক্তি ব্যয়কুণ্ঠ পরিচিতি পেয়ে যায়।

কঞ্জুস মানে কণা পর্যন্ত চোষে যে: সংস্কৃত কণ্ ও হিন্দি চুস শব্দের সমন্বয়ে কঞ্জুস (কণ্+চুস) শব্দের উদ্ভব। কণ্ অর্থ কণা এবং চোস অর্থ চোষণ করা। সুতরাং কঞ্জুস(= কণ্+চুস) অর্থ কণা পর্যন্ত চোষা। অর্থাৎ এমনভাবে খাওয়া বা গ্রহণ করা যাতে, একটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাও অবশিষ্ট না থাকে; একটি কণা পর্যন্ত ব্যয় করে না। কিপটেদের এমন আচরণ থেকে কঞ্জুস শব্দটির কণা-চোষা অর্থটি কৃপণ বা কিপটে হয়ে গেল। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, হিন্দি কঞ্জুস অর্থ (বিশেষণে) কৃপণ, কিপটে।

 

চিরদিন ও চিরদীন

চিরদিন: দিন অর্থ দিবস, সময়, কাল, ধর্ম। সংস্কৃত চিরদিন (চির+দিন) অর্থ— (ক্রিয়াবিশেষণে) দীর্ঘদিন, চিরকাল।
চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়।
চিরদীন: দীন দরিদ্র, করুণ, নিঃস্ব, হতভাগা, নীচ। সংস্কৃত চিরদীন (চির+√দী+ত) অর্থ— (বিশেষণে) চিরকাল দরিদ্র; (বিশেষ্যে) চীরদীনতা। চিরদীন বেশ, প্রভু কখন হবে শেষ।
নির্বাদ ও নির্বাধ:  সংস্কৃত নির্বাদ(র্নি+বাদ) অর্থ (বিশেষ্যে) দুর্নাম, নিন্দা। এখানে বাদ অর্থ প্রশংসাসূচক উক্তি, প্রশংসা, সুনাম প্রভৃতি। সুতরাং নির্বাদ মানে নাই বাদ, যেখানে প্রশংসা নেই, দুর্নাম আছে। সংস্কৃত নির্বাধ (নির্‌+ বাধ) অর্থ বাধাহীন। এখানে বাধ অর্থ প্রতিবন্ধকতা। সুতরাং নির্বাধ অর্থ যেখানে কোনো বাধা নেই, বিঘ্ন নেই।
দোষ কিন্তু দোসরা: দোষ, দোষী প্রভৃতি বানানে মূর্ধন্য-ষ, কিন্তু দোসর, দোসরা, দোসালা প্রভৃতি বানানে দন্ত্য-স; কিন্তু কেন?
কারণ দোষ সংস্কৃত শব্দ। অ আ ভিন্ন স্বর, ক্ এবং র্ -এর পরবর্তী বিভক্তি বা প্রত্যয়ের স, মূর্ধন্য-ষ হয়। তাই দোষ বানানে ষ।কিন্তু দোসর, দোসরা ও দোসালা বিদেশি শব্দ। বিদেশি শব্দে ষত্ববিধি খাটে না। প্রসঙ্গত, দোসর ও দোসরা হিন্দি, কিন্তু দোসালা ফারসি শব্দ।

সূত্র: ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.।

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
error: Content is protected !!