কোজাগরী

কোজাগরী

শরৎকালের পূর্ণিমার রাত বৎসরের সবচেয়ে উজ্জ্বল রাত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী এই রাতে ধনসম্পদ, প্রাচুর্য, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মী, বিষ্ণুলোক হতে ধরায় নেমে আসেন এবং মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে “কে জেগে আছ?” এই প্রশ্ন করেন (নিশীথে বরদা লক্ষ্মী কোজাগর্তিভাষিণী- অর্থ নিশীথে বরদাত্রী লক্ষ্মীদেবী কে জেগে আছ বলে সম্ভাষণ করেন)।

যে বা যারা এই রাতে লক্ষ্মীব্রত করে জেগে থাকেন দেবী তার কাছ থেকে সাড়া পান এবং তার গৃহে প্রবেশ করে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করেন। কোজাগর বা কোজাগরী শব্দের আক্ষরিক অর্থ “কে জেগে আছ?” তবে আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথি এবং ওই তিথিতে অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীপূজাকে যথাক্রমে কোজাগরী পূর্ণিমা এবং কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা বলে অভিহিত করা হয়।

কোজাগরী একটি সন্ধিবদ্ধ সংস্কৃত শব্দ। কঃ (কে) + জাগর ( জেগে আছ?)। ঈ-কারটি অনাবশ্যক হলেও এর একটি ব্যঞ্জনা আছে। এটা আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথি। অন্যান্য নাম দ্যূতপূর্ণিমা, লক্ষ্মীপূর্ণিমা আর আশ্বিনী পূণিমা। এই সময়টা বাংলায় সবচেয়ে অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করে। মনোরম আর সহনীয় ঋতু। হিন্দুদের দাশরথি রায়ের পাঁচালীতে আছেঃ ‘ঘূমে লক্ষ্মী হন বিরূপা, জাগরণে লক্ষ্মীর কৃপা, নৈলে কেন জাগে কোজাগরে?’ লক্ষ্মী বলেন, এই পূর্ণিমায় যে জাগে, তাহাকে ধন দিব। এই তিথিতে অক্ষক্রীড়া নারিকেলজল -পান ও চিপিটক (চিড়া) ভক্ষণ বিহিত।

কোজাগরী নিয়ে একটি সুন্দর প্রাবদও আছে। লক্ষ্মী দেবী মর্ত্যে এলেন। প্যাঁচা আনন্দচিত্তে দেবীর সঙ্গে সারারাত কোলাহল করে বেড়ালো। প্যাঁচা ভোরের আলো দেখে গাছের কোটরে ঢুকে পড়ে এবং কাঠঠোকরা আলো দেখে গাছের কোটর হতে বের হয়ে এল। প্যাঁচা ইন, কাঠঠোকরা আউট। দেবী কাঠটোকরাকে দেখে ভাবলেন ইনিই তিনি, যিনি সারা রাত আমার সঙ্গে ঘুরেছেন। খুশি মনে মুকুট দিলেন কাঠঠোকরার মাথায়। জন্ম হলো চাকমা প্রবাদের-“প্যাঁচায় কুড়কুড়ায়,খোড়ইল্যা সোনার তুক পায়।”

প্রয়োজনীয় কয়েকটি লিংক

সত্তা সত্ত্ব ও স্বত্বা বানান মনে রাখার কৌশল

শুদ্ধ বানান চর্চা/১

শুদ্ধ বানান চর্চা/২

শুদ্ধ বানান চর্চা/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা/৪

error: Content is protected !!