কোথায় ই-কার এবং কোথায় ঈ-কার হবে

কোথায় ই-কার আর কোথায় ঈ-কার হবে
***********************************
১। সংস্কৃত বা তৎসম ছাড়া বাকি সব শব্দে ই-কার হবে। যেমন: গাড়ি, সুখি, দাদি, গাভি, সরকারি, ফেব্রুয়ারি, ইমামতি, শহিদ, দিঘি, পাখি, চিমনি, ইদ, শহিদ।
নিমোনিক: তৎসম কীভাবে চিনবেন? নিচে দেখুন লিংক আছে। এতসব পড়ার সময় না থাকলে কী করবেন? বানান যদি জটিল বা প্যাঁচালো মনে হয়, ধরে নেবেন শব্দটি তৎসম। যদি সংশয়ে পড়ে যান, ই-কার হবে না কি ঈ-কার হবে, অভিধান দেখারও সুযোগ না-থাকে, তখন কী করবেন? স্ত্রীবাচক না হলে ই-কার দেবেন। শুদ্ধের ভাগে ৭৬ পাবেন, আশা করা যায়।
 
২। ভাষা ও জাতির মূল বানান প্রায় সবগুলো অতৎসম। তাই সব ভাষা ও জাতির বানানে ই-কার হবে। যেমন : আরবি, ফরাসি, ফারসি, ইংরেজি, জাপানি, জর্মনি, বাঙালি। তবে, ঈয় প্রত্যয় যুক্ত হলে ভাষা ও জাতির বানানেও ঈ-কার হয়। যেমন: আরব>আরবিয়, ভারত>ভারতীয়, ফরাসি>ফরাসীয়, ফারসি>ফারসীয়, ইংরেজি>ইংরেজীয়, জাপানি>জাপানীয়, জর্মনি>জর্মনীয়, বাঙালি>বাঙালীয়।
 
প্রশ্ন করতে পারেন: শ্রীলংকা, কাশ্মীর, মালদ্বীপ বানানে ঈ-কার কেন। কারণ এগুলো তৎসম। বহুল প্রচলনের কারণে চীন বানানে ঈ-কার রেখে দেওয়া হয়েছে। ঈদ বানানে কেন ঈ-কার রাখা হয়নি? কারণ ঈ সংস্কৃত শব্দ। এটি সংস্কৃত শব্দের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই ধর্মীয় শব্দ বিবেচনায় ঈদ-সহ আরবি-ফারসি প্রভৃতি শব্দের বানান সংস্কৃত প্রভাবমুক্ত করে বাঙালি স্বকীয়তায় আনার জন্য।
 
 
৩। কোনো শব্দের অন্ত্যে ঈ-কার থাকলে এবং ওই শব্দের শেষে -গণ যুক্ত করলে, ঈকার, ই-কার হয়ে যাবে। যেমন :মন্ত্রী>মন্ত্রীগণ, কর্মচারী > কর্মচারিগণ, কর্মী > কর্মিগণ, প্রার্থী > প্রার্থিগণ, সহকারী > সহকারিগণ ইত্যাদি।
 
৪. শেষে ঈ-কার আছে এমন কোনো শব্দকে ঈ-প্রত্যয় (-নী, -ণী ) যুক্ত করে স্ত্রীবাচক করতে গেলে ঈ-প্রত্যয়ের আগের ঈ-কার, ই-কার হয়ে যাবে। অধিকারী> অধিকারিণী, অধিবাসী> অধিবাসিনী, অধিরোহী> অধিরোহিণী, প্রতিযোগী> প্রতিযোগিনী, অনুরাগী> অনুরাগিনী, অনুসারী > অনুসারিণী, দুঃখী > দুঃখিনী,
 
৩। কোনো শব্দের শেষে ঈ-কার থাকলে (সংস্কৃত ইন-প্রত্যয়ান্ত শব্দ) এবং এর শেষে -ত্ব, -তা প্রত্যয় যুক্ত করলে প্রত্যয়ের আগের ঈ-কার, ই-কার হয়ে যাবে। যেমন : স্থায়ী>স্থায়িত্ব, দায়ী>দায়িত্ব, মন্ত্রী>মন্ত্রিত্ব, নারী>নারীত্ব; প্রার্থী>প্রার্থিতা, নীতি>নেতৃত্ব, উপকারী>উপকারিতা সহযোগী>সহযোগিতা, পরাধীন>পরাধীনতা, আত্মীয়>আত্মীয়তা ইত্যাদি।
 
৪। কোনো বিশেষ্য বা বিশেষণের শেষে ঈ-কার থাকলে (সংস্কৃত ইন-প্রত্যয়ান্ত শব্দের ঈ-কারান্ত রূপ) সমাসবদ্ধ হলে ঈ-কার, ই-কার হয়ে যাবে। যেমন :প্রাণী > প্রাণিতত্ত্ব, প্রাণিবিদ্যা, প্রাণিবিজ্ঞান; মন্ত্রী > মন্ত্রিপরিষদ, মন্ত্রিসভা
 
 
৬। ব্যক্তির ক্ষেত্রে শব্দের শেষে সর্বদা -কারী, -চারী বা -আরী হবে। যেমন: কর্মচারী, সহকারী, প্রস্তুতকারী, সহচারী, আকাশচারী, খগচারী।অধিকারী, উপকারী, কর্মচারী, নভোচারী, সহকারী
 
৭. ব্যক্তি না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝালে -কারী, -চারী বা -আরী যথাক্রমে -কারি, -চারি, ও -আরি হয়ে যাবে।যেমন: রকমারি, তরকারি, দরকারি, পাইকারি, পায়চারি, সরকারি ইত্যাদি।
 
৭। অঞ্জলি যার সঙ্গে বসুক না, সর্বদা ই-কার হবে। অর্থাৎ পদের শেষে -অলি প্রত্যয় বা অঞ্জলি সর্বদা ই-কার বহন করে। যেমন : করঞ্জলি, অঞ্জলি, গীতাঞ্জলি, জলাঞ্জলি, পুষ্পাঞ্জলি, শ্রদ্ধাঞ্জলি।
 
৮। পদের শেষে -আলি প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে।অর্থাৎ আলি সর্বদা ই-কার নিয়ে চলে। যেমন: খেয়ালি, চৈতালি, পুবালি, মিতালি, রুপালি, স্বর্ণালি ইত্যাদি।
 
৯। পদের শেষে -আবলি প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে। যেমন : কার্যাবলি, গ্রন্থাবলি, তথ্যাবলি, নিয়মাবলি, পত্রাবলি ইত্যাদি।
 
১১। ঈ, ঈয়, অনীয় প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার, ঈ-কার হয়ে যাবে। জাতির নামের ক্ষেত্রে ঈ-কার হবে।
যেমন: আরব> আরবীয়, দেশি> দেশীয়, এশিয়া>এশীয়, জাতি>জাতীয়, পানি> পানীয় ইত্যাদি।
১২। জীব অর্থে সব বানানে ঈ-কার হবে।
যেমন : জীব, জীবন্ত, জীবিকা, জীবিত, সজীব ইত্যাদি।
১৩। পদের শেষে -জীবী ঈ-কার হবে।
যেমন : আইনজীবী, কৃষিজীবী, চাকরিজীবী, পেশাজীবী, মৎস্যজীবী ইত্যাদি।
 
 
যেমন : খুশি, চাকরি, জানুয়ারি, দিঘি, পাখি, বাড়ি, শ্রেণি ইত্যাদ
error: Content is protected !!