কোভিড কান্না: ড. মোহাম্মদ আমীনের সমকালীন ছড়া

ড. মোহাম্মদ আমীন

 

ড. মোহাম্মদ আমীন
কোভিড কান্না
ভুলে গেছি পথটি গাঁয়ের, মায়ের বাবার মুখ,
দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে, জুড়িয়ে দিত বুক।
একদিকেতে জড়িয়ে ভাই, আরেক দিকে বোন,
কানের মাঝে মুখ রেখে মা বলত, “খোকা শোন;
গরম মুড়ি রাখছি ভেজে, ধলি গাইয়ের দই,
খেজুর রসের মোয়ামুড়ি কুলো-সমান কই।”
ধরত ঘিরে পাড়াপড়শি, ন্যাংটো কালের বঁধু,
বুড়ি নানির কোঁচড়ে কুল, বোতল ভরা মধু।
পরির মতো ত-বোনেরা বলত দিয়ে সেলাম,
“দাদা তোমায় ছাড়ছি না আর কতদিনে পেলাম!”
বিজলি-গতির ভাগ্নি অথই গায়ে সবুজ জামা,
বলত, “সরো তোমরা সবাই; কেবল আমার মামা!”
করোনাকাল এলো নেমে রুদ্ধ হলাম ঘরে,
গাঁয়ে যাওয়ার নেই সুযোগ আর আগের মতো করে;
শহর দেশে ইটপাথরে স্নেহ-নীরস হাওয়া
বউ কহিল,  নিষেধ দিলাম গ্রামদেশে যাওয়া;
মরে গেছে হাশিম কাসিম, সৈয়দপাড়ার আনিস
মহামারি ভয়াল রূপে ছড়িয়ে কোভিড উনিশ। ”
বটের ছায়া, কাজির দিঘি বরুমতি খাল;
মাকে আমার দেখি না যে,  বছর কত কাল।
মারা গেছে, সামাদ রাজিব শুনছি ফোনে এমন—
সৎকারটি হয়নি কারও কুকুর-বিড়াল যেমন।
শ্বাস কষ্ট উঠলে কারও কিংবা হলে জ্বর
পাশের বনে রেখে বলে, “তাড়াতাড়ি মর।”
যায় না কোনো দেখতে স্বজন, দিতে মুখে জল
এটাই কঠিন করোনাকাল, একটুও নয় ছল।
হঠাৎ মায়ের ফোন এলো কাল, সন্ধ্যাবেলা শেষে
বললো মায়ে কষ্ট-ভরা আবেগ দিয়ে হেসে,
“মরলে আমি, তোর বাবা-ভাই কিংবা কোনো স্বজন
দেখতে কিন্তু আসবি না গাঁয় —কথা দে  বাপধন।
কোথাও কভু যাসনেরে বাপ, থাকবি  ঘরে একা
এইখানে নয়, হাশর মাঠে হবে আবার দেখা।
সারা পাড়া দিছি বলে, হাতে পায়ে ধরি—
খোকারে কেউ দিস নে খবর, যদি আমি মরি।”
বুক ভেঙে চোখ ভরল জলে, শুনে মায়ের কথা
কোভিড- উনিশ মা চেনে না, বুঝত নইলে ব্যথা।
স্বপ্ন পোড়ে কোভিডানলে, কাঁদে আমার মন,
আর কি কভু পাব  মায়ের জড়িয়ে ধরা ক্ষণ?
আর কি কভু আসবে ফিরে উলাস-বিলাস সুর?
আসতে পারে যদি কোভিড হয় কখনো দূর।
তারিখ: ৮/৭/২০২১ খ্রিষ্টাব্দ
সংযোগ: https://draminbd.com/কোভিড-কান্না-ড-মোহাম্মদ-আ/
—————————————-
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
 
.
error: Content is protected !!