ক্বিপ্‌: ক্বিপ্ প্রত্যয়: সংস্কৃত শূন্য প্রত্যয়; ক্বিপ্ কী: √ভূ+ক্বিপ্‌= ভূ

ড. মোহাম্মদ আমীন
 
 
সংযোগ: https://draminbd.com/ক্বিপ্‌-ক্বিপ্-প্রত্যয়-স/
 
 
ক্বিপ্ একটি সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয়। সংস্কৃতে শূন্য প্রত্যয়কে ক্বিপ্‌ বলে। এজন্য এটাকে ক্বিপ্(০) রূপেও লেখা হয়। ধাতু বা ক্রিয়ামূলের ওপর সাধারণত ক্বিপ্‌ প্রত্যয়ের প্রভাব শূন্য। তাই ক্বিপ্ প্রত্যয়কে শূন্য প্রত্যয় বলা হয়। বিভিন্ন গ্রন্থে এর ভিন্ন লিখিত রূপ দেখা যায়। যেমন:
  • ক্বিপ্ (ক্বিন্): এই লিখিত রূপটি দেখা যায় ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ, সমগ্র ব্যাকরণ কৌমুদী প্রভৃতি গ্রন্থে।
  • ক্বিপ্: এই লিখিত রূপটি দেখা যায় বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাঙ্গালা ভাষার অভিধান, সংসদ বাংলা অভিধান, সরল বাঙ্গালা অভিধান প্রভৃতি গ্রন্থে। এটি বহুল ব্যবহৃত রূপ।
  • ক্বিপ্ (০): এই লিখিত রূপ দেখা যায় বঙ্গীয় শব্দকোষ গ্রন্থে। সংস্কৃত ক্বিপ-প্রত্যয়ের পুরো অংশ ইৎ হয়। ফলে এর অবশিষ্ট মান সাধারণত শূন্য থাকে। অর্থৎ এর উপস্থিতি মূল ধাতু বা ক্রিয়ামূলে কোনো পরিবর্তন সাধন করে না। এ বিবেচনায় লিখিত রূপসমূহের মধ্যে বঙ্গীয় শব্দকোষ গ্রন্থের ক্বিপ্(০) রূপটি সর্বাধিক যৌক্তিক।
ক্বিপ্/ ক্বিপ্(০) প্রত্যয়যোগে সৃষ্ট ও বাংলায় ব্যবহৃত কয়েকটি শব্দ দেখুন:
আ+ √পদ্‌+ক্বিপ্‌ = আপদ।
√ক্ষুধ্ + ক্বিপ্ = ক্ষুধ (খাওয়ার ইচ্ছা)।
√ত্বিষ্ +ক্বিপ্ = ত্বিষ (দীপ্ত হওয়া)।
বি+দ্যুৎ+ক্বিপ্ = বিদ্যুৎ।
√ভূ+ক্বিপ্= ভূ (মাটি, জমি, ভূমি)।
স্বয়ম্‌+ √ভূ +ক্বিপ্‌ = স্বয়ম্ভূ,
উদ্‌+√ভিদ্‌+ক্বিপ্ = উদ্ভিদ
√সম + রাজ + ক্বিপ্= সম্রাট
তবে কখনো কখনো ক্বিপ প্রত্যয় ক্রিয়ামূলের কিঞ্চিৎপরিবর্তন ঘটায়। যেমন:
√যুধ্ (যুদ্ধ করা) + ক্বিপ্ =যুৎ
√ভজ্ (ভাগ করা) +ক্বিপ্ =ভাক্
√ভিদ্ (ভেদ করা)+ ক্বিপ্ =ভিৎ
 
 

বাংলা শব্দের উচ্চারণ

অতঃপর: উচ্চারণ— অতোপ্‌পর্‌
আর্দ্র: উচ্চারণ—আর্‌দ্রো।
চ্যুত: উচ্চারণ— চুতো
বহ্বাড়ম্বর: উচ্চারণ— বহ্‌ভাড়ম্‌বর্‌।
বিস্ময়: উচ্চারণ— বিশ্‌শঁয়্।
———————————————

য-বিধি ও জ-বিধি

বিদেশ উৎসের বাংলা শব্দে সাধারণত অন্তস্থ-য-এর স্থলে বর্গীয়-জ হয়। যেমন:
রোজা, নামাজ, জাকাত, জনাব, শাহজাদা, জ্যাকেট, হজরত, কাজা, জাহান্নম, মাজার, জায়গা, জান্নাত, জামিন, জানালা, জানমাল, তাজ, মসজিদ, আজান, আজাদ, আজরাইল, হুজুর, হজ – – -।

ঘুণাক্ষর শব্দের উৎপত্তি

ঘুণাক্ষর অর্থ— সামান্যতম ইঙ্গিত বা আভাসমাত্র।শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ— ‘ঘুণপোকা দ্বারা তৈরি করা অক্ষর’। ঘুণপোকা কাঠ কাটে, অবিচল কেটে চলে কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়া। দৈবাৎ কোনো কোনো কাটা অংশ কাকতালীয়ভাবে অক্ষরাকৃতি ধারণ করে। ঘুণপোকা দ্বারা সৃষ্ট অক্ষরাকৃতির এ কাটাকুটিই হচ্ছে ঘুণাক্ষর।
মানুষের ভাষার মতো সুনির্দিষ্ট অক্ষর তৈরির ইচ্ছে, জ্ঞান বা সচেতনতা কোনটাই ঘুণপোকার নেই। তবু নিজের অজান্তে কাটা-কাঠের কোনো কোনো অংশ অক্ষরের মতো লাগে বা মানুষের তৈরি অক্ষরের মতো হয়ে যায়। বস্তুত ঘুণপোকার অক্ষর সৃষ্টির এ অসচেতন প্রয়াস থেকে ‘ঘুণাক্ষর’ শব্দটির উৎপত্তি। যা হবে বলে কখনও চিন্তা করা হয়নি, তা যদি হয়ে যায় বা দৈবাৎ ঘটে যায়, তখনই ঘুণাক্ষরে জানা-অজানা বিষয়টি উঠে আসে।
উৎস: বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস, ড. মোহাম্মদ আমীন।
 
error: Content is protected !!