খাঁটি বাংলা শব্দ: খাঁটি বাংলা শব্দ কী? খাঁটি বাংলা শব্দ কোনগুলো: সংজ্ঞার্থ

ড. মোহাম্মদ আমীন

খাঁটি বাংলা শব্দ: খাঁটি বাংলা শব্দ কী? খাঁটি বাংলা শব্দ কোনগুলো: সংজ্ঞার্থ

বৈয়াকরণদের ধারণা কালে কালে ধ্বনিগত পরিবর্তনের ফলে সংস্কৃত ভাষার অনেক শব্দ প্রাকৃতের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন আধুনিক ভারতীয় আর্যভাষায় প্রবেশ করে। বাংলা ভাষায়ও এ ধরনের অনেক শব্দ প্রবেশ করেছে। এগুলোই খাঁটি বাংলা শব্দ। যার অন্য নাম তদ্ভব শব্দ। যেমন: চাঁদ<চান্দ চন্দ<চন্দ্র, দই<দহি<দধি, বৌ<বউ<বহু<বধূ, মাছি<মাচ্ছি মচ্ছি<মচ্ছিঅ<মচ্ছিআ<মক্ষিকা ইত্যাদি।
 
অর্থাৎ যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে সেসব শব্দকে তদ্ভব শব্দ বলে। অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায় কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ, ‘তৎ’ (তার) থেকে ‘ভব’ (উৎপন্ন)। যেমন : সংস্কৃত-হস্ত, প্রাকৃত-হথ, তদ্ভব-হাত। সংস্কৃত-চর্মকার, প্রাকৃত-চম্মআর, তদ্ভব-চামার ইত্যাদি। এই সব তদ্ভবশব্দকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়।
 
বাংলা ভাষার প্রধান উপাদান হলো খাঁটি বাংলা বা তদ্ভব শব্দ। প্রাত্যহিক জীবনে বাংলাভাষীরা যেসব শব্দ ব্যবহার করে থাকেন তার অধিকাংশই খাঁটি বাংলা বা তদ্ভব শব্দ। সাহিত্য রচনায় ব্যবহৃত শব্দের মধ্যে ৬০ ভাগ খাঁটি বাংলা।
 
দেশি শব্দের সঙ্গে খাঁটি বাংলা শব্দকে গুলিয়ে ফেললে হবে না। দুটি দুই উৎসের শব্দ। বাংলা ভাষার ব্যবহৃত যেসব শব্দে বঙ্গদেশের কোল, মুণ্ডা, সাঁওতাল প্রভৃতি আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান  রয়েছে সেসব শব্দকে দেশি শব্দ বলে। অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না, কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস পাওয়া যায়। যেমন: কুড়ি (বিশ)-কোলভাষা, পেট (উদর)-তামিল ভাষা, চুলা (উনন)-মুন্ডারী ভাষা। এরূপ : কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি ইত্যাদি। 
 

তৎসম অর্ধতৎসম ও বিদেশি শব্দ: যেসব শব্দ কোনো পরিবর্তন ছাড়া সংস্কৃত ভাষা থেকে  অবিকল  বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে সেসব শব্দকে  তৎসম শব্দ বা সংস্কৃত শব্দ বলা হয়। তৎসম পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ [তৎ (তার)+সম (সমান)]=তার সমান; বা সংস্কৃত।  বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে যেসব শব্দ কিছুটা পরিবর্তন হয়ে  সংস্কৃত থেকে  বাংলায় এসেছে সেসব শব্দকে অর্ধতৎসম শব্দ বলে। তৎসম মানে সংস্কৃত।  অর্ধতৎসম মানে আধা সংস্কৃত। যেমন : জোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নি, বোষ্টম, কুচ্ছিত। এগুলো সংস্কৃত রূপ যথাক্রমে: জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, বৈঞ্চব, কুৎসিত শব্দ থেকে আগত। তৎসম, তদ্ভব, অর্ধতৎসম বা খাঁটি বাংলা শব্দ ও দেশি শব্দ ছাড়া বাকিগুলো বিদেশি শব্দ। সংস্কৃত ছাড়া অন্য বিদেশি ভাষা হতে আগত ও বাংলায় ব্যবহৃত শব্দকে বিদেশি শব্দ বলে। আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি, ফরাসি, পোর্তুগিজ, চায়নিজ, তুর্কি প্রভৃতি হতে আগত শব্দকে বাংলায় বিদেশি শব্দ বলা হয়।  

What শব্দের বাংলা অর্থ কী?
what শব্দের বাংলা অর্থ—
১. ( অব্যয়ে ) সংশয়সূচক প্রশ্নবাচক শব্দ, যার উত্তর হ্যাঁ বা না (তুমি কি আসবে?); অথবা, কিংবা, বা (গোরু কি ছাগল, দিন কি রাত যে-কোনো একটি); বিস্ময়সূচক পদ (কী সুন্দর পাখি !);
২. (সর্বনামে) what-এর অর্থ— কোন বস্তু (কী চাও?);
৩. (বিশেষণে) what এর অর্থ— কেমন (কী করে বাড়ি যাবে?)।
প্রসঙ্গত, what শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত কি এবং কী দুটোই সংস্কৃত কিম্ হতে উদ্ভূত খাঁটি বাংলা শব্দ।

প্রয়োজনীয় লিংক

অজানা অনেক মজার বিষয়

নেদারল্যান্ডস (Netherlands)

 
 
 
error: Content is protected !!