গাহ্‌-আদিগণ ধাতু: বাংলা ব্যাকরণ সমগ্র শুবাচ

গাহ্-আদিগণ ধাতুর বিভিন্ন রূপের যথাযথ বানান 

এবি ছিদ্দিক

বর্তমানে চলিত রীতিতে ‘গাহ্’, ‘চাহ্’, ‘নাহ্’, ‘বাহ্’ ইত্যাদি গাহ্-আদিগণ ধাতুর ঘটমান বর্তমান ও ঘটমান অতীত কালের রূপসমূহ লেখা ক্ষেত্রে একটি ভুল অতি সাধারণ হয়ে গিয়েছে এবং সেটি হচ্ছে— খা-আদিগণ ধাতুর সঙ্গে তালগোল পাকিয়ে ‘চ্ছ’ ব্যবহার করা। যেমন: চাচ্ছি, গাচ্ছেন, বাচ্ছিল, নাচ্ছে(‘স্নান করছে’ অর্থে), গাচ্ছিলি ইত্যাদি। কিন্তু যাচ্ছি, খাচ্ছেন, পাচ্ছিস ইত্যাদি রূপসমূহ শুদ্ধ হলেও ‘যেমন’-এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ-করা রূপগুলো যথাযথ

এবি ছিদ্দিক

নয়। কারণ, ‘গাহ্’ ও ‘খা’ দুটি ভিন্ন ভিন্ন ধাতুগণ। তাই, এদের বিভিন্ন রূপের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে, আর এই পার্থক্য সবচেয়ে বেশি শুরুতে উল্লেখ-করা দুই কালের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়। মূলত, চলিত রীতিতে গাহ্-আদিগণ ধাতুসমূহের বিভিন্ন রূপের বানান লেখার সময় অন্তের ‘হ্’ আর থাকে না এবং এই ‘হ্’-এর স্থলে হ্রস্ব-‘ই’ বা অন্তঃস্থ-‘য়’ লিখতে হয়(সাধারণ বর্তমান ও বর্তমান অনুজ্ঞা ছাড়া)। এক্ষেত্রে, আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘আ’-কার থাকলে পরবর্তী বর্ণ হিসেবে হ্রস্ব-‘ই’ এবং আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘এ’-কার থাকলে পরবর্তী বর্ণ হিসেবে অন্তঃস্থ-‘য়’ ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু এধরনের ধাতুগুলোর ‘ঘটমান’ বর্তমান ও অতীত কালের বিভিন্ন রূপের ক্ষেত্রে আদ্যবর্ণের সঙ্গে ‘আ’-কার যুক্ত থাকে এবং তার পরে হ্রস্ব-‘ই’ ব্যবহার করতে হয়, সেহেতু উক্ত কাল দুটির রূপসমূহের বানানে ‘চ্ছ’-এর পরিবর্তে কেবল ‘ছ’ লিখতে হবে। নিচে গাহ্-আদিগণ ধাতুর কয়েকটি অশুদ্ধ ও শুদ্ধ রূপ উল্লেখ করা হলো:
অশুদ্ধ — শুদ্ধ
চাচ্ছি — চাইছি
গাচ্ছেন — গাইছেন
বাচ্ছে — বাইছে
নাচ্ছিল — নাইছিল
গাচ্ছিস — গাইছিস
চাচ্ছিলে — চাইছিলে

প্রয়োগ: ১. “আমি গান গাইছি।” বাক্যটিতে আদ্যবর্ণ ‘গ’-এর সঙ্গে ‘আ’-কার থাকায় পরবর্তী বর্ণ হিসেবে হ্রস্ব-‘ই’ ব্যবহার করা হয়েছে।
২. “তিনি শুদ্ধ উত্তরটি জানতে চাইছেন।” বাক্যটিতে আদ্যবর্ণ ‘চ’-এর সঙ্গে ‘আ’-কার থাকায় পরবর্তী বর্ণ হিসেবে হ্রস্ব-‘ই’ ব্যবহার করা হয়েছে।
৩. “টম সারাদিন নৌকা বেয়েছে(পুরাঘটিত বর্তমান)।” বাক্যটিতে আদ্যবর্ণ ‘ব’-এর সঙ্গে ‘এ’-কার থাকায় পরবর্তী বর্ণ হিসেবে অন্তঃস্থ-‘য়’ ব্যবহার করা হয়েছে।
৪. “যখন তুমি কল করেছিলে, তখন ছাফিয়া গান গাইছিল।” বাক্যটিতে আদ্যবর্ণ ‘গ’-এর সঙ্গে ‘আ’-কার থাকায় পরবর্তী বর্ণ হিসেবে হ্রস্ব-‘ই’ ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্র:  এবি ছিদ্দিক, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)।


বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

কি না  বনাম কিনা এবং না কি বনাম নাকি

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

ভূ ভূমি ভূগোল ভূতল ভূলোক কিন্তু ত্রিভুবন : ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

এককথায় প্রকাশ

উঠ্-আদিগণ ধাতু : বাংলা ব্যাকরণ সমগ্র শুবাচ

জেনে রাখা ভালো : শব্দ বানান অর্থ/১

 জেনে রাখা ভালো: শব্দ বানান অর্থ/২

জেনে রাখা ভালো : শব্দ বানান অর্থ/৩

প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ : কোন শব্দ কোথায় হবে

পুলিশের গু খেয়ে মৃত্যু : কয়েকটি বানান কৌতুক

শুদ্ধ অশুদ্ধ : বাংলা বানান : ট-এর জায়গায় ঠ এবং ঠ-এর জায়গায় ট-এর অশুদ্ধি

অবান্তর  লিঙ্গান্তর

জল বনাম পানি

শ্রীলংকা ও চীন : ঈ-কার কেন

খাঁটি গোরুর দুধ শুদ্ধ না কি অশুদ্ধ

আশীর্বাদ দোয়া : আদব ও আদাব 

নিচ নীচ বনাম নিচে নিচু

আপদ্‌ বনাম বিপদ : বিপৎকাল না কি বিপদকাল

প্রখ্যাত ও বিখ্যাত 

চোখ : কাব্যিক ভাবনা ব্যাকরণিক অভিধা

পুষ্পিতা বাংলা একাডেমি : রজস্বলা না কি রজঃস্বলা

নিমোনিক : কালী কিন্তু কালিদাস, কালীনাম কিন্তু কালিমাতা

একনজরে ভাষা শহিদ : বিসিএস বাংলা সাধারণ জ্ঞান

error: Content is protected !!