গুদুরি ও গুদুরি বাজার এবং তঙ্ক বনাম তঙ্কা

ড. মোহাম্মদ আমীন

 গুদুরি বাজার এবং গুদারা বাজার
গুদারা আরবি উৎসের শব্দ। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত আরবি গুদারা অর্থ— (বিশেষ্যে) বড়ো খেয়ানৌকা। খাল নদী প্রভৃতি পারাপারের ঘাট। খেয়াঘাট। নদী বা খাল পারাপার করার জায়গা।  গুদারা সাধারণ্যে গুদারাঘাট নামে সমধিক পরিচিত। নদীবহুল বাংলাদেশে প্রচুর খেয়াঘাট ছিল।
 
একসময় নদী-খালে সেতু  পুল বা সাঁকো  ছিল না বললেই চলে। গুদারা বা খেয়ানৌকাই ছিল নদী বা খাল পারাপারের অন্যতম মাধ্যম। খেয়াঘাটকে কেন্দ্র করে জনসমাবেশ হতো। জনসমাবেশ ছিল বাজার সৃষ্টির প্রধান শর্ত। তাই তখন গুদারা বা খেয়াঘাটকে কেন্দ্র গড়ে  উঠত বাজার। এই বাজারকে বলা হয় গুদারা বাজার বা গুদুরি বাজার।  অর্থাৎ,  খাল নদী প্রভৃতি পারাপারের ঘাটকে কেন্দ্র যে বাজার গড়ে উঠত তাকে বলা হতো গুদারা বাজার বা গুদুরি বাজার।
 
তঙ্ক বনাম তঙ্কা
তঙ্ক: সংস্কৃত তঙ্ক (√তঙ্ক্+অ) অর্থ— (বিশেষ্যে) পাথর কাটার হাতিয়ার, ছেনি; আতঙ্ক। অন্যদিকে,  সংস্কৃত টঙ্ক থেকে অদ্ভূত তঙ্কা অর্থ— (বিশেষ্যে) টাকা, বেতন।  তঙ্কা পেয়ে তঙ্ক কিনে তছনছ করে দিল খেতটা।
 
কোয়া বা কোষ
পাকা কাঁঠালের ভোতা (ছালের সঙ্গে লেগে থাকা অংশ-ভুশড়ো) ও মোথা (বোটার সঙ্গে লেগে থাকা অংশ -মুশরো) গো খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কোষ খাওয়ার পর যে খোসা ও ভুতরো বা অমরা থাকে তা গবাদি পশুর উত্তম খাদ্য। ভুতরো বা ছোবড়ায় যথেষ্ট পরিমাণে পেকটিন থাকায় তা থেকে জেলি তৈরি করা যায়। এমন কি শাঁস বা পাল্প থেকে কাচা মধু আহরণ করার কথাও জানা গেছে। কাঁঠাল গাছের পাতা গবাদি পশুর একটি মজাদার খাদ্য। গাছ থেকে তৈরি হয় মুল্যবান আসবাবপত্র। কাঁঠাল ফল ও গাছের আঁঠালো কষ কাঠ বা বিভিন্ন পাত্রের ছিদ্র বন্ধ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
 
মনিষ বনাম মনীশ
সংস্কৃত মানুষ থেকে উদ্ভূত খাঁটি বাংলা মনিষ অর্থ— যে ব্যক্তি দৈনিক পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গৃহস্থের বাড়িতে কাজ করে, কুলি, দিনমজুর। সংস্কৃত মনীশ(মনশ+ঈশ) অর্থ— (বিশেষ্যে) অন্তরের ঈশ্বর। ঈশ মানে লাঙলের ফলা। যার আলংকারিক অর্থ— সৃজন করার ক্ষমতা, সৃজনশীল। অর্থাৎ সৃজনশীলতায় প্রাজ্ঞ মানুষকে বলা হয় মনীশ। ঈশ্বর বানানে শ আছে। তাই শ-যুক্ত মনীশ বানানের অর্থ ঈশ্বর। মনিষ বানানে ষ আছে তাই ষ যুক্ত মনীষ বানানের অর্থ মানুষ সংশ্লিষ্ট। মনে রাখবেন, মনিষ শব্দটি অতৎসম হলেও ব্যুৎপত্তি বিবেচনা করে ষ অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে।
 
মানবতাবাদী ও মানবতাবিদ্বেষী
ইংরেজি Philanthropist শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ মানবতাবাদী, বিশ্বপ্রেমিক, সর্বকল্যাণকামী প্রভৃতি। এর বিপরীত শব্দ Misanthropist। যার বাংলা অর্থ মানবতাবিদ্বেষী, বিশ্ববিদ্বেষী; মানবজাতিকে ঘৃণা করে এমন।
error: Content is protected !!