“গোরুর খাঁটি দুধ”  বলার চেয়ে “খাঁটি গোরুর দুধ” বলা সমীচীন/ সংগততর কেন?

 
ড. মোহাম্মদ আমীন
 
 
সংযোগ: https://draminbd.com/গোরুর-খাঁটি-দুধ-বলার-চে/
 
“খাঁটি গোরুর দুধ” না কি “গোরুর খাঁটি দুধ”? কোনটি শুদ্ধ
ব্যাকরণমতে, “খাঁটি গোরুর দুধ” এবং “গোরুর খাঁটি দুধ” দুটোই শুদ্ধ। তবে প্রথমটি সর্বজনীন ও আদর্শ। দ্বিতীয়টি সর্বজনীন নয়, আদর্শও নয়। বরং সর্বজনীন বা আদর্শ করতে গেলে উদ্ভট ও হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এজন্য আমি “খাঁটি গোরুর দুধ” কথাটি ব্যবহার করি। “খাঁটি গোরুর দুধ” কথার অনুসরণে “সাদা গোরুর মাংস” না বলে “গোরুর সাদা মাংস” বলে লজ্জা পেয়েছিলাম। 
 
 “খাঁটি গোরুর দুধ” কথাটি বাক্য হিসেবে অধিকতর সংগত, নিরাপদ, শুদ্ধ এবং সর্বদা আদর্শ হিসেবে অনুসৃত ও প্রয়োগযোগ্য একটি বাক্য। এর গঠন অনুসরণ করে সর্বদা অনুরূপ গঠনের যে-কোনো  আদর্শ বাক্য গঠন করা যায়।  কিন্তু গোরুর খাঁটি দুধ” কথাটি দিয়ে তা সম্ভব নয়। “খাঁটি গোরুর দুধ” কথাটি গোরু/পশু আর দুধ/ডিম/দ্রব্য-এর পরিপ্রেক্ষিত কিছু কিছু ক্ষেত্রে সঠিক হতে পারে। তবে এর গঠন অনুসারে গঠিত বাক্য সর্বদা ঠিক নাও হতে পারে। বরং সৃষ্টি করতে পারে হাস্যকর পরিস্থিতি। আপনি  ভীষণ লজ্জায়ও পড়ে যেতে পারেন।  
 
যেমন: “কালো ছাগলের মাংস”, “লাল মুরগির ডিম” কথা দুটি  “গোরুর খাঁটি দুধ” বাগ্‌ভঙ্গি  অনুসরণে   যদি “ছাগলের কালো মাংস” কিংবা “মুরগির লাল ডিম” বলি তাহলে অর্থ অভিন্ন থাকবে না। অবশ্য, ছাগলের মাংসগুলো যদি কালো কিংবা মুরগির ডিম লাল হয় তো অন্য কথা।  অর্থাৎ “খাঁটি গোরুর/ছাগলের/মহিষের দুধ/ডিম/দ্রব্য” কথার ক্ষেত্রে “গোরুর/ছাগলের/মহিষের খাঁটি দুধ/ডিম/দ্রব্য” কথাটি সমার্থক হলেও সর্বত্র তা সমার্থক হয় না। যেমন:  “তাজা মাছের স্বাদ” আর “মাছের তাজা স্বাদ”, “বড়ো বাড়ির বউ” আর “বাড়ির বড়ো বউ”“নীল আকাশের নিচে” আর “আকাশের নীল নিচে”দুষ্ট বলদের শিং আর বলদের দুষ্ট শিং, “বড়ো পুকুরের পুঁটি” আর “পুকুরের বড়ো পুটি” সমার্থক নয়। তাই সবক্ষেত্রে  বিশেষণটিকে সমাসবদ্ধ পদের আগে  রাখা সমীচীন।  এবার দেখি শব্দটির ব্যকরণিক শুদ্ধতা।
 
 ব্যাকরণিক শুদ্ধতা
 
‘‘খাঁটি গোরুর দুধ’’ একটি বহুল প্রচলিত বাক্য। এই বাক্যে বিশেষ্য ‘গোরু’ নয়, ‘গোরুর দুধ’ এবং বিশেষণ হচ্ছে ‘খাঁটি’। তাই বাংলা ব্যাকরণের নিয়মানুসারে ‘খাঁটি’ শব্দটি ‘গোরুর দুধ’ কথার আগে বসবে।
“খাঁটি গোরুর দুধ” বাক্যটিকে “কী খাঁটি?” প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘‘গোরুর দুধ”; সংস্কৃতে যাকে বলা হয় গোদুগ্ধ। অতএব “খাঁটি গোরুর দুধ” কথাটি অশুদ্ধ বলা যায় না। তেমনি “বিরাট গোরুছাগলের হাট” বাক্যে বিশেষণ হচ্ছে ‘বিরাট’ এবং বিশেষ্য হচ্ছে ‘গোরুছাগলের হাট’। এ বাক্যকে ‘‘কী বিরাট?” প্রশ্ন করলে উত্তর আসে, “গোরুছাগলের হাট”। সুতরাং এ বাক্যটিকেও অশুদ্ধ বলার কোনো যুক্তি নেই।
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
অনেকে বলেন , “খাঁটি গোরুর দুধ’’ বাক্যটি শুদ্ধ নয়, শুদ্ধ হচ্ছে ‘‘গোরুর খাঁটি দুধ”।গরুর খাঁটি দুধ” বাক্যের প্রসঙ্গে ‘কী খাঁটি?’ প্রশ্ন করলে উত্তর আসে ‘দুধ’, কিন্তু কীসের দুধ?এই প্রশ্নের উত্তরটি প্রথমোক্ত বাক্যের উত্তর চেয়ে অনেক বেশি অনির্দিষ্ট।যদিও বাজারে সাধারণত গোরুর দুধই বিক্রি হয়।
 
“খাঁটি গোরুর দুধ” কথায় তিনটি শব্দ/পদ দেখা গেলেও আসলে পদ হচ্ছে দুটি। এখানে বিদ্যমান ‘গরুর দুধ’ কথাটি অসংলগ্ন সমাস। এর অর্থ- গোদুধ গোদুগ্ধ। এরূপ অসংলগ্ন সমাসের আরও কিছু উদাহরণ: যেমন: বিজয় দিবস, শহিদ মিনার, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ইত্যাদি। এগুলো পৃথকভাবে বসলেও আসলে সমাসবদ্ধ পদ। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এগুলোকে অসংলগ্ন সমাস বলেছেন। 
 
সুতরাং,  খাঁটি গোরুর দুধ” কথায় পদ হচ্ছে দুটি। একটি খাঁটি এবং অন্যটি গোদুগ্ধ। অর্থাৎ খাঁটি গোদুগ্ধ= খাঁটি গোরুর দুধ। গোরু-এর এসঙ্গে যুক্ত র বা ষষ্ঠী  বিভক্তি গোরুকে দুধের সঙ্গে বিশেষ্যরূপে একীভূত করে দিয়েছে। যা খাঁটি দ্বারা বিশেষিত। বাক্যে পদক্রম অনুসারে বিশেষণ সাধারণত বিশেষ্যের আগে বসে। যেমন : ভালো মানুষ, লাল ফুল, বড়ো গাভি, গোরুর খাঁটি দুধ, জাপানি সুতোর বাজার প্রভৃতি।
 
‘‘খাঁটি গোরুর দুধ’’ একটি বহুল প্রচলিত বাক্য। এই বাক্যে বিশেষ্য ‘গোরু’ নয়, ‘গোরুর দুধ’ এবং বিশেষণ হচ্ছে ‘খাঁটি’। তাই বাংলা ব্যাকরণের নিয়মানুসারে ‘খাঁটি’ শব্দটি ‘গোরুর দুধ’ কথার আগে বসবে।
 
“খাঁটি গোরুর দুধ” বাক্যটিকে “কী খাঁটি?” প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘‘গোরুর দুধ”; সংস্কৃতে যাকে বলা হয় গোদুগ্ধ। অতএব “খাঁটি গোরুর দুধ” কথাটি অশুদ্ধ বলা যায় না। তেমনি “বিরাট গোরুছাগলের হাট” বাক্যে বিশেষণ হচ্ছে ‘বিরাট’ এবং বিশেষ্য হচ্ছে ‘গোরুছাগলের হাট’। এ বাক্যকে ‘‘কী বিরাট?” প্রশ্ন করলে উত্তর আসে, “গোরুছাগলের হাট”। সুতরাং এ বাক্যটিকেও অশুদ্ধ বলার কোনো যুক্তি নেই।
 
অনেকে বলেন , “খাঁটি গোরুর দুধ’’ বাক্যটি শুদ্ধ নয়, শুদ্ধ হচ্ছে ‘‘গোরুর খাঁটি দুধ”।গরুর খাঁটি দুধ” বাক্যের প্রসঙ্গে ‘কী খাঁটি?’ প্রশ্ন করলে উত্তর আসে ‘দুধ’, কিন্তু কীসের দুধ?এই প্রশ্নের উত্তরটি প্রথমোক্ত বাক্যের উত্তর চেয়ে অনেক বেশি অনির্দিষ্ট।যদিও বাজারে সাধারণত গোরুর দুধই বিক্রি হয়।
 
 
সূত্র: বাংলা ভাষার মজা, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
 
প্রয়োজনীয় কিছু সংযোগ
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
 
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
— — — — — — — — — — — — — — — — —
Spelling and Pronunciation
HTTPS://DRAMINBD.COM/ENGLISH-PRONUNCIATION-AND-SPELLING-RULES-ইংরেজি-উচ্চারণ-ও-বান/
 
 
 
 
error: Content is protected !!