গৌতবুদ্ধের আর্যদর্শন

গৌতম বুদ্ধ আর্যদর্শন ও  নুতন মাত্রা
খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০ অব্দের দিকে আর্য ঋষিরা রচনা করেছিল উপনিষদ।এই সময় অনার্য গোষ্ঠীদের সাথে তাদের প্রায়ই সংঘাত হতো। আক্রমণপরায়ণ অনার্যদের এরা নাম দিয়েছিল দস্যু। একসময় আর্যদের ছোটো ছোটো গোষ্ঠী এইসব দস্যুদের দমন করে, ছোটো ছোটো রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তী প্রায় ২০০ বৎসর এরা ক্রমান্বয়ে এই ভাবে গাঙ্গেয় উপত্যকা ধরে ধরে পূর্ব ভারতের দিকে এগিয়ে চলেছিল।এই সময় স্থানীয় ভাষার সাথে সংস্কৃত ভাষার সংমিশ্রণে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে, স্থানীয় ভাষাগুলো নতুন রূপ লাভ করেছিল। খ্রিষ্ট-পুর্ব ৫৬৭ অব্দের দিকে গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়। নেপালের দক্ষিণাংশে এবং প্রাচীন ভারতবর্ষের যোধপুর রাজ্য নিয়ে একটি রাজপুত রাজ্য ছিল। এই রাজ্যের রাজধানী ছিল কপিলাবস্তু। গৌতম বুদ্ধ ছিলেন সেই রাজ্যের রাজপুত্র। প্রথমদিকে আর্যরা বুদ্ধের দর্শনকে আন্তরিকভাবেই গ্রহণ করেছিলেন এবং আর্য ঋষিদের ভিতরে বৌদ্ধ দর্শনের চর্চা ছিল। মহাভারতে আদি পর্বে রাজা দুষ্মন্ত মৃগয়ায় গিয়ে হরিণের পিছু পিছু কণ্ব মুনির আশ্রমে গিয়ে- বৌদ্ধমতালম্বী লোকেদের ধর্মালোচনা দেখতে পান। [মহাভারত আদিপর্ব ৭০ অধ্যায়]। মহাভারতের এই অধ্যায় অনুসরণে বলা যায় -রাজা দুষ্মন্তের পুত্র ভরত রাজ্য লাভ করেছিলেন খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০-৪০০ অব্দের ভিতরে। আর মহাভারত রচিত হয়েছিল সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দের ভিতরে।

error: Content is protected !!