গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার: আধুনিক বাংলা গানের কিংবদন্তি

ড. মোহাম্মদ আমীন

গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার: আধুনিক বাংলা গানের কিংবদন্তি

আধুনিক বাংলা ও চলচ্চিত্র সংগীতের শ্রেষ্ঠ গীতিকার ও সুরকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই ডিসেম্বর পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ছিল বাচ্চু।তাঁর পিতা বিখ্যাত উদ্ভিদবিদ গিরিজাপ্রসন্ন মজুমদার ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক। ইংরেজি ও বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করার পর গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার সিভিল সার্ভিসে যোগ না দিয়ে সংগীতে মনোনিবেশ করেন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় তাঁর লেখা গান প্রথম রেকর্ড হয়।গানটি ছিল হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গাওয়া—  আকাশ মাটি ঐ ঘুমালো, ঘুমায় মেঘ তারা…। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার লিখিত এবং মান্না দে গীত কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই গানটি ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে পরিচালিত বিবিসির জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানে ঠাঁই পেয়েছে।তিনি ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ২০শে আগস্ট কলকাতায় মারা যান। আজ গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের মৃত্যু দিবস। এ দিবস শুবাচ তাঁকে স্মরণ করছে গভীর শ্রদ্ধায়। 

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাঁর লেখা বিখ্যাত গান— ‘শোনো একটি মজিবরের কণ্ঠ থেকে লক্ষ মজিবরের কণ্ঠে সুরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি, আকাশে বাতাসে ওঠে রণি বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ…।” ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগরে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রী পরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে এই গানটি বাজানো হয়। তাঁর লেখা আর একটি জনপ্রিয় দেশের গান, মা গো ভাবনা কেন/আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে/তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি/তোমার ভয় নেই মা আমরা/ প্রতিবাদ করতে জানি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে বঙ্গবন্ধুর আমন্ত্রণে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে মরণোত্তর “মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা” প্রদান করা হয়। 

গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের ‘শোনো একটি মজিবরের কণ্ঠ থেকে’ গানটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন— ‘মিলিয়ন মুজিবরস সিংগিং’। তিনি অনুবাদক হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ। এইচএমভির লোকগানের প্রশিক্ষক ও গায়ক দীনেন্দ্র চৌধুরী মানিক বন্দোপাধ্যায়ের

ড. মোহাম্মদ আমীন

‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসের গীতিনাট্য রূপ দিয়েছিলেন। সুর ঠিক রেখে ‘পদ্মানদীর মাঝি’ গীতিনাট্যটির ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। 

গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারকে বলা হয় আধুনিক বাংলা ও চলচ্চিত্র সংগীতের সর্বশ্রেষ্ঠ রূপকার এবং কালজয়ী গীতিকার। এখনো উভয় বাংলার মানুষের মনে সুর তুলে তাঁর লেখা গান। উদাহরণস্বরূপ

— আশা ছিল ভালোবাসা ছিল; আজ দুজনার দুটি পথ ওগো; পাখিটার বুকে যেন তীর মেরো না; পথের ক্লান্তি ভুলে স্নেহ ভরা কোলে তব; জীবনটা কিছু নয় শুধু এক মুঠো ধুলো; ও নদীরে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে; প্রেম একবার এসেছিল নীরবে; ওগো তুমি যে আমার কানে কানে শুধু একবার বলো; মুছে যাওয়া দিনগুলো আমায় যে পিছু ডাকে; এই পথ যদি না শেষ হয়; আমার স্বপ্ন তুমি পৃথিবী বদলে গেছে; যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজে, প্রেম একবার এসেছিল নীরবে, কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই , তীর ভাঙা ঢেউ আর নীড় ভাঙা ঝড়,  মেঘ কালো আঁধার কালো, আর কলঙ্ক যে কালো, জীবনে যদি দ্বীপ জ্বালাতে নাহি পারো, নীড় ছোট ক্ষতি নেই — এরূপ অসংখ্য গানের কথা বলা যায়। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা  আরও কয়েকটি জনপ্রিয় গান:

গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের ১২৮টি জনপ্রিয় গান নিচে দেওয়া হলো। ইচ্ছা করলেও শুনতে পারেন তাঁর লেখা প্রাণ দোলানো অমর কিছু গান।

—————————————————-
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
তিনে দুয়ে দশ: শেষ পর্ব ও সমগ্র শুবাচ লিংক
এই পোস্টের ওয়েব লিংক: কিছু প্রয়োজনীয় পোস্ট

error: Content is protected !!