ঘোষ (Voiced) অঘোষ (Voiceless) বর্ণ: Voiced and Voiceless: ইংরেজি ও বাংলা

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/ঘোষ-voiced-অঘোষ-voiceless-বর্ণ-voiced-and-voiceless-ইংরেজি/
 
 
 
অঘোষ বর্ণ, অঘোষধ্বনি—  প্রতিবর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ
 
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ [প্রথম প্রকাশ: মাঘ ১৪২০/জানুয়ারি ২০১৪] ৪৩ পৃষ্ঠায় ‘অঘোষ (voiceless) ব্যঞ্জন’-এর সংজ্ঞার্থ দিয়ে বলেছে: “ব্যঞ্জনের উচ্চারণে বাতাস স্বরপথের বিভিন্ন স্থানে বাধা পায়। এই বাধাপ্রাপ্তির কালে (hold phase) যদি ধ্বনিদ্বারের কম্পন বন্ধ হয়ে যায় (তা যত কম সময়ের জন্যই হোক না কেন) তবে সেইসব ব্যঞ্জনকে অঘোষ (voiceless) ব্যঞ্জন বলে। “ বাংলায় ক ছ ট ত প এবং খ ছ ঠ থ ফ অঘোষ ধ্বনি বা অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি। সাধারণভাবে বলা যায়: যেসব ধ্বনি  উচ্চারণরে সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণতি হয় না এবং উচ্চারণ গাম্ভীর্যহীন ও মৃদু হয় সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
 
IPA অনুযায়ী উচ্চারণ: যথাক্রমে ক্‌ /k/, খ্‌ /kʰ/, চ্‌ /t͡ʃ/, ছ্‌ /t͡ʃʰ/, ট্‌ /ʈ/, ঠ্‌ /ʈʰ/, ত্‌ /t/, থ্‌ /tʰ/, প্‌ /p/, ফ্‌ /pʰ/, শ্‌ /ʃ/, স্‌ /s/, হ্‌ /h/। এই ধ্বনিসমূহ অঘোষ বাংলা অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি। বর্ণিত গ্রন্থের পাদটীকা অনুযায়ী, ” তবে হ্‌ কখনও অঘোষ এবং কখনও ঘোষবৎ উচ্চারিত হয় ধ্বনিগত প্রতিবেশের উপর নির্ভর করে।” বাংলা অঘোষ বর্ণ কথাটি voiceless কথার প্রতিশব্দ। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ গ্রন্থে প্রদত্ত অঘোষ ব্যঞ্জনের সংজ্ঞার্থের সঙ্গে ইংরেজি অঘোষ বর্ণের সংজ্ঞার্থ অভিন্ন।  
 
ঘোষ বর্ণ, অঘোষধ্বনি—  প্রতিবর্গের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ণ
ধ্বনি উচ্চারণরে সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণতি হলে ঘোষ ধ্বনি / Voiced হয়। যমেন : গ ঘ ইত্যাদি। অর্থাৎ যে বর্ণগুলো উচ্চারণ করার সময় ফুসফুস থেকে অপেক্ষাকৃত অধিক বাতাস প্রবাহিত হয় এবং উচ্চারণ নিনাদিত হয় সেগুলো ঘোষ বর্ণ। বর্গের ৩য়-৪র্থ বর্ণ অর্থাৎ: গ ঘ জ ঝ ড ঢ দ ধ ব ভ।
 
ইংরেজি অঘোষবর্ণ (Voiceless consonant) বর্ণ
ইংরেজিতে অঘোষস্বর দ্যোতিত ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনচিহ্নগুলো হলো: Ch, F, K, P, S, Sh, T, and Th (as in “thing”). শব্দে প্রয়োগ: washed, coats, watched, books, seats, dropped, carts ইত্যদি। শব্দে বর্ণ/চিহ্নের উচ্চারণভিত্তিতে, এমনকি দেশভিত্তিতেও আরও বেশি বা কম হতে পারে।
 
 
  ইংরেজি ঘোষ বর্ণ (Voiced consonant
ইংরেজি ঘোষবর্ণ: ইংরেজিতে ঘোষস্বর দ্যোতিত ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনচিহ্নগুলো হলো: B, D, G, J, L, M, N, Ng, R, Sz, Th (“then”), V, W, Y, and Z. উচ্চারণ-প্রয়োগ: traveled, gloves, shells, started, changed, wheels, lived, dreams, exchanged, globes, phones, listened, organized ইত্যাদি। শব্দে বর্ণ/চিহ্নের উচ্চারণভিত্তিতে, এমনকি দেশভিত্তিতেও আরও বেশি বা কম হতে পারে।
 
 
স্বরধ্বনি (vowel sound)
স্বরবর্ণ (vowel) A, E, I, O, U এবং দুটি স্বরধ্বনির মিলিত ( diphthongs) ব্যঞ্জন যখন এককভাবে কোনো স্বরবর্ণের উচ্চারণ দ্যোতিত করে তখন তাদের Vowel Sound বলে। যেমন: Y যখন দীর্ঘ E ধ্বনির মতো উচ্চারিত হয় তখন এটি vowel sound. যেমন: city, pity, gritty.
 
উচ্চারণ, স্বর বা ধ্বনির পরির্তন (Changing Voice): Ed
যখন একাধিক ব্যঞ্জনবর্ণ গুচ্ছ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন শব্দভেদে তাদের মূল উচ্চারণ নানা কারণে নানাভাবে পরিবর্তন হয়ে যায়।
১. ed-এর আগে K (voiceless) থাকলে তা পরিবর্তন হয়ে T (voiceless) হয়ে যায়। যেমন: parked, barked, marked ইত্যাদি।
 
২. -ed এর আগে যদি B (voiced) বা V(voiced) থাকে তাহলে এর উচ্চারণ হবে D (voiced)। যেমন: robbed, thrived, shoved ইত্যাদি।
 
৩. -ed এর আগে যদি স্বরধ্বিনি (vowel sound) থাকে তাহলে এর উচ্চারণ হবে D (voiced)। কারন, স্বরবর্ণ সর্বদা voiced freed, fried, lied ইত্যাদি।
 
৪. -ed এর আগে যদি T থাকে তাহলে এর উচ্চারণ হবে id (voiced)। যেমন: : dotted, rotted, plotted
 
ঘোষ এবং অঘোষ ধ্বনি সনাক্তকরণ: সহজ পদ্ধতি : শ্রবণপদ্ধতি ও নাসিক্য পদ্ধতি ।
 
 
সংশ্লিষ্ট বর্ণটি উচ্চারণকালে গলায় আঙুল রেখে স্বরতন্ত্রীর কম্পন অনুভব করে ঘোষ-অঘোষ ধ্বনি সনাক্তকরণের প্রচলিত পদ্ধতি তেমন কার্যকর নয়। এই পদ্ধতিতে বর্ণের উচ্চারণকালে গলায় রাখা আঙুলে যদি স্বরতন্ত্রীর কম্পন অনুভূত হয় তবে ধ্বনিটি ঘোষ  এবং কম্পন অনুভূত না হলে  অঘোষ চিহ্নিত করা হয়।
কিন্তু প্রচলিত এ পদ্ধতিতে স্বরধ্বনি সনাক্ত করতে গিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কাটাই বেশি থাকে।  কারণ প্রতিটি স্বরধ্বনি ঘোষবৎ উচ্চারণ দেয়। ফলে কোনো ব্যঞ্জন ধ্বনি যখন কোনো স্বরের আগে বা পরে একঙ্গে উচ্চারিত হয় তখন স্বরের রেশ দ্বারা ব্যাঞ্জনধ্বনিটি কমবেশি প্রভাবিত হয়।  তখন গলায় আঙুল রাখলে সমগ্র গলায় প্রায় সব বর্ণের উচ্চারণে কমবেশি কম্পন অনুভূত হয় । শব্দ শক্তিজনিত (Acoustic energy) সৃষ্ট কম্পন পুরো গলায় ছড়িয়ে পড়ার কারণে অঘোষ ধ্বনির উচ্চারণেও স্বরতন্ত্রীতে কিছুটা প্রভাব থেকে যায় ।  সমগ্র গলায় যখন কম্পন অনুভূত হয় তখন স্বরতন্ত্রীর কম্পনকে হাত দিয়ে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা সংশয়াবৃত হয়ে পড়ে। তাই গলায় আঙুল রেখে ঘোষ-অঘোষ বর্ণ সনাক্ত করা কার্যকর পদ্ধতি নয়। এ প্রসঙ্গে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে শুবাচে শুবাচি আশরাফুল আলম বর্ণিত নিচের দুটি কৌশল অবলম্বন করা যায়:
 
 
শ্রবণপদ্ধতি: পরীক্ষার জন্য একটি অঘোষ এবং আর একটি ঘোষ ধ্বনি বেছে নিন। মনে করি, বর্ণ  ‍দুটি খ  আর ঘ।  ঘাড় সোজা রেখে মাথা ও চোয়াল যতটুকু সম্ভব নিচে নামিয়ে আনুন। অতঃপর বিরতিহীনভাবে সজোরে দ্রুত উচ্চারণ করুন খ্খ্খ্— । এরপর সামান্য বিরতি দিয়ে উচ্চারণ করুন ঘ্ঘ্ঘ্— । উভয় ক্ষেত্রে গলা বা স্বরতন্ত্রী কাঁপানোর চেষ্টা করুন । কাজটি একাধিক বার করুন। একই সঙ্গে  গলার দিকে কান পেতে রাখুন । সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ করুন ঘ্ঘ্ঘ্ উচ্চারণে গম্ভীর আওয়াজ হচ্ছে । উচ্চারণকালে গলায় আঙুল রাখুন। আঙুলে ঘ্ঘ্ঘ্ কম্পন গলার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত প্রায় সমানভাবে অনুভূত হবে । কিন্তু খ্খ্খ্ এর ক্ষেত্রে শুধু উপরের দিকে সামান্য হারে অনুভূত হবে। ঘ্ঘ্ঘ্ এর এই আওয়াজই ঘোষ-ব্যঞ্জনের আওয়াজ । তবে ঘোষবৎ হ্ এর ক্ষেত্রে এই আওয়াজ এত জোরালো (prominent) হবে না ।
 
নাসিক্য পদ্ধতি
আপনার নাকটি দুই আঙুলে চেপে ধরুন । এবার ওষ্ঠাধরের মাঝে যথাসম্ভব কম ফাঁক রেখে ‘অ’ উচ্চারণ করুন । দেখবেন নাকে কম্পন অনুভূত হচ্ছে । তার মানে ‘অ’ ঘোষ ধ্বনি । ‘ই’ উচ্চারণে এই কম্পন আরও স্পষ্ট । এরপর একইভাবে নাক চেপে ধরে ‘ক’ ধ্বনিটি উচ্চারণ করুন । এক্ষেত্রে নাকে কম্পনের অনুভূতি পাওয়া যাবে না । তার মানে ‘ক’ অঘোষ ধ্বনি । এতেও সন্দেহমুক্ত হতে না পারলে একই পদ্ধতিতে পর্যায়ক্রমে একবার ‘ই’ আরেকবার ‘ক’ উচ্চারণ করুন । এভাবে কয়েকবার করুন ।  কম্পনের পার্থক্য অনুধাবন করা যাবে। এভাবে অন্যান্য অঘোষ ও ঘোষ ধ্বনিসমূহ চিহ্নিত করা যায়।
 
 
 
 
শুবাচে প্রকাশিত অধিকাংশ লেখা পেতে চাইলে ক্লিক করতে পারেন নিচের সংযোগসমূহে 
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
 
— — — — — — — — — — — — — — — — —
Spelling and Pronunciation
 
 
 
 
error: Content is protected !!