ঘড়ি যেভাবে এল

এবি ছিদ্দিক

‘ঘড়ি’ বাঙালির কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি শব্দ। সময় নির্দেশক যন্ত্রের নাম বোঝাতে ঘড়ি শব্দটি ব্যবহার করা হয়। অভিধানে সংস্কৃত ‘ঘটিকা’ থেকে তদ্ভব ‘ঘড়ি’ শব্দের উৎপত্তি বলে দেখানো হয়। ঘটিকা শব্দটি বর্তমানে ‘ঘণ্টা’, ‘সময়’ প্রভৃতি অর্থে ব্যবহৃত হলেও শব্দটির প্রকৃত অর্থ হচ্ছে ‘ছোটো কলস বা ঘড়া’। ছোটো কলস বোঝাতে ব্যবহৃত ‘ঘটিকা’ শব্দের অর্থ কীভাবে ঘণ্টা বা সময়ে রূপ নিল (নিলো), এবং পরবর্তী সময়ে সেই ঘটিকা কীভাবে ঘড়িতে বদলে গেল, তা জানতে চাইলে একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। তাহলে চলুন, একটু অতীতে ফিরে যাওয়া যাক—

বঙ্গে যখন সময় পরিমাপক যন্ত্র সহজপ্রাপ্য ছিল না, তখন এই অঞ্চলের মানুষ বিশেষ কায়দায় সময়ের হিসেব রাখতেন। সময়ের হিসেবে রাখতে তাঁরা ছোটো ছোটো কলসিতে পানি বা বালি ভরে রাখতেন৷ ওই ছোটো ছোটো কলসিগুলোকে ঘটিকা বলা হতো। পানি বা বালিতে পূর্ণ করার পর ওই ঘটিকাটির একেবারে তলার দিকে বিশেষ কায়দায় একটি ছোটো ছিদ্র করে দেওয়া হতো এবং ওই ছিদ্র দিয়ে আস্তে আস্তে ভেতরের পানি বা বালি পড়তে থাকত। এরকম একটি ঘটিকার সব পানি বা বালি পড়ে গিয়ে শেষ হতে যে সময় লাগত, তাকে এক ঘটিকা বলা হতো। এভাবে ঘটিকা থেকে পড়া পানি বা বালির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা এক ঘটিকা, দেড় ঘটিকা, আড়াই ঘটিকা, পাঁচ ঘটিকা প্রভৃতিরূপে সময় নির্ণয় করে নিজেদের কাজ চালাতেন।

কথিত আছে, তলায় ছিদ্র করে দেওয়া এরকম একটি ঘটিকার সব পানি বা বালি পড়ে যেতে যান্ত্রিক ঘড়ির সময় অনুযায়ী প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগত। তাই, ঘটিকা শব্দের একটি অর্থ হয়ে যায় ঘণ্টা। পরবর্তী সময়ে যখন সময় গণনার জন্যে বিজ্ঞানসম্মত যন্ত্র আবিষ্কার হয়, তখন বাঙালিরা ওই যন্ত্রের একটি স্বীয় নামের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। ফলস্বরূপ, তাঁরা ঘোষধ্বনি ‘ঘ্’-এর সঙ্গে সঙ্গতি স্থাপন করতে ঘোষীভবনের মাধ্যমে ‘ট্’-কে ‘ড়্’-তে পরিণত করে এবং অন্ত্যের ‘ক্’ ও ‘আ’ ধ্বনির লোপ ঘটিয়ে ‘ঘটিকা’ শব্দটি ‘ঘড়ি’-তে বদলে ফেলে প্রয়োজনীয় নামটি বানিয়ে ফেলেন। আর, এভাবেই ছোট্ট কলসের ‘ঘটিকা’ নাম থেকে আধুনিক সময় পরিমাপক যন্ত্রের ‘ঘড়ি’ নামটির জন্ম হয়।

সূত্র: ঘড়ি যেভাবে এল, এবি ছিদ্দিক, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)

All Link : শুবাচে প্রকাশিতগুরুত্বপূর্ণ লেখা

উপর বনাম ওপর

বিসিএস প্রিলি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা বইয়ের তালিকা

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/২

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন /৩

কীভাবে হলো দেশের নাম

ইউরোপ মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

বাংলাদেশের তারিখ

ব্যাবহারিক বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পবিলেকশন্স লি.

শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি : বানান শেখার বই

কি না  বনাম কিনা এবং না কি বনাম নাকি

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

ভূ ভূমি ভূগোল ভূতল ভূলোক কিন্তু ত্রিভুবন : ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

প্রশাসনিক প্রাশাসনিক  ও সমসাময়িক ও সামসময়িক

বিবিধ এবং হযবরল : জ্ঞান কোষ

সেবা কিন্তু পরিষেবা কেন

ভাষা নদীর মতো নয় প্রকৃতির মতো

এককথায় প্রকাশ

শব্দের বানানে অভিধানের ভূমিকা

আফসোস নিয়ে আফসোস

লক্ষ বনাম লক্ষ্য : বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন

ব্যাঘ্র শব্দের অর্থ এবং পাণিনির মৃত্যু

যুক্তবর্ণ সরলীকরণ আন্দোলন : হাস্যকর অবতারণা

প্রায়শ ভুল হয় এমন কিছু শব্দের বানান/২

গীতাঞ্জলি

রবীন্দ্রনাথের ডাকঘর

রবীন্দ্রনাথের রাজা

রবীন্দ্রনাথের চতুরঙ্গ

রবীন্দ্রনাথের মুক্তধারা

error: Content is protected !!