চকরিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

 ‘চকরিয়া’ বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলা। এটি কক্সবাজার জেলার প্রবেশদ্বার হিসাবে খ্যাত। আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ড, জন-বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক শোভা, ভৌগলিক গুরুত্ব প্রভৃতি বিবেচনায় এটি বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপদ।  আমি কখনও এ উপজেলায় যায়নি, তবে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ভালভাবে চকরিয়াকে অবলোকন করেছি। আমীন আমার জুনিয়র সহকর্মী, বয়সে অনেক ছোট। তার লেখা বেশ কয়েকটা ব্ই পড়ে তার মেধা সম্পর্কে পুলকিত হয়েছি। তিনি কথাসাহিত্য, বাংলা বানান, গবেষণা, আইন ও আত্মজীবনী রচনায় দক্ষ। পরে জানতে পারি ইতিহাস রচনাতেও রয়েছে তার বিশেষ অর্ন্তদৃষ্টি ও সক্ষমতা। তিনি বাংলাদেশে বহু এলাকার ইতিহাস রচনা করেছেন। আমীনের লেখা অভয়নগরের ইতিহাস একটি প্রশংসনীয় গবেষণাকর্ম। ইতোপূর্বে ওই জেলা নিয়ে কেউ ইতিহাস রচনা করেননি। চকরিয়া নিয়েও একই কথা বলা চলে। চকরিয়ার বাংলাদেশের অতি প্রাচীন একটি জনপদ। তবু এর কোনো ইতিহাস রচিত হয়নি দীর্ঘ কয়েক হাজার বছরেও।ড. মোহাম্মদ আমীন চকরিয়া উপজেলায় ‘উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট’ হিসাবে যোগদানের পর চকরিয়ার ইতিহাস লিখতে শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি রচনা করেন চকরিয়ার উপজেলার প্রথম ইতিহাস। কেউ স্বীকার করুন বা না-করুন, গ্রন্থটি রচনা করে ড. আমীন ঐতিহ্যবাহী চকরিয়ার ইতিহাসে শুধু  ব্যক্তি হিসাবে নয়, কালজয়ী ইতিহাস হয়ে রয়ে যাবেন যুগের পর যুগ।

এটি শুধু ইতিহাস নয়, অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি, নৃতত্ত্ব, ধর্ম, বিজ্ঞান, সাহিত্য, ভুগোল, জনমিতি প্রভৃতি বিষয়ে তথ্যবহুল বিবরণ রয়েছে। যা সাধারণত ইতিহাস গ্রন্থে এত বিস্তৃতভাবে লেখা হয়না। এ বিবেচনায় আমীনের লেখা ‘চকরিয়ার ইতিহাস’ তথ্যবহুল বর্ণনায় সমৃদ্ধ একটি অনবদ্য গ্রন্থ। ইতিহাস কত প্রাণবন্ত হতে পারে, হতে পারে কত জীবন্ত এবং সাবলীল তা এ গ্রন্থটি না পড়লে অনুধাবন করা যাবে না। প্রতিটি তথ্যের রয়েছে যুক্তি ও উপযুক্ত প্রমাণক এবং সম্পর্কিত প্রাচীন ইতিহাস ও ঘটনাকে সমর্থন করে। ইতিহাসটি সম্পর্কে আলোচনা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ও ইতিহাসবেত্তা ড. আবদুল করিম এ ইতিহাস গ্রন্থটিকে নির্ভরযোগ্য এবং অসাধারণ একটি রচনা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।প্রশাসনের গুরুদায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এমন একটি অমূল্য ইতিহাস উপহার দিয়ে ড. মোহাম্মদ আমীন চকরিয়াবাসীকে কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করে গিয়েছেন। তবে চকরিয়াবাসী তাকে কিছুই দেননি। শুনেছি, বরং বইয়ের কিছু সত্যভাষণের জন্য তাঁকে পরোক্ষভাবে অপদস্থ হতে হয়েছে। ইতিহাস অতি নিষ্ঠুর, যা ঘটে তা নিয়ে ইতিহাস হয়। তাই ইতিহাস রচয়িতাকে সত্য বর্ণনার জন্য যদি সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে গ্রন্থের গ্রহণযোগ্যতা বরং আরও বেড়ে যায়। আসলে, এদেশে সত্যিকার গুণীর কদর নেই বলে গুণী জন্মায় না, বিকশিত হয় না।

‘চকরিয়ার ইতিহাস’ গ্রন্থটি ছয়ত্রিশ অধ্যায়ে পরিব্যাপ্ত। এখানে  চকরিয়ার প্রাচীনত্ব, জনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ; আয়তন, অবস্থান ও প্রশাসনিক কাঠামো; চকরিয়ার নামকরণ, ইউনিয়ন ও গ্রামসমূহের নামকরণ, চকরিয়ার প্রাগৈতিহাসিক যুগের ইতিহাস, সামন্ত শাসন, চন্দ্র ও দেব বংশের আমলে চকরিয়া, ভেসালি রাজ্য ও মুসলিম অভিযান, চকরিয়ায় মুসলমানদের আগমন, সুলতানি আমল, আফগান আমল, চকরিয়ায় শাহ শুজা, আরাকানি আমল,  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে চকরিয়া, ব্রিটিশ আমল, মুক্তিযুদ্ধ ও চকরিয়া, চকরিয়ার পার্লামেন্ট প্রতিনিধি, ঐতিহ্যময় চকরিয়া, চকরিয়ার

ঐতিহ্য ও কৃষ্টি, চকরিয়ার সুন্দরবন, ইসলামি ও আধুনিক শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া, সাংবাদিক, সংবাদপত্র ও প্রকাশনা, ধর্ম ও ধর্মীয় উৎসব, ধর্ম ও ধর্মীয় বিকাশ, রাখাইন ভাষা ও সাহিত্যাঙ্গন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান, জাতীয় উন্নয়নে চকরিয়ার ভূমিকা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, লবণ ও হিমায়িত মাছ, চকরিয়ার বাইরে চকরিয়া, একনজরে চকরিয়া প্রভৃতি বিবরণ  বিশ্বাসযোগ্য তথ্যসহ চমৎকার ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। আমি মনে করি, ড. আমীনের লেখা ‘চকরিয়ার ইতিহাস’ গ্রন্থটি বাংলাদেশের আঞ্চলিক ইতিহাসের একটি অনবদ্য সংযোজন।

চকরিয়া ও কক্সবাজারবাসী ছাড়াও এ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আগ্রহী সবার কাছে বইটি একটি অমূল্য সংগ্রহ হিসাবে বিবেচিত হবে। আমি এমন একটি ইতিহাস রচনার জন্য আমীনকে সাধুবাদ জানাই। চকরিয়াবাসীর উচিত ‘চকরিয়ার ইতিহাস’ গ্রন্থের রচয়িতাকে সম্মানিত করে তাঁদের উদারতাকে আরও মহীয়ান করে তোলা।

অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি লিংক:

শুবাচ লিংক

শুবাচ লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

নাটোর জেলার নামকরণ

চকরিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য

 

error: Content is protected !!