চুত চুতমারানি চোদা চোত, চূত চ্যুত: বাংলা বানান শ্লীল অশ্লীল ব্যবহার অর্থ প্রয়োগ

ড. মোহাম্মদ আমীন

চুত চুতমারানি চোদা চোত, চূত চ্যুত: বাংলা বানান শ্লীল অশ্লীল ব্যবহার অর্থ প্রয়োগ

চুত চুতমারানি চোদা চোত, চূত চ্যুত খানকি মাগি চুদুরবুদুর কাফের মালাউন বারোভাতারি: বাংলা বানান শ্লীল অশ্লীল ব্যবহার অর্থ প্রয়োগ

চূত চ্যুত চুত চুদ চোদা চুতমারানি খানকি মাগি বেশ্যা

সংযোগ: https://draminbd.com/চুত-চুতমারানি-চোদা-চোত-চূ/

 

খানকিটা এসেছে ইরান থেকে
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাংলায় গু এসেছে পারস্য থেকে। অর্থাৎ গু ফারসি শব্দ। ফারসি গু অর্থ বিষ্ঠা, মল, পুরীষ। খানকি শব্দটাও ফারসি।খানকি অর্থ যৌনকর্মী। খান শব্দটাও পারস্য থেকে এসেছে। খান এসেছে, খানকি আসবে না? খান কি কথার অর্থ বিশ্লেষ— আপনিকি খাচ্ছেন? না। (প্রশ্নটির উত্তর হ্যাঁ/না দিয়ে দেওয়া যায়। তাই ঈ-কার হবে না।)।
 
খানকি বাংলায় একটি প্রচলিত গালাগাল। খানকি মানে অসতী বা যৌনকর্মী। কিন্তু এই শব্দটির উৎপত্তি ফারসি ‘খানগি’ থেকে। খানগি অর্থ গুপ্ত বা সিক্রেট। তবে খানকি শব্দটি বাংলায়  উৎস অর্থ হারিয়ে প্রথমে গুপ্ত প্রণয়িনী, পরে যৌনকর্মী অর্থে স্থিতি পায়।
 
খান, খানদান, খানসামা, খানদানি, খানবাহাদুর (তুর্কি+ফারসি) এসবের সঙ্গে অনিবার্য গুটাও তাদের শরীরে ভর করে পারস্য থেকে উপমহাদেশে চলে এসেছে। এই যেমন— ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খান, আয়ুব খান। 
 
মল, বিষ্ঠা,পুরীষ প্রভৃতি খাতাকলমে, কিন্তু গু সবার মুখে মুখে। সহজ শব্দ সহজে বলা যায়। গু মলস্থান হয়ে জিহ্বায় এবং জিহ্বা থেকে মুখে আসে। এটি যতবার মুখে আসে ততবার পায়খানা বা মলস্থানে যায় না। মুখটাই পায়খানা হয়ে যায়। গু শব্দটি মানুষ যতবার যতভাবে জিহ্বার সাহায্যে উচ্চারণ করে ততবার ততভাবে মলদ্বার কিংবা পেটে ধ্বনিত হয় না। ওখানে ওরা সুপ্ত থাকে। মুখে এসে ধ্বনিত হয়। এজন্য বলা হয়, জিহ্বার চেয়ে মারাত্মক গুস্রষ্টা আর হয় না। আমাকে ভুল বুঝবেন না। গু থেকে কিন্তু গুরু নয়। গুরু (√গৃৃ+উ) তৎসম, মানে সংস্কৃত। তবে গুরুপাক খেলে খবর আছে। গুরুপাক, গুরুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পেটের মধ্যে আন্দোলন শুরু করে দিতে পারে। গুরুপাক কিন্তু গুরুর বা গুরুগিন্নির রাঁধা খিচুড়ি-বিরিয়ানি নয়, সহজে হজম হয় না এমন খাদ্য

আরবি ফাজিলের ফারসি গু

ফারসি খানদানি হাজরা-হাজরির হাজি খানদান এক হালি তুর্কি বেগম, দুই খান-খানম, তিন পোর্তুগিজ আয়া এবং চার ফারসি খানসামার সাহায্যে তুর্কি-ফারসি খানবাহাদুরের আরবি খানকার ফারসি খানায় (বারান্দা) বসে হিন্দি খানা (খাদ্য) খাচ্ছিলেন। এসময় ফারসি খানকিগিরিতে ওস্তাদ এক আরবি ফাজিল ও দুই ফারসি খানকি হাজির হয়ে ইংরেজি কার্পেটে ফারসি গু নিক্ষেপ করে পালিয়ে যাবার সময় দেশি খানায় (গর্ত) পড়ে সংস্কৃত পটোল তুলে আরবি কায়দায় দেশের মাটিতে চিত হয়ে গেলেন।
আরবি হুজুর রোমান কোরোনার ভয়ে জানাজা পড়াতে এলেন না।

কসবা ও কসবি যৌনকর্মী গণিকা বেশ্যা

কসবা: কসবা আরবি থেকে এসেছে। বাংলায় আরবি কসবা অর্থ (বিশেষ্যে) গ্রামের চেয়ে বড়ো কিন্তু শহরের চেয়ে ছোটো জনপদ; সমৃদ্ধ ও উন্নত গ্রাম; বর্ধিষ্ণু গ্রাম; যে গ্রামে হাটবাজার আছে।
কসবি: কসবি, কসবার স্ত্রীলিঙ্গ নয়। এটি ফারসি শব্দ। ফারসি কসবি অর্থ (বিশেষ্যে) যৌনকর্মী, গণিকা, বেশ্যা। যৌনকর্মীরা সাধারণভাবে বেশ্যা নামে পরিচিত।
ওহ কসবিকসবা যাবি?
বল-না, কত টাকা দিবি?
টাকা দিয়ে কী করিবি?
তুই কি আমায় বিয়ে করে সংসারে তোর নিয়ে যাবি?
কসম, কসরত, কসাই ও কসুর- আরবি থেকে আগত।

চূত চ্যুত : মা একটা চূত দাও।

চূত (চুতো): সংস্কৃত চূতো (√চূৎ+অ) অর্থ (বিশেষ্যে) আমগাছ, আম, চূতমঞ্জরি, আমের মুকুল বা শিষ। শব্দটির উচ্চারণ চুতো
প্রয়োগ: মা একটা চূত দাও। চূত গাছে চূত, পাকলে খাবে ভূত। চূতমঞ্জরিতে ভরে গেছে সব চূতগাছ।
 
চ্যুত (চুতো): ‘চ্যুত (√চ্যু+ত)’ অর্থ (বিশেষণে) চুয়ে পড়ছে এমন, ক্ষরিত, পতিত (বৃন্তচ্যুত), নির্দিষ্ট পথ থেকে অপসারিত (কক্ষচ্যুত), বহিষ্কৃত, বিতাড়িত (পদচ্যুত)। শব্দটির উচ্চারণ চুতো। অনুরূপ: চ্যুতাধিকার, চ্যুতি।
 
প্রয়োগ: পদচ্যুত রাষ্ট্রপতিকে দেশচ্যুত করা হয়েছে।  বৃন্ত থেকে চ্যুত হয়ে পাকা চূতটি মাটিতে পড়ামাত্র ছেলেরা দৌড় দিল। কাছে গিয়ে দেখল: চ্যুত চূতটি বালি লেগে নষ্ট হয়ে গেছে।
 
নিমোনিক: চূত ও চ্যুত উভয় শব্দের উচ্চারণ চুতো, কিন্তু বানান ভিন্ন। শব্দের প্রথমে থাকা য-ফলা অনুচ্চারিত থেকে যায়। চ্যুত শব্দের চ-য়ে যুক্ত য-ফলার উচ্চারণ হয় না। তাই বানান ভুল হয়ে যেতে পারে। মনে রাখুন, চুয়ে পড়ার অবলম্বন হিসেবে চ্যুত বানানে য-ফলা দেওয়া হয়েছে।
 
চোদা  অর্থ: যৌনক্রিয়া, আধুনিক, উপযুক্ত,   আনন্দদায়ক, সক্রিয়, বন্ধুত্বপূর্ণ, ভাগ্যবান, গুরুতর, অস্থির, স্বাভাবিক, মনোযোগী, উদার প্রভৃতি। তবে  চোদা শব্দটি যৌনক্রিয়া অর্থ ছাড়া অন্যসব  অর্থে এখন ব্যবহৃত হয় না। শব্দটি এখন অশ্লীল শব্দ হিসেবে পুরুষের যৌনাঙ্গ নারীর জননাঙ্গে প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়া অর্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
 
 
‘চূত অর্থ ‘আম’। আম অর্থ প্রকাশক চূত বানানের চ-য়ে ঊ-কার এবং উচ্চারণ চুতো। যদি চ-য়ে হ্রস্ব উ-কার দেওয়া  চুত শব্দের উচ্চারণ হবে চুত। আঞ্চলিক অশ্লীল শব্দ হিসেব বহুল পরিচিত ও ব্যবহৃত  ‘‘চোদা’  থেকে চুত’ শব্দের উদ্ভব। চুত ক্রিয়াবাচক এবং ‘মারানি’ কর্তৃবাচক। সে হিসেবে চুতমারানি শব্দের অর্থ দাড়ায়: যৌনকর্ম করে যে। তবে এই যৌনকর্ম অবৈধ যৌনকর্ম নির্দেশ করে।  অর্থাৎ যে বা যারা অবৈধ যৌনক্রিয়া করে তারাই ‘চুতমারানি’।  যৌনকর্ম নারীপুরুষ উভয়ে করে। তবে চোতমারানি শব্দটি স্ত্রীবাচক। পুরুষরা নিজেদের সাধু হিসেবে প্রকাশের জন্য এর পুংজ্ঞাপক শব্দ রাখেনি।
 
চোদা শব্দের অনেকগুলো  অর্থ ছিল। যেমন—  আধুনিক, উপযুক্ত, শিহরণ, শৃঙ্গারমূলক,   আনন্দদায়ক, সক্রিয়, বন্ধুত্বপূর্ণ, ভাগ্যবান, গুরুতর, অস্থির, স্বাভাবিক, মনোযোগী, উদার, প্রেমময়। তবে  চোদা শব্দটি এসব অর্থ হারিয়ে আঞ্চলিকভাবে কেবল যৌনক্রিয়া অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। অভিধানমতে, চোদ, চোদা  অশ্লীল শব্দ হিসেবে পুরুষের যৌনাঙ্গ নারীর জননাঙ্গে প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়া অর্থ জ্ঞাপনে  ব্যবহৃত হয়।
চোত: চোত বাংলা শব্দ। এটি  চৈত্র শব্দের আঞ্চলিক রূপ।
 
 
হেটার্স
এখন ‘হেটার্স’ শব্দটি খুব প্রচলিত। আগে হেটার্স শব্দের সঙ্গে আমরা পরিচিত ছিলাম না। হেট (Hate) শব্দটিই প্রচলিত ছিল।  কারও প্রতি তীব্র ঘৃণা হলে  বলা হতো, I hate you.”। ‘হেটার্স’ অর্থ সরাসরি ‘ঘৃণাকারী’ নয়। এখানে হেটার্স শব্দটি খেলাধুলার ক্ষেত্রেই বেশি দেখা যায়। সচিন হেটার্স, কোহলি হেটার্স থেকে রোনাল্ডো হেটার্সও আছে। অর্থাৎ যারা এদের ঘৃণা করে কিংবা তাদের পছন্দ করে না, তাদের পরাজয় কামনা করে, পরাজিত হলে কিংবা খেলায় কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করতে না-পারলে খুশি হয় তাদের ওই ব্যক্তির হেটার্স বলা হয়। বাংলায় বলা যায় বিরুদ্ধকারী।   “যারে দেখিতে নারি তার চলন বাঁকা”–এর প্রথম ক্লজটি যারে দেখতে নারিগণই অধুনা হেটার্স। আপনি জনপ্রিয় কোনো খেলোয়াড় বা তারকাকে নিয়ে একটা বিরূপ মন্তব্য লিখে দিন। দেখবেন তাঁর ভক্তরা এসে আপনাকে হেটার্স বানিয়ে একযোগে আক্রমণ শুরু করেছে। এসব তারকারাও তাঁদের হেটার্সদের ভালোই চেনেন। রোনাল্ডো বলেন, They Hate me because I am too good. Your Hate makes me strong, your loves makes me unstable.
 
 
চুদুরবুদুর
‘চুদুরবুদুর’ এ শব্দটি নিয়ে একবার সংসদে আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। ফেনীর বাসিন্দা রেহানা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়া কোনো চুদুরবুদুর চইলত ন।” ব্যস সংসদে হৈচৈ বয়ে যায়। এটি অশালীন বলে সংসদ থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ওঠে। কলকাতার আনন্দবাজার পর্যন্ত চুদুরবুদুর নিয়ে গবেষণায় নামে। সৌভাগ্যক্রমে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী হলেন আরেক নোয়াখাইল্লা। তিনি ঘোষণা দেন, চুদুরবুদুর কোনো অশালীন শব্দ নয়। চুদুরবুদুর গ্রাম্য শব্দ, তবে অশ্লীল নয়। চুদুরবুদুর শব্দের অর্থ বাড়াবাড়ি বা গড়িমসি করা। বহু আগে ফেনী কলেজের এক আন্দোলনের শ্লোগান ছিল,
“হেনি কলেজের টেঁয়া লই চুদুরবুদুর চোইলতো ন।”
 
 
কাফের 
 
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘কাফের’ শব্দের দুটি অর্থ দেওয়া হয়েছে। প্রথমটি আল্লার অস্তিত্বে অবিশ্বাসী এবং দ্বিতীয়টি নাস্তিক। প্রথম অর্থ বিবেচনা করলে দেখা যায়, আল্লাহর অস্তিত্ব যারা বিশ্বাস করেন না তারা ‘কাফের’। মুসলিম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মানুসারীগণ আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না। তাই তারা কাফের।পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ৭৬০ কোটি। তন্মধ্যে মসুলিম ১৬০ কোটি (এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ নাস্তিক/ উদারপন্থী )। এই অর্থে পৃথিবীতে কাফের ৫২০ কোটি। দ্বিতীয় অর্থ বিবেচনা করলে দেখা যায়, ‘কাফের’ শব্দের অর্থ নাস্তিক বা উদারপন্থী। সোজা কথায় প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে যাদের কোনো আস্থা ও বিশ্বাস নেই তারাই ‘কাফের’। এরা কারো এবাদত করেন না। পৃথিবীতে বর্তমানে ঘোষিত ও অঘোষিত কাফেরের সংখ্যা ৮০ কোটি।
 
মালাউন
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে গালি হিসেবে ব্যবহৃত আরবি ‘মালাউন’ শব্দের অর্থ যথাক্রমে (১) অভিশপ্ত, (২) কাফের ও (৩) শয়তান। অতএব কাফেরগণও মালাউন। শয়তানও মালাউন।
কিন্তু কোরআন মতে ‘কাফের’ শব্দটি আরো সুনির্দিষ্ট। সূরা আল কাফিরুন- এ বলা হয়েছে,
“বলুন, হে কাফেরগণ,
আমি তার এবাদত করি না, তোমরা যার এবাদত কর।
তোমরাও তার এবাদতকারী নও, আমি যার এবাদত করি
আমি তার এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর।
তোমরা তার এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি।
তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য এবং আমার ধর্ম আমার জন্য।”
কোরআনের এই আয়াতে কাফের শব্দটি যে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে সে অর্থ ধরে নিলে বলতে হয়, কাফের অর্থ নাস্তিক নয়, আল্লাহর অস্তিত্বে অবিশ্বাসী বা অমুসলিম। নাস্তিকেরা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাসী নন, তাই তারা কারো এবাদত করেন না।
তবে দীর্ঘ দিন থেকে শব্দটি সাধারণ্যে তার আভিধানিক অর্থ হারিয়ে ফেলেছে। এটি এখন যত না আভিধানিক অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি ব্যবহৃত হয় গালি হিসেবে। এরূপ অনেক শব্দ আছে যেগুলো অভিধানে গালি না হলেও সাধারণ্যে গালি বলে মনে করা হয়; যেমন : শালা, মাগি ইত্যাদি।। অতএব কাফের শব্দটি গালি না হলেও গালি হিসেবে প্রায় প্রতিষ্ঠিত। গালি না হলেও এটা যিনি প্রয়োগ করেন এবং যার উপর প্রয়োগ করা হয় উভয়ে গালি মনে করেন।
 
বারোভাতারি,  ভাতার এবং মাগি
অনেক শুবাচির প্রশ্ন: বারোভাতারি কেন? কেন এগারো তেরো বা চোদ্দোভাতারি  নয়?  কারণ সংখ্যাটা ১২ বা বারো।  বারো মাসে এক বছর। ভাতারি বারো মাসই আসে এবং বারোমাসই ভাত জুগিয়ে যায়। বারো মাসে এক বছর। তাই বারো নিয়ে বাঙালিদের একটি দুর্বলতা আছে।  এজন্য নানা শব্দের সঙ্গে ভালোমন্দে বারো শব্দটি দেখা যায়। যেমন: বারোভুঁইয়া। বারোভুঁইয়া বলতে বারোজন জমিদার বোঝায়। অথচ সেকালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জমিদারের সংখ্যা বারো জন ছিল না। আরও বেশি ছিল। তারপরও বারো। কারণ,  জমিদারগণের সংখ্যা সঠিক গণনায় বারোজন না হলেও তারা বারো মাসের মতো সর্বদা মোগলদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন। তাই বারোভুঁইয়া।  অনুরূপ বারোয়ারি। বারোয়ারি= ১২+ইয়ার+ই। বাঙালি হিন্দুদের সর্বজনীন পূজা বা সর্বজনীন উৎসব ‘বারোয়ারি’ নামে পরিচিত।  ‘বারো’ (১২) ও ‘ইয়ার’ (বন্ধু) শব্দ যুক্ত হয়ে বারোয়ারি শব্দের উদ্ভব। ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ১৭৬১ খ্রিষ্টাব্দে) হুগলির গুপ্তিপাড়ায় কয়েক জন ব্রাহ্মণ বন্ধু একযোগে একটি পূজা উৎসব পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এজন্য প্রতিবেশি কয়েকজনের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করা হয়। কোনো একটা বাড়ির পুজোয় তাদের অংশগ্রহণ করতে না-দেওয়ায়, প্রতিবাদস্বরূপ তাঁরা একাজ করেছিলেন। তবে বারো হলো কেন? কারণ সংখ্যাটি বারো, বারো মাসে একবার পূজা হয়। এবং পূজাটি বারো মাসে একবার হলেও সারাবছরই তার রেশ থাকে।
 
বারোয়ারি।
ভাতার:  যে ভাত দেয় সেই ভাতার। আগে কালে যখন নারীরা বাইরে কাজ করত না তখন তার স্বামীর উপরেই তার ভরণপোষণ এর দায়িত্ব থাকতো। আর ভরণপোষণ মানেই সবার আগে আসে খাবার! বাঙালি হিন্দুদের বিয়ের পর এখনো একটা ভাত কাপড়ের অনুষ্ঠান হয় যেখানে পুরুষটিকে পরিবারের সবার সামনে তার স্ত্রীকে বলতে হয় যে “আজ থেকে আমি তোমার ভাত কাপড়ের দায়িত্ব নিলাম।” বাঙালির প্রধান খাবার মানেই ভাত। তাই ভাতার এককালে সম্মানীয় বা সাধারণ শব্দই ছিল! কিন্তু কালের বিবর্তনে তা হয়ে গেছে গালি।
 
মাগি:  মাগি মানে যাকে চাওয়া হয়। মাগ ধাতু থেকে মাগি আসে!একটা সুন্দর কবিতার চরণও আছে।
“তোমার কাছে এ বর মাগি, মরণ হতে যেন জাগি গানের সুরে।”
রবীন্দ্র বঙ্কিমেও নারীর প্রতিশব্দ হিসেবে মাগি শব্দের শুভ্র সাধারণ ব্যবহার।
যাই হোক যেটা বলতে চাচ্ছি মাগি যেমন সভ্য একটা শব্দ ছিল।
ভাতার ও তাই!
যেহেতু সমাজ পুরুষতান্ত্রিক। আর আমাদের গালিগুলো মুলত নারীকেন্দ্রিক। তাই নারীর সাথে সম্পর্কিত ভাতার বা মাগিও আজ উগ্র গালিতে পর্যবসিত।
 
 
সব বনাম সকল এবং শব
সকল:   সংস্কৃত সকল (সহ+কলা) অর্থ— (বিশেষণে) সমস্ত, সব, সমুদয়, সবাই।  বাংলায় শব্দটি বাক্যে (বিশেষ্যে) হিসেবে সমস্ত লোক অর্থ প্রকাশেও ব্যবহৃত হয়। যেমন: সকলে এসে গেছে। সকলই পুরায়ে যায় মা।
 
সব: সংস্কৃত সর্ব থেকে উদ্ভূত সব অর্থ— (বিশেষণে) সমস্ত, সকল; সর্ব; সকল লোক; সমস্ত বিষয় (সবহারা); যাবতীয় (সবকিছু) প্রভৃতি। যেমন:  সব শেষ হয়ে গেল। সব দেখি অন্ধকার। তবে সব অর্থে শব লিখতে যাবেন না। শব অর্থ মরদেহ, মারা গেছে এমন লোকের দেহ। সব শব পচে গেছে।
 
অর্থ বিশ্লেণে দেখা যায়, সকল ও সব সমার্থক। ইদানীং সব শব্দটির ব্যবহার সকল শব্দের চেয়ে অধিক দেখা যায়। সাধু ভাষায় সাধারণত সকল শব্দটি ব্যবহার করা হয়।  তবে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে সকল ও সব শব্দের মধ্যে সাধু-চলিত কোনো বিভাজন টানা হয়নি।
 
বাঁধা ও বাধা
বাধা: ‘বাধা’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ obstacle/ impediment। এই বাধায় রশি লাগে না, শক্তি ও ইচ্ছা হলে চলে। যেমন: কাউকে ‘বাধা’ দিতে রশি অনিবার্য নয়। আমাকে বাধা দিতে এসো না। মুক্তিযোদ্ধারা সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে গেল।রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:
“বাধা দিলে বাঁধবে লড়াই, মরতে হবে
পথ জুড়ে কি করবি বড়াই, সরতে হবে।”
 
 
বাঁধা: ‘বাঁধা’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ tie. এই কাজটি করতে হলে সাধারণত রশি লাগে। এটি সংস্কৃত বন্ধন শব্দের অতৎসম রূপ। বন্ধন থাকলে চন্দ্রবিন্দু থাকবে। তাই হৃদয়ের বন্ধনজনিত বাঁধায় রশি না লাগলেও চন্দ্রবিন্দু দিতে হয়। চন্দ্রবিন্দু মনে করুন হৃদয়ের স্মারক যেমন:
চোরটাকে রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধ। হাতপা বেঁধে তাকে গুলি করা হয়েছে। প্রেমের বাঁধা ছেঁড়া অত সহজ নয়। ভালোবাসার বাঁধা কোনো বাধাই মানে না। এই কটি বাঁশ বেঁধে বাধা দেবে নদী জল?
রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:
“বাঁধন-ছেঁড়ার সাধন হবে
ছেড়ে যাব তীর মাভৈ রবে।”
 
নিমোনিক:
১. বাঁধতে রশি লাগে। চন্দ্রবিন্দুটাই মনে করুন রশি। কাউকে বাধা দিতে রশি লাগে না। তাই চন্দ্রবিন্দু নেই। হার্দিক বন্ধনে রশি না লাগলেও হৃদয়ের সম্পর্ক আলোকিত রাখার জন্য প্রেম ভালোবাসার বাঁধনেও চন্দ্রবিন্দু দিতে হয়।
২. বন্ধ্ থেকে বাঁধ, বন্ধন>বাঁধন। দন্ত্য-ন চলে গেছে বলে চন্দ্রবিন্দু এসেছে। কিন্তু বাধ্ থেকে বাধ, বাধা, বাধন। বাঁধ বা বাঁধন ছিঁড়ে ফেলা যায়। বাধাকে অতিক্রম করতে হয়।
 
বেয়ারা ও বেয়াড়া
 বেয়ার শব্দের বহুল প্রচলিত অর্থ—  অফিসের ‘বেয়ারা’ । বেয়ারা ইংরেজি bearer ( বেয়ারার) শব্দের বিকৃত রূপ। এর বাংলা অর্থ— বাহক। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে,   ইংরেজি বেয়ারা অর্থ— (বিশেষ্যে) আজ্ঞাবাহী, পরিচারক। এরূপ আর একটি শব্দ আছে— বেয়াড়া। বাংলা বেয়াড়া শব্দের অর্থ—  (বিশেষণে)  সহজে বশে আনা যায় না এমন, একরোখা। অনেক বেয়ারা খুব বেয়াড়া হয়। বেয়াড়া বেয়ারাকে মনিব পছন্দ করেন না।
 
মাগি  মাগি শব্দের ইতিহাস শব্দটি কীভাবে এল
 
মাগি শব্দটি কোনো খারাপ শব্দ হিসেবে জন্ম নেয়নি। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সহ তখনকার অনেক নামীদামী লেখকরাই এ শব্দটি তাদের সাহিত্যে ব্যবহার করতেন। শব্দটি রবীন্দ্রযুগ থেকে সাহিত্যে প্রায় অচলিত হয়ে যায়। রাজশেখর বসুর চলন্তিকায় শব্দটি অশিষ্ট, কিন্তু মাগী বানানে। যদিও শব্দটি তদ্ভব যেকোনো ব্যুৎপত্তির দিক থেকে, আর তাই ই-কার ব্যবহার করাটাই রীতি।
জ্ঞানেন্দ্রমোহনে আছে সংস্কৃত মাতৃগাম থেকে পালিতে মাতুগাম, সে থেকে প্রাকৃতে মাউগ্গাম, তা থেকে মাউগ, মাগু এবং মাগী (পুরনো বানানে)। রালফ লিলি টার্নারের ইন্দো-আর্য ভাষার তুলনামূলক অভিধানেও প্রায় একই ব্যুৎপত্তি। হরিচরণের মতে শব্দটি মাগ-এর সাথে ই যোগে নিষ্পন্ন, মাগ এসেছে মাউগ বা মাগু থেকে, মৈথিলিতে মৌগী বা মাগু দুইয়েরই অর্থ নারী। সুকুমার সেনের ব্যুৎপত্তি-সিদ্ধার্থে শব্দটি মার্গিতা থেকে, যার অর্থ মাগিবার জিনিস।
১৯৭৫ পূর্ববর্তী অসংখ্য বাংলা চলচ্চিত্রে মাগি শব্দটি আদুরে ডাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ! বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়েও কোনো কৃষক জমি থেকে ফিরে এসে উঠোনে বসে বউয়ের উদ্দেশ্যে হাঁক ছাড়তেন,আমার মাগি কোথায় রে?
বলাবাহুল্য, মাগি সম্বোধন তখন ছিলো অত্যন্ত আদরের। এখনো কিছু কিছু অঞ্চলে মাগি বলতে নারী, মহিলা বা স্ত্রী লিঙ্গদের বোঝানো হয়। তবে বেশিরভাগ মানুষই এখন এ শব্দটির দ্বারা পতিতা বা গণিকাদের বুঝেন। তবে গুগল ডিকশনারীর মতে, সেটা মাগি নয়, মাগী !
কালে কালে মাগি’র কী হাল হয়ে গেলো। এটা এখন একটা গালি… [ Mohammad Jikrullah মাগি  মাগি শব্দের ইতিহাস, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)।]

উত্থান মাগি

কথায় বলে, এক দেশের গালি, আরেক দেশের বুুলি। শুধু দেশ নয়, অঞ্চলভেদেও এমন দেখা যায়। কয়েক মাইল গেলেও শব্দের অর্থ-পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশের অনেক গ্রাম এলাকায় ‘মহিলা’ শব্দের পরিবর্তে হরদম মাগি বলা হয়। এতে কেউ কিছু মনে করে না। আবার অন্য অঞ্চলে এটাকে গালি ও খারাপ স্বভাবের মেয়ে অর্থদ্যোতক মনে করা হয়।
পুরানো অভিধানেও মাগি শব্দের অর্থ মেয়ে বলা আছে। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে বলা হয়েছে, বাংলা মাগি অর্থ: (অশিষ্ট) প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীলোক, যৌনকর্মী।
রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:
“তোমার কাছে এ বর মাগি/ মরণ হতে যেন জাগি/ গানের সুরে।
যেমনি নয়ন মেলি, যেন/ মাতার স্তন্যসুধা-হেন/ নবীন জীবন দেয় না পূরে।”
কবি আবদুল কাদির (১৯০৬-১৯৮৪ খ্রি. ) জয়যাত্রা কবিতায় লিখেছেন
“তোমার উত্থান মাগি ভবিষ্যৎ রয়ে প্রতীক্ষায়,
রুদ্ধ বাতায়ন পাশে শঙ্কিত আলোক শিহরায়।”
রবীন্দ্রনাথ আর কবি আবদুল কাদিরের মাগি যৌনকর্মী অর্থদ্যোতক মাগি নয়। এই মাগি অর্থ চাই, প্রার্থনা করি।

বোদা ভোঁদা ও ভোদা

বোদা দেশি শব্দ।বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত বোদা শব্দের অর্থ স্বাদহীন, বিস্বাদ প্রভৃতি। স্থান-নাম বিশ্লেষণে অর্থ পাওয়া যায়— জ্ঞানী, বোদ্ধা, পণ্ডিত, ঈশ্বর, বোয়াল মাছ প্রভৃতি। এক্ষেত্রে ‘বোদ্ধা’ বা ‘জ্ঞানী’ শব্দ হতে ‘বোদা’ শব্দের উদ্ভব। যেমন:
বুদ্ধ ছিলেন যুগের শ্রেষ্ঠ বোদা(জ্ঞানী, পণ্ডিত)।
ঢাকার যানজট জীবনটাকে বোদা(বিস্বাদ) করে দিল।
বোদা(বোয়াল মাছ) মাছটি ধরতে অনেক কষ্ট হয়েছে।
অনেকের মতো, ‘বোদা’ শব্দটি গৌতম বুদ্ধের সংক্ষিপ্ত নাম ‘বুদ্ধ’ শব্দের আঞ্চলিক রূপ। বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলায় ‘বোদা’ নামের একটি উপজেলা রয়েছে।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘ভোদা’ বানানের কোনো শব্দ নেই। তবে ‘ভোঁদা’ বানানের একটি শব্দ আছে। অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত দেশি ‘ভোঁদা’ শব্দের অর্থ— স্থূলকায়, মোটা, মাংসল, স্থূলবুদ্ধি, বোকা, হাবাগোবা ইত্যাদি। যেমন:
ভোঁদা (স্থুলকায়) ছেলেটির হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে।
ছেলেটি এত ভোঁদা(হাবাগোবা) যে, নিজের নামটিও ভালোভাবে বলতে পারে না।
অন্যান্য:
 
শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ
আশুতোষ দেব সংকলিত ও দেব সাহিত্য কুটীর থেকে প্রকাশিত নূতন বাঙ্গালা অভিধান প্রবচন-সংগ্রহ (সংশোধিত তৃতীয় সংস্করণ, জানুয়ারি ১৯৫৯) থেকে পাই: “শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ … শঠের সহিত শঠতাই বিধেয়! যেমন কুকুর, তেমন মুগুর। ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। Tit for tat.
“স্বর্ণখণ্ডং ভবেৎ তাম্রং বণিকপুত্র মর্কটং
সরলে সারল্যং কুর্যাৎ, শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ”
অর্থ: স্বর্ণখণ্ড হয়েছে তাম্র, বণিকপুত্র মর্কট(বানর) কাজেই সরলের সাথে সারল্য করবে, শঠের সাথে শঠের সমান আচরণ করবে”। এটা একটা উপদেশমূলক প্রাচীন গল্পের সারকথা। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের হিতোপদেশমূলক একটি গল্পের কাহিনি থেকে শ্লোকটি গৃহীত ও প্রচলিত।  এক পণ্ডিত তীর্থযাত্রাকালে প্রতিবেশি বণিকের কাছে কিছু স্বর্ণমূদ্রা গচ্ছিত রাখতে গেলে বণিক তাঁকে নিজহাতে বণিকের সিন্দুকে রেখে যেতে বলল। পণ্ডিত ফিরে আসার পর বণিক সিন্দুক খুলে দিয়ে তাঁকে বলে, কর্তা আপনি যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন সেভাবেই আপনার থলেটে আছে, নিজহাতে নিয়ে যান। থলে বাড়িতে নিয়ে পণ্ডিত দেখলেন ভেতরে সব তাম্রমূদ্রা। পরে বণিক বাণিজ্যযাত্রাকালে তার পুত্রকে পণ্ডিতের বাড়িতে রেখে গেল। ফিরে এলে পণ্ডিত বললেন, যে ঘরে রেখে গিয়েছিলে ওখানেই তোমার পুত্র আছে নিয়ে যাও। বণিক দেখল: ওই ঘরে একটি বানর(মর্কট) বাঁধা আছে।
“স্বর্ণখণ্ডং ভবেৎ তাম্রং বণিকপুত্র মর্কটং
সরলে সারল্যং কুর্যাৎ, শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ।।
 
 
 
 

√— — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — —√

আবশ্যিকভাবে আপনার আগ্রহ সৃষ্টি করবে এমন কয়েকটি লিংক: প্রয়োজনীয় কিছু লিংক:
শুবাচ গ্রুপ এর লিংক: www.draminbd.com

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি

শুবাচ আধুনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান

 

এক মিনিট সময় দিন বানানগুলো শিখে নিন

 
 
 
 
 
 
error: Content is protected !!