চোরের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চোরের ভিটা গ্রাম: ইতিহাস ও নামকরণ

 
চোরের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের চোরের ভিটা গ্রামে অবস্থিত। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে কতিপয় শিক্ষানুরাগীর উদ্যোগে চোরের ভিটা গ্রামে চোরের ভিটা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পায়। যা ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে সরকারি হয় এবং নাম হয় চোরের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়এমন নাম কেন?
একসময় পূর্বধলা, ঘাগড়া, বাঘবেড়, নারায়ণডহর, মুক্তাগাছা প্রভৃতি এলাকা সুসঙ্গ ও শেরপুরের জমিদারদের শাসনাধীন ছিল। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দের

ড. মোহাম্মদ আমীন

শেষ দিকের কথা। সেসময় সুসঙ্গ পরগনার অন্তর্ভুক্ত বর্তমান পূর্বধলা ছিল সুসঙ্গ জমিদারের শাসনাধীন অনেকগুলো এলাকার অন্যতম একটি। তখন সুসঙ্গ জমিদারের প্রভাবাধীন অনত্যম প্রধান জমিদার রামচরণ মজুমদার পূর্বধলার জমিদার ছিলেন।

 
কথিত হয়, জমিদার রামচরণ মজুমদারের এক অত্যচারী নায়েব এলাকাটির খাজনা আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন। তখন সারাদেশে ব্রিটিশ ও জমিদার বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে। একদিন ওই অত্যাচারী নায়েব খাজনা নিতে এলে কিছু দেশপ্রেমী বিদ্রোহী যুবক কৌশলে খাজনার রশিদ বহি ও দাখিলা চুরি করে নিয়ে যান। নায়েব জমিদারকে অভিযোগ করেন। জমিদার রামচরণ মজুমদার পেয়াদা পাঠিয়ে রশিদ বহি উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অতঃপর  রেগে গিয়ে মৌজাটির নাম রাখেন চোরের ভিটা। একই সঙ্গে জমিদারের নির্দেশে চোরের ভিটা নাম দিয়ে মৌজার নতুন খতিয়ান খুলে  সরকারি দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সে থেকে সরকারি নথিপত্র ও দাখিলায় মৌজাটি চোরের ভিটা নামে স্থায়ী হয়ে যায়। যা থেকে চোরের ভিটা গ্রাম নামের উদ্ভব। এর আগে মৌজাটি নাটেরকোনা মৌজার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
 
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্কুলের এমন অশোভন নাম দেখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আক্রাম আল হোসেন নেত্রকোনার জেলাপ্রশাসককে বিস্তারিত জেনে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ করেন। তৎপরিপ্রেক্ষিতে চোরের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নাম পরিবর্তন করে আলোর ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রস্তাব করা হয়। আশা করা হচ্ছে অচিরে চোরের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামটি আলোর ভুবন প্রাথমিক বিদ্যালয় নাম পাবে। উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক জনাব মঈনউল ইসলামের পরামর্শক্রমে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ উম্মে কুলসুম চোরের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে  নতুন নাম আলোর ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রস্তাব করেন।
 
একই সঙ্গে সরকার দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাভাবিক বিবেচনায় শোভনীয় নয় এমন নামের যেসব বিদ্যালয় আছে সেসব বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তৎপরিপ্রেক্ষিতে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পলিসি ও অপারেশন পরিচালক খালিদ আহম্মেদ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এরূপ অশোভন নামের বিদ্যালয়সমূহের নাম পরিবর্তন করে ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শােভনীয় নামকরণের প্রস্তাব আগামী ৩০শে আগস্টের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে প্রেরণের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে পত্র জারি করেন। ইতোমধ্যে নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার ‘মানুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের’ নাম পরিবর্তন করে ‘মানুষ গড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ করা হয়েছে।
 
প্রসঙ্গত, ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে পূর্বধলা উপজেলা সুসঙ্গ দুর্গাপুর নেত্রকোনা সদর থানার একটি ফাঁড়ি ছিল। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে আগস্ট সেক্রেটারি গভর্নমেন্ট অব বেঙ্গল মিস্টার এইচ জে টিনামের আদেশক্রমে পূর্বধলাকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করা হয়।
——————
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
 
error: Content is protected !!