ছিনিমিনি: খোলামকুচি

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ:  https://draminbd.com/ছিনিমিনি-খোলামকুচি/
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, দেশি ছিনিমিনি অর্থ— (বিশেষ্যে) জলাশয়ে খোলামকুচি ছুড়ে ভাসানোর খেলাবিশেষ, স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থের অপচয়। এর আলংকারিক ও প্রায়োগিক অর্থ— অনর্থক নষ্ট করা বা বেহিসেবিভাবে ব্যয় করা।অবিবেচকের মতো কাজ করা, অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত প্রভৃতি।
শান্ত জলাশয় বা পুকুরে শিশুদের এক প্রকার জলখেলা (ছিনিমিনি) থেকে শব্দটির উদ্ভব। এ খেলায় খোলামকুচি অর্থাৎ মাটির হাঁড়ি-পাতিলের ভাঙা টুকরো বা চ্যাপ্টা টুকরো পানিতে এমনভাবে ছোড়া হয় যে, ওটি ক্রমান্বয়ে একবার পানি ছুঁয়ে, একবার শূন্যে ভেসে অদ্ভুত গতিতে অনেকটা ভয়ে ধাবমান হাঁসের মতো বা ব্যাঙের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে অনেকদূর ছুটে যায়। এভাবে যার ছোড়া খোলামকুচি যত বেশি দূর যায় সেই খেলায় জয়ী হয়।
ইংরেজিতে খেলাটির নাম Play at ducks and drakes. বাংলায় ছিনিমিনি ছাড়াও স্থানভেদে ব্যাং-চালানো, ব্যাং-চুরচুরি প্রভৃতি নামে পরিচিত। খেলাটি একসময় শিশুদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। গ্রামে এখনো ‘ছিনিমিনি’ নামের খেলাটি পরম আনন্দে উপভোগ করে। শিশুরা সুবিধাজনক আকারের খোলামকুচি না-পেলে অনেক সময় বাড়ির ভালো হাঁড়ি-পাতিল ভেঙে টুকরো টুকরো করে ছিনিমিনি খেলায় মেতে উঠত। আমি নিজেও এমন অনেক বার করেছি; বকা-মারও খেয়েছি।
খেলার ছলে মূল্যবান কিছু নষ্ট করার শিশুসুলভ প্রক্রিয়াটা শিশুদের হাত থেকে বড়োদের কাজে এবং মুখের ভাষায় চলে আসে।শুধু খোলামকুচি ছোড়া নয়, ছোটবেলার খামখেয়ালিপূর্ণ, কিন্তু আনন্দ-উৎসরিত সব খেলাকেই ছিনিমিনি খেলা বলা হতো। একে অপরের গায়ে ধুলো ছোড়াছুড়ি করতে দেখে কী করা হচ্ছে প্রশ্নের জবাবে বলা হতো— ‘ছিনিমিনি’ খেলা হচ্ছে। এখন শিশুদের ওই নিষ্পাপ ছিনিমিনি নামের তুচ্ছ খোলামকুচি রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ-সহ বড়োদের মুখে মুখে ভেসে বেড়ায় হিংসাবাণী হয়ে

কপোতপালিকা

কবুতর বা পায়রার বাসা বা খোপকে এককথায় বলা হয় কপোতপালিকা। কপোত অর্থ কবুতর বা পায়রা। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত কপোতপালিকা (কপোত+পালিকা) একটি তৎসম শব্দ। এখানে কপোত, পালিত হয়।তাই কপোতপালিকা
error: Content is protected !!