ছড়া: সুকমার রায়: সুকুমার রায়ের ছড়া; সুকমার ছড়াসমগ্র

সংগ্রহে
এই পেজের সংযোগ: https://draminbd.com/ছড়া-সুকমার-রায়-সুকুমার-রা/
 
 
      অসম্ভব নয়
 
এক যে ছিল সাহেব, তাহার
গুণের মধ্যে নাকের বাহার ।
তার যে গাধা বাহন, সেটা
যেমন পেটুক তেমনি ঢ্যাঁটা ।
ডাইনে বললে যায় সে বামে
তিন পা যেতে দুবার থামে ।
 
চল্‌‌তে চল্‌‌তে থেকে থেকে
খানায় খন্দে পড়ে বেঁকে ।
ব্যাপার দেখে এম্নিতরো
সাহেব বললে, “সবুর করো-
মামদোবাজি আমার কাছে ?
এ রোগেরও ওষুধ আছে ।”

এই না ব’লে ভীষণ ক্ষেপে
গাধার পিঠে বস্‌ল চেপে
মুলোর ঝুঁটি ঝুলিয়ে নাকে ।
আর কি গাধা ঝিমিয়ে থাকে ?
মুলোর গন্ধে টগবগিয়ে
দৌড়ে চলে লম্ফ দিয়ে-

যতই চলে ধরব ব’লে
ততই মুলো এগিয়ে চলে!
খাবার লোভে উদাস প্রাণে
কেবল ছোটে মুলোর টানে-
ডাইনে বাঁয়ে মুলোর তালে
ফেরেন গাধা নাকের চালে ।
   
 
আবোল তাবো
আয়রে ভোলা খেয়াল-খোলা
    স্বপনদোলা নাচিয়ে আয়
আয়রে পাগল আবোল তাবোল
    মত্ত মাদল বাজিয়ে আয়।
 
আয় যেখানে খ্যাপার গানে
    নাইকো মানে নাইকো সুর।
আয়রে যেথায় উধাও হাওয়ায়
    মন ভেসে যায় কোন্‌ সুদূর।
 
আয় খ্যাপা-মন ঘুচিয়ে বাঁধন
    জাগিয়ে নাচন তাধিন্‌ ধিন্‌,
আয় বেয়াড়া সৃষ্টিছাড়া
    নিয়মহারা হিসাবহীন।
 
আজ্‌গুবি চাল্‌ বেঠিক বেতাল
    মাতবি মাতাল রঙ্গেতে-
আয়রে তবে ভুলের ভবে
    অসম্ভবের ছন্দেতে।
 
.
 
আশ্চর্য
নিরীহ কলম, নিরীহ কালি,
নিরীহ কাগজে লিখিল গালি-
“বাঁদর বেকুব আজব হাঁদা
বকাট্‌ ফাজিল অকাট্‌ গাধা ।”

আবার লিখিল কলম ধরি
বচন মিষ্টি, যতন করি-
“শান্ত মানিক শিষ্ট সাধু
বাছারে ধনরে, লক্ষ্মী যাদু ।”

মনের কথাটি ছিল যে মনে,
রটিয়া উঠিল খাতার কোণে,
আঁচড়ে আঁকিতে আখর ক’টি
কেহ খুশি কেহ উঠিল চটি !

রকম রকম কালির টানে
কারো হাসি কারো অশ্রু আনে,
মারে না, ধরে না, হাঁকে না বুলি
লোকে হাসে কাঁদে কি দেখি ভুলি ?

সাদায় কালো কি খেলা জানে ?
ভাবিয়া ভাবিয়া না পাই মানে ।
কাঁদুনে
ছিঁচ্‌কাঁদুনে মিচ্‌‌কে যারা শস্তা কেঁদে নাম কেনে,
ঘ্যাঁঙায় শুধু ঘ্যানর ঘ্যানর ঘ্যানঘ্যানে আর প্যানপ্যানে-
কুঁকিয়ে কাঁদে ক্ষিদের সময়, ফুঁপিয়ে কাঁদে ধমকালে,
কিম্বা হঠাত্‍‌ লাগলে ব্যথা, কিম্বা ভয়ে চম্‌কালে ;
অল্পে হাসে অল্পে কাঁদে, কান্না থামায় অল্পেতেই,
মায়ের আদর দুধের বোতল কিম্বা দিদির গল্পেতেই-
তারেই বলি মিথ্যে কাঁদন; আসল কান্না শুনবে কে?
অবাক্ হবে থম্‌কে রবে সেই কাঁদনের গুণ দেখে !
নন্দঘোষের পাশের বাড়ি বুথ্ সাহেবের বাচ্চাটার
কান্নাখানা শুনলে বলি কান্না বটে সাচ্চা তার ।
কাঁদবে না সে যখন তখন, রাখবে কেবল রাগ পুষে,
কাঁদবে যখন খেয়াল হবে খুন-কাঁদুনে রাক্ষুসে !
নাইকো কারণ নাইকো বিচার মাঝরাতে কি ভোরবেলা,
হঠাৎ‌ শুনি অর্থবিহীন আকাশ-ফাটন জোর গলা ।
হাঁকড়ে ছোটে কান্না যেমন জোয়ার বেগে নদীর বান,
বাপ-মা বসেন হতাশ হয়ে শব্দ শুনে বধির কান ।
বাস রে সে কি লোহার গলা? এক মিনিটও শান্তি নেই?
কাঁদন ঝরে শ্রাবণ ধারে, ক্ষান্ত দেবার নামটি নেই !
ঝুমঝুমি দাও, পুতুল নাচাও, মিষ্টি খাওয়াও একশোবার,
বাতাস কর, চাপড়ে ধর, ফুটবে নাকো হাস্য তার ।
কান্নাভরে উল্‌টে পড়ে কান্না ঝরে নাক দিয়ে,
গিল্‌তে চাহে দালানবাড়ি হাঁ’খানি তার হাঁক্ দিয়ে,
ভূত-ভাগানো শব্দে লোকে ত্রাহি ত্রাহি ডাক ছাড়ে-
কান্না শুনে ধন্যি বলি বুথ সাহেবের বাচ্চারে ।
 
     কানে খাটো বংশীধর
কানে খাটো বংশীধর যায় মামাবাড়ি,
গুনগুন গান গায় আর নাড়ে দাড়ি ।।

চলেছে সে একমনে ভাবে ভরপুর,
সহসা বাজিল কানে সুমধুর সুর ।।

বংশীধর বলে, “আহা, না জানি কি পাখি
সুদুরে মধুর গায় আড়ালেতে থাকি ।।

দেখ, দেখ সুরে তার কত বাহাদুরি,
কালোয়াতি গলা যেন খেলে কারিকুরি ।।”

এদিকে বেড়াল ভাবে, “এযে বড় দায়,
প্রাণ যদি থাকে তবে ল্যাজখানি যায় ।।

গলা ছেড়ে এত চেঁচামেচি এত করি হায়
তব যে ছাড়ে না বেটা, কি করি উপায় ।।

আর তো চলে না সহা এত বাড়াবাড়ি,
যা থাকে কপালে, দেই এক থাবা মারি ।।”

বংশীধর ভাবে, “একি ! বেসুরা যে করে,
গলা গেছে ভেঙে তাই “ফ্যাঁস্‌” সুর ধরে ।।”

হেনকালে বেরসিক বেড়ালের চাঁটি,
একেবারে সব গান করে দিল মাটি ।।
 
 
 
কেন সব কুকুরগুলো
 
কোখা ঘুমায়

কেন সব কুকুরগুলো খামখা চ্যাঁচায় রাতে ?
কেন বল দাঁতের পোকা থাকে না ফোক্‌লা দাঁতে ?
পৃথিবীর চ্যাপ্টা মাথা, কেন সে কাদের দোষে?-
এস ভাই চিন্তা করি দুজনে ছায়ায় বসে ।

কোন্‌খানে কোন্‌ সুদূর দেশে, কোন্‌ মায়ের বুকে,
কাদের খোকা মিষ্টি এমন ঘুমায় মনের সুখে?
অজানা কোন্‌ দেশে সেথা কোন্‌খানে তার ঘর?
কোন্‌ সমুদ্র, কত নদী, কত দেশের পর?

কেমন সুরে, কি ব’লে মা ঘুমপাড়ানি গানে
খোকার চোখে নিত্যি সেথা ঘুমটি ডেকে আনে?
ঘুমপাড়ানি মাসীপিসী তাদেরও কি থাকে?
“ঘুমটি দিয়ে যাওগো” ব’লে মা কি তাদের ডাকে?

শেয়াল আসে বেগুন খেতে, বর্গি আসে দেশে?
ঘুমের সাথে মিষ্টি মধুর মায়ের সুরটি মেশে?
খোকা জানে মায়ের মুখটি সবার চেয়ে ভালো,
সবার মিষ্টি মায়ের হাসি, মায়ের চোখের আলো।

স্বপন মাঝে ছায়ার মত মায়ের মুখটি ভাসে,
তাইতে খোকা ঘুমের ঘোরে আপন মনে হাসে।

 
                    গোঁফ চুরি
 হেড আফিসের বড় বাবু লোকটি বড়ই শান্ত,
তার যে এমন মাথার ব্যামো কেউ কখনও জান্‌ত ? 
দিব্যি ছিলেন খোস্‌‌মেজাজে চেয়ারখানি চেপে,
একলা ব’সে ঝিমঝিমিয়ে হঠাৎ গেলেন ক্ষেপে !

আঁৎকে উঠে হাত পা ছুঁড়ে চোখটি ক’রে গোল
হঠাৎ বলেন, “গেলুম গেলুম, আমায় ধ’রে তোল” ।
তাই শুনে কেউ বদ্যি ডাকে, কেউ বা হাঁকে পুলিশ,
কেউবা বলে, “কামড়ে দেবে সাবধানেতে তুলিস্‌।”

ব্যস্ত সবাই এদিক ওদিক কর্‌ছে ঘোরাঘুরি-
বাবু হাঁকেন, “ওরে আমার গোঁফ গিয়েছে চুরি” !
গোঁফ হারান ! আজব কথা ! তাও কি হয় সত্যি ?
গোঁফ জোড়া ত তেমনি আছে, কমেনি এক রত্তি ।

সবাই তারে বুঝিয়ে বলে, সাম্‌‌নে ধরে আয়না,
মোটেও গোঁফ হয়নি চুরি, কক্ষনো তা হয় না ।
রেগে আগুন তেলে বেগুন, তেড়ে বলেন তিনি,
“কারো কথার ধার ধারিনে, সব ব্যাটাকেই চিনি ।

“নোংরা ছাঁটা খ্যাংরা ঝাঁটা বিচ্ছিরি আর ময়না,
এমন গোফ ত রাখত জানি শ্যামবাবুদের গয়লা।
“এ গোঁফ যদি আমার বলিস করব তোদের জবাই”-
এই না ব’লে জরিমানা কল্লেন তিনি সবায় ।

ভীষণ রেগে বিষম খেয়ে দিলেন লিখে খাতায়-
“কাউকে বেশি লাই দিতে নেই, সবাই চড়ে মাথায় ।
“আফিসের এই বাঁদরগুলো, মাথায় খালি গোবর
“গোঁফ জোড়া যে কোথায় গেল কেউ রাখে না খবর ।

“ইচ্ছে করে এই ব্যাটাদের গোঁফ ধ’রে খুব নাচি,
“মুখ্যুগুলোর মুণ্ডু ধ’রে কোদাল দিয়ে চাঁচি ।
“গোঁফকে বলে তোমার আমার- গোঁফ কি কারও কেনা ?
“গোঁফের আমি গোঁফের তুমি, তাই দিয়ে যায় চেনা ।
 
 
ছায়াবাজি
নয়, আজগুবি নয়, সত্যিকারের কথা-
ছায়ার সাথে কুস্তি ক’রে গাত্র হ’ল ব্যথা !
ছায়া ধরার ব্যাবসা করি তাও জানোনা বুঝি,
রোদের ছায়া, চাঁদের ছায়া, হরেক রকম পুঁজি !
শিশির ভেজা সদ্য ছায়া, সকাল বেলায় তাজা !
গ্রীষ্মকালে শুক্‌‌নো ছায়া ভীষন রোদে ভাজা,
চিলগুলো যায় দুপুর বেলায় আকাশ পথে ঘুরে
ফাঁদ ফেলে তার ছায়ার উপর খাঁচায় রাখি পুরে ।
কাগের ছায়া বগের ছায়া দেখ্‌‌ছি কত ঘেঁটে-
হাল্কা মেঘের পান্‌‌সে ছায়া তাও দেখেছি চেটে ।
কেউ জানেনা এসব কথা কেউ বোঝে না কিছু,
কেউ ঘোরে না আমার মত ছায়ার পিছুপিছু ।
তোমরা ভাব গাছের ছায়া অম্‌‌নি লুটায় ভূঁয়ে,
অম্‌‌নি শুধু ঘুমায় বুঝি শান্তা মতন শুয়ে ;
আসল ব্যাপার জান্‌‌বে যদি আমার কথা শোনো,
বলছি যা তা সত্যি কথা, সন্দেহ নাই কোনো ।
কেউ যবে তার রয় না কাছে, দেখতে নাহি পায়
গাছের ছায়া ফুটফুটিয়ে এদিক ওদিক চায় ।
সেই সময়ে গুড়গুড়িয়ে পিছন হ’তে এসে
ধামায় চেপে ধপাস্‌ করে ধরবে তারে ঠেসে ।
পাৎলা ছায়া, ফোক্‌লা ছায়া, ছায়া গভীর কালো-
গাছের চেয়ে গাছের ছায়া সব রকমেই ভালো ।
গাছ গাছালি শেকড় বাকল মিথ্যে সবাই গেলে,
বাপ্‌রে বলে পালায় ব্যামো ছায়ার ওষুধ খেলে ।
নিমের ছায়া ঝিঙের ছায়া তিক্ত ছায়ার পাক,
যেই খাবে ভাই অঘোর ঘুমে ডাকবে তাহার নাক্‌ ।
চাঁদের আলোয় পেঁপের ছায়া ধরতে যদি পার,
শুঁকলে পরে সর্দিকাশি থাকবে না আর কারো ।
আম্‌ড়া গাছের নোংরা ছায়া কাম্‌‌ড়ে যদি খায়
ল্যাংড়া লোকের ঠ্যাং গজাবে সন্দেহ নাই তায় ।
আষাঢ় মাসের বাদ্‌লা দিনে বাঁচতে যদি চাও ,
তেঁতুল তলার তপ্ত ছায়া হপ্তা তিনেক খাও ।
মৌয়া গাছের মিষ্টি ছায়া ‘ব্লটিং’ দিয়ে শুষে
ধুয়ে মুছে সাবধানেতে রাখ্‌‌ছি ঘরে পুষে !
পাক্কা নতুন টাট্‌কা ওষুধ এক্কেবারে দিশি-
দাম রেখেছি সস্তা বড়, চোদ্দ আনা শিশি ।
 
 
টিক্‌-টিক্‌-টিক
টিক্‌ টিক্‌ চলে ঘড়ি, টিক্‌ টিক্‌ টিক্‌,
একটা ইঁদুর এল সে সময়ে ঠিক।

ঘড়ি দেখে একলাফে তাহাতে চড়িল,
টং করে অমনি ঘড়ি বাজিয়া উঠিল।

অমনি ইঁদুরভায়া ল্যাজ গুটাইয়া,
ঘড়ির উপর থেকে পড়ে লাফাইয়া।

ছুটিয়া পালায়ে গেল আর না আসিল,
টিক্‌ টিক্‌ টিক্‌ ঘড়ি চলিতে লাগিল।।
 
 
           দাঁড়ের কবিতা
চুপ কর, শোন্‌ শোন্‌, বেয়াকুল হোস্‌‌নে-
ঠেকে গেছি বাপ্‌‌রে কি ভয়ানক প্রশ্নে !
ভেবে ভেবে লিখে লিখে বসে বসে দাঁড়েতে
ঝিম্‌ঝিম্‌ টন্‌টন্‌ ব্যথা করে হাড়েতে ।

এক ছিল দাঁড়িমাঝি- দাড়ি তার মস্ত,
দাড়ি দিয়ে দাঁড়ি তার দাঁড়ে খালি ঘষ্‌ত ।
সেই দাঁড়ে একদিন দাঁড়কাক দাঁড়াল,
কাঁকড়ার দাঁড়া দিয়ে দাঁড়ি তারে তাড়াল ।

কাক বলে রেগেমেগে, “বাড়াবাড়ি ঐ ত !
না দাঁড়াই দাঁড়ে তবু দাঁড়কাক হই ত ?
ভারি তোর দাঁড়িগিরি, শোন্‌ বলি তবে রে-
দাঁড় বিনা তুই ব্যাটা দাঁড়ি হোস্‌ কবে রে ?

পাখা হলে পাখি হয় ব্যাকরণ বিশেষে-
কাঁকড়ার ‘দাঁড়া’ আছে, দাঁড়ি নয় কিসে সে ?
দ্বারে বসে দারোয়ান, তারে যদি ‘দ্বারী’ কয়,
দাঁড়ে-বসা যত পাখি সব তবে দাঁড়ি হয় !

দূর দূর ! ছাই দাঁড়ি ! দাড়ি নিয়ে পাড়ি দে !”
দাঁড়ি বলে, “ব্যাস্‌ ব্যাস্‌ ! ঐখেনে দাঁড়ি দে ।”
 
 
নন্দগুপি
হঠাৎ কেন দুপুর রোদে চাদর দিয়ে মুড়ি,
চোরের মতন নন্দগোপাল চল্‌ছে গুড়ি গুড়ি ?
লুকিয়ে বুঝি মুখোশখানা রাখছে চুপি চুপি ?
আজকে রাতে অন্ধকারে টেরটা পাবেন গুপি !
 
আয়না হাতে দাঁড়িয়ে গুপি হাসছে কেন খালি ?
বিকট রকম পোশাক করে মাখ্‌ছে মুখে কালি !
এমনি করে লম্ফ দিয়ে ভেংচি যখন দেবে
নন্দ কেমন আঁৎকে যাবে- হাসছে সে তাই ভেবে ।
আঁধার রাতে পাতার ফাঁকে ভূতের মতন কেরে ?
ফন্দি এঁটে নন্দগোপাল মুখোশ মুখে ফেরে !
কোথায় গুপি, আসুক না সে ইদিক্‌ পানে ঘুরে-
নন্দদাদার হুঙ্কারে তার প্রাণটি যাবে উড়ে ।
হেথায় কেরে মূর্তি ভীষণ মুখটি ভরা গোঁফে ?
চিমটে হাতে জংলা গুপি বেড়ায় ঝাড়ে ঝোপে !
নন্দ যখন বাড়ির পথে আসবে গাছের আড়ে,
“মার্‌ মার্‌ মার্‌ কাট্‌রে” বলে পড়বে তাহার ঘাড়ে ।
নন্দ চলেন এক পা দু পা আস্তে ধীরে গতি,
টিপটিপিয়ে চলেন গুপি সাবধানেতে অতি-
মোড়ের মুখে ঝোপের কাছে মার্‌তে গিয়ে উঁকি
দুই সেয়ানে এক্কেবারে হঠাৎ মুখোমুখি !
নন্দ তখন ফন্দি ফাঁদন কোথায় গেল ভুলি
কোথায় গেল গুপির মুখে মার্‌ মার্‌ মার্‌ বুলি ।
নন্দ পড়েন দাঁতকপাটি মুখোশ টুখোশ ছেড়ে
গুপির গায়ে জ্বরটি এল কম্প দিয়ে তেড়ে ।
গ্রামের লোকে দৌড়ে তখন বদ্যি আনে ডেকে,
কেউ বা নাচে কেউ বা কাঁদে রকম সকম দেখে ।
নন্দগুপির মন্দ কপাল এম্‌নি হল শেষে,
দেখ্‌লে তাদের লুটোপুটি সবাই মরে হেসে !
 
নিরুপায়
বসি বছরের পয়লা তারিখে
মানের খাতায় রাখিলাম লিখে-
“সহজ উদরে ধরিবে যেটুক্‌,
সেইটুকু খাব হব না পেটুক ।”
মাস দুই যেতে খাতা খুলে দেখি,
এরি মাঝে মন লিখিয়াছে একি !
লিখিয়াছে, “যদি নেমন্তন্নে
কেঁদে ওঠে প্রাণ লুচির জন্যে,
উচিত কি হবে কাঁদান তাহারে ?
কিম্বা যখন বিপুল আহারে,
তেড়ে দেয় পাতে পোলাও কালিয়া
পায়েস অথবা রাবড়ি ঢালিয়া-ৎ
তখন কি করি, আমি নিরুপায় !
তাড়াতে না পারি, বলি আয় আয়,
ঢুকে আয় মুখে দুয়ার ঠেলিয়া
উদার রয়েছি উদর মেলিয়া !”
 
পাকাপাকি
আম পাকে বৈশাখে, কুল পাকে ফাগুনে,
কাঁচা ইঁট পাকা হয় পোড়ালে তা আগুনে ।
রোদে জলে টিকে রঙ পাকা কই তাহারে ।
ফলারটি পাকা হয় লুচি দই আহারে ।

হাত পাকে লিখে লিখে চুল পাকে বয়সে,
জ্যাঠামিতে পাকা ছেলে বেশি কথা কয় সে ।
লোকে বলে কাঁঠাল সে পাকে না কি কিলিয়ে ?
বুদ্ধি পাকিয়ে তোলে লেখাপড়া গিলিয়ে !

কান পাকে ফোড়া পাকে, পেকে করে টন্‌টন্‌-
কথা যার পাকা নয় কাজে তার ঠন্‌ঠন্‌ ।
রাঁধুনি বসিয়ে পাকে পাক দেয় হাঁড়িতে,
সজোরে পাকালে চোখ ছেলে কাঁদে বাড়িতে ।

পাকায়ে পাকায়ে দড়ি, টান হয়ে থাকে সে ।
দুহাতে পাকালে গোঁফ, তবু নাহি পাকে সে ।।
 
 
বর্ষ গেল বর্ষ এল
বর্ষ গেল বর্ষ এল গ্রীষ্ম এলেন বাড়ি-
পৃথ্বী এলেন চক্র দিয়ে এক বছরের পাড়ি ।
সত্যিকারের এই পৃথিবীর বয়স কেবা জানে,
লক্ষ হাজার বছর ধরে চল্‌ছে একই টানে ।
আপন তালে আকাশ পথে আপনি চলে বেগে,
গ্রীষ্মকালের তপ্তরোদে বর্ষাকালের মেঘে,
শরৎকালের কান্নাহাসি হাল্কা বাদল হাওয়া,
কুয়াশা-ঘেরা পর্দা ফেলে হিমের আসা যাওয়া-
শীতের শেষে রিক্ত বেশে শূন্য করে ঝুলি,
তার প্রতিশোধ ফুলে ফলে বসন্তে লয় তুলি ।
না জানি কোন নেশার ঝোঁকে যুগযুগান্ত ধরে,
ছয়টি ঋতু দ্বারে দ্বারে পাগল হয়ে ঘোরে !
না জানি কোন ঘূর্ণীপাকে দিনের পর দিন,
এমন ক’রে ঘোরায় তারে নিদ্রাবিরামহীন !
কাঁটায় কাঁটায় নিয়ম রাখে লক্ষযুগের প্রথা,
না জানি তার চাল চলনের হিসাব রাখে কোথা !
 
বিচার
ইঁদুর দেখে মাম্‌‌দো কুকুর বল্‌‌লে তেড়ে হেঁকে-
“বল্‌‌ব কি আর, বড়ই খুশি হলেম তোরে দেখে ।
আজকে আমার কাজ কিছু নেই, সময় আছে মেলা,
আয় না খেলি দুইজনেতে মোকদ্দমা খেলা ।
তুই হবি চোর, তোর নামেতে করব নালিশ রুজু”-
“জজ্‌‌ কে হবে ?” বল্‌‌লে ইঁদুর, বিষম ভয়ে জুজু,
“কোথায় উকিল, প্যায়দা পুলিশ, বিচার কিসে হবে ?”
মাম্‌‌দো বলে, “তাও জানিস্‌‌নে ? শোন বলে দেই তবে ।
আমিই হব উকিল হাকিম, আমিই হব জুরি,
কান ধ’রে তোর বল্‌‌ব, “ব্যাটা, ফের করেছিস্‌‌ চুরি ?”
সটান দেব ফাঁসির হুকুম অম্‌‌নি একেবারে-
বুঝ্‌‌বি তখন চোর বাছাধন বিচার বলে কারে ।”
 
বিষম ভোজ
“অবাক কাণ্ড !” বললে পিসী, “এক চাঙাড়ি মেঠাই এল—
এই ছিল সব খাটের তলায়, এক নিমিষে কোথায় গেল ?”
“সত্যি বটে” বল্‌‌লে খুড়ী, “আনল দু’সের মেঠাই কিনে—
হঠাৎ কোথায় উপ্‌‌সে গেল ? ভেল্কিবাজি দুপুর দিনে ?”
“দাঁড়াও দেখি” বল্‌‌লে দাদা, “করছি আমি এর কিনারা—
কোথায় গেল পট্‌লা ট্যাঁপা— পাচ্ছিনে যে তাদের সাড়া ?”
পর্দাঘেরা আড়াল দেওয়া বারান্দাটার ঐ কোণেতে
চল্‌ছে কি সব ফিস্‌ ফিস্‌ ফিস্‌ শুনল দাদা কানটি পেতে।
পট্‌লা ট্যাঁপা ব্যস্ত দুজন টপ্‌টপাটপ্‌ মিঠাই ভোজে,
হঠাৎ দেখে কার দুটো হাত এগিয়ে তাদের কানটি খোঁজে।
কানের উপর প্যাঁচ্‌ ঘোরাতেই দুচোখ বেয়ে অশ্রু ছোটে,
গিল্‌‌বে কি ছাই মুখের মিঠাই, কান বুঝি যায় টানের চোটে।
পটলবাবুর হোম্‌রা গলা মিল্‌ল ট্যাঁপার চিকন সুরে
জাগ্‌ল করুণ রাগরাগিণী বিকট তানে আকাশ জুড়ে।
 
বেজায় রাগ
ও হাড়্‌গিলে, হাড়্‌গিলে ভাই, খাপ্পা বড্ড আজ !
ঝগড়া কি আর সাজে তোমার ? এই কি তোমার যোগ্য কাজ ?
হোম্‌রা চোম্‌রা মান্য তোমরা বিদ্যেবুদ্ধি মর্যাদায়
ওদের সঙ্গে তর্ক করছ- নাই কি কোন লজ্জা তায় ?
জান্‌ছ নাকি বলছে ওরা ? “কিচির মিচির কিচ্চিরি,”
অর্থাৎ কিনা, তোমার নাকি চেহারাটা বিচ্ছিরি !
বল্‌ছে আচ্ছা বলুক, তাতে ওদেরই তো মুখ ব্যথা,
ঠ্যাঁটা লোকের শাস্তি যত, ওরাই শেষে ভুগবে তা ।
ওরা তোমায় খোঁড়া বল্‌ছে ? বেয়াদব তো খুব দেখি !
তোমার পায়ে বাতের কষ্ট- ওরা সেসব বুঝবে কি ?
তাই বলে কি নাচবে রাগে ? উঠ্‌বে চটে চট্‌ ক’রে ?
মিথ্যে আরো ত্যাক্ত হবে ওদের সাথে টক্করে ।
ঐ শোন কি বলছে আবার, কচ্ছে কত বক্তৃতা-
বলছে তোমার ন্যাড়া মাথায় ঘোল ঢালবে- সত্যি তা ?
চড়াই পাখির বড়াই দেখ তোমায় দিচ্ছে টিট্‌কিরি-
বল্‌ছে, তোমার মিষ্টি গলায় গান ধরতে গিট্‌কিরি ।
বল্‌ছে, তোমার কাঁথাটাকে ‘রিফুকর্ম’ করবে কি ?
খোঁড়া ঠ্যাঙে নামবে জলে ? আর কোলা ব্যাঙ করবে কি ?
আর চ’টো না, আর শুনো না, ঠ্যাঁটা মুখের টিপ্পনি,
ওদের কথায় কান দিতে নেই, স’রে পড় এক্ষনি ।
 
 
 
ভারি মজা
এই নেয়েছ, ভাত খেয়েছ, ঘণ্টাখানেক হবে—
আবার কেন হঠাৎ হেন নামলে এখন টবে?
এক্‌লা ঘরে ফুর্তি ভরে লুকিয়ে দুপুরবেলা,
স্নানের ছলে ঠাণ্ডা জলে জল-ছপ্‌ছপ্‌ খেলা।

জল ছিটিয়ে, টব পিটিয়ে, ভাবছ, “আমোদ ভারি,—
কেউ কাছে নাই, যা খুশি তাই করতে এখন পারি।”
চুপ্‌ চুপ্‌ চুপ্‌— ঐ দুপ্‌ দুপ্‌! ঐ জেগেছে মাসি,
আসছে ধেয়ে, শুনতে পেয়ে দুষ্টু মেয়ের হাসি।
 
মন্ডা ক্লাবের কয়েকটি আমন্ত্রণপত্র

সম্পাদক বেয়াকুব
কোথা যে দিয়েছে ডুব-
এদিকেতে হায় হায়
ক্লাবটি তো যায় যায়।

তাই বলি সোমবারে
মদগৃহে গড়পারে
দিলে সবে পদধূলি
ক্লাবটিরে ঠেলে তুলি।

রকমারি পুঁথি কত
নিজ নিজ রুচিমত
আনিবেন সাথে সবে
কিছু কিছু পাঠ হবে

করযোড়ে বারবার
নিবেদিছে সুকুমার।

কেউ বলেছে খাবো খাবো,
কেউ বলেছে খাই
সবাই মিলে গোল তুলেছে-
আমি তো আর নাই।

ছোটকু বলে, রইনু চুপে
ক’মাস ধরে কাহিল রূপে!
জংলি বলে “রামছাগলের
মাংস খেতে চাই।”

যতই বলি “সবুর কর” –
কেউ শোনে না কালা,
জীবন বলে কোমর বেধে,
কোথায় লুচির থালা?

খোদন বলে রেগেমেগে
ভীষণ রোষে বিষম লেগে-
বিষ্যুতে কাল গড়পারেতে
হাজির যেন পাই।

শনিবার ১৭ ই
সাড়ে পাঁচ বেলা,
গড়পারে হৈ হৈ
সরবতী মেলা।

অতএব ঘড়ি ধরে
সাবকাশ হয়ে
আসিবেন দয়া করে
হাসিমুখে লয়ে।

সরবৎ সদালাপ
সঙ্গীত – ভীতি
ফাঁকি দিলে নাহি মাপ,
জেনে রাখ-ইতি।

আমি,অর্থাৎ সেক্রেটারি,
মাসতিনেক কল‌কেতা ছাড়ি
যেই গিয়েছি অন্য দেশে
অমনি কি সব গেছে ফেঁসে।

বদলে গেছে ক্লাবের হাওয়া,
কাজের মধ্যে কেবল খাওয়া!
চিন্তা নেইক গভীর বিষয়
আমার প্রাণে এসব কি সয়?

এখন থেকে সম্‌‌ঝে রাখ
এ সমস্ত চলবে নাকো,
আমি আবার এইছি ঘুরে
তান ধরেছি সাবেক সুরে।

শুনবে এস সুপ্রবন্ধ
গিরিজার বিবেকানন্দ,
মঙ্গলবার আমার বাসায়।
(আর থেক না ভোজের আশায়)
 
                  রামগরুড়ের ছানা
 
রামগরুড়ের ছানা      হাসতে তাদের মানা,
      হাসির কথা শুনলে বলে,
      “হাস্‌ব না-না না-না” ।

সদাই মরে ত্রাসে-      ঐ বুঝি কেউ হাসে !
      এক চোখে তাই মিট্‌মিটিয়ে
      তাকায় আশে পাশে ।

ঘুম নাহি তার চোখে       আপনি ব’কে ব’কে
      আপনারে কয়, “হাসিস্‌ যদি
      মারব কিন্তু তোকে !”

যায় না বনের কাছে,      কিম্বা গাছে গাছে,
      দখিন হাওয়ার সুড়্‌সুড়িতে
      হাসিয়ে ফেলে পাছে !

সোয়াস্তি নেই মনে-      মেঘের কোণে কোণে
      হাসির বাস্প উঠছে ফেঁপে
      কান পেতে তাই শোনে ।

ঝোপের ধারে ধারে      রাতের অন্ধকারে
      জোনাক্‌ জ্বলে আলোর তালে
      হাসির ঠারে ঠারে ।

হাসতে হাসতে যারা      হচ্ছে কেবল সারা
      রামগরুড়ের লাগ্‌ছে ব্যথা
      বুঝছে না কি তারা ?

রামগরুড়ের বাসা      ধমক দিয়ে ঠাসা,
      হাসির হাওয়া বন্ধ সেথায়
      নিষেধ সেথায় হাসা ।
শিশুর দেহ
চশমা-আঁটা পণ্ডিতে কয় শিশুর দেহ দেখে-
“হাড়ের পরে মাংস দিয়ে, চামড়া দিয়ে ঢেকে,
শিরার মাঝে রক্ত দিয়ে, ফুসফুসেতে বায়ু,
বাঁধল দেহ সুঠাম করে পেশী এবং স্নায়ু ।”

কবি বলেন, “শিশুর মুখে হেরি তরুণ রবি,
উৎসারিত আনন্দে তার জাগে জগৎ ছবি ।
হাসিতে তার চাঁদের আলো, পাখির কলকল,
অশ্রুকণা ফুলের দলে শিশির ঢলঢল ।”

মা বলেন, “এই দুরুদুরু মোর বুকেরই বাণী,
তারি গভীর ছন্দে গড়া শিশুর দেহখানি ।
শিশুর প্রাণে চঞ্চলতা আমার অশ্রুহাসি,
আমার মাঝে লুকিয়েছিল এই আনন্দরাশি ।

গোপনে কোন্‌ স্বপ্নে ছিল অজানা কোন আশা,
শিশুর দেহে মূর্তি নিল আমার ভালবাসা ।”
সঙ্গীহারা
সবাই নাচে ফূর্তি করে সবাই করে গান,
একলা বসে হাঁড়িচাঁচার মুখটি কেন ম্লান ?
দেখ্‌ছ নাকি আমার সাথে সবাই করে আড়ি-
তাইত আমার মেজাজ খ্যাপা মুখটি এমন হাঁড়ি ।
তাও কি হয় ! ঐ যে মাঠে শালিখ পাখি ডাকে
তার কাছে কৈ যাওনিকো ভাই শুধাওনিতো তাকে !
শালিখ পাখি বেজায় ঠ্যাঁটা চেঁচায় মিছিমিছি,
হল্লা শুনে হাড় জ্বলে যায় কেবল কিচিমিচি ।
মিষ্টি সুরে দোয়েল পাখি জুড়িয়ে দিল প্রাণ
তার কাছে কৈ বস্‌লে নাতো শুনলে না তার গান ।
দোয়েল পাখির ঘ্যান্‌ঘ্যানানি আর কি লাগে ভালো ?
যেমন রূপে তেমন গুণে তেমনি আবার কালো ।
রূপ যদি চাও যাও না কেন মাছরাঙার কাছে,
অমন খাসা রঙের বাহার আর কি কারো আছে ?
মাছরাঙা ? তারেও কি আর পাখির মধ্যে ধরি
রকম সকম সঙের মতন, দেমাক দেখে মরি ।
পায়রা ঘুঘু কোকিল চড়াই চন্দনা টুনটুনি
কারে তোমার পছন্দ হয়, সেই কথাটি শুনি !
এই গুলো সব ছ্যাবলা পাখি নেহাৎ ছোট জাত-
দেখলে আমি তফাৎ হাটি অমনি পঁচিশ হাত ।
এতক্ষণে বুঝতে পারি ব্যাপারখানা কি যে-
সবার তুমি খুঁৎ পেয়েছ নিখুঁৎ কেবল নিজে !
মনের মতন সঙ্গী তোমার কপালে নাই লেখা
তাইতে তোমায় কেউ পোঁছে না তাইতে থাক একা ।
 
                    সাহস
পুলিশ দেখে ডরাইনে আর, পালাইনে আর ভয়ে,
আরশুলা কি ফড়িং এলে থাকতে পারি সয়ে।
আধাঁর ঘরে ঢুকতে পারি এই সাহসের গুণে,
আর করে না বুক দুর্ দুর্ জুজুর নামটি শুনে।

রাত্তিরেতে একলা শুয়ে তাও ত থাকি কত,
মেঘ ডাকলে চেঁচাইনে কো আহাম্মুকের মতো।
মামার বাড়ির কুকুর দুটোর বাঘের মতো চোখ,
তাদের আমি খাবার খাওয়াই এমনি আমার রোখ্!

এম্‌‌নি আরো নানান দিকে সাহস আমার খেলে
সবাই বলে “খুব বাহাদুর” কিংবা “সাবাস ছেলে”।
কিন্তু তবু শীতকালেতে সকালবেলায় হেন
ঠান্ডা জলে নাইতে হলে কান্না আসে কেন?

সাহস টাহস সব যে তখন কোনখানে যায় উড়ে
ষাঁড়ের মতন কন্ঠ ছেড়ে চেঁচাই বিকট সুরে!
 
 
হারিয়ে যাওয়া
ঠাকুরদাদার চশমা কোথা?
ওরে গণশা, হাবুল, ভোঁতা,
দেখ‌না হেথা, দেখনা হোথা খোঁজ না নিচে গিয়ে ।
 
কই কই কই? কোথায় গেল?
টেবিল টান, ডেস্কো ঠেল,
ঘরদোর সব উলটে ফেল- খোঁচাও লাঠি দিয়ে ।
 
খুঁজছে মিছে কুঁজোর পিছে,
জুতোর ফাঁকে, খাটের নিচে,
কেউ বা জোরে পর্দা খিঁচে- বিছনা দেখে ঝেড়ে
 
লাফিয়ে ঘুরে হাঁফিয়ে ঘেমে
ক্লান্ত সবে পড়্‌ল থেমে,
ঠাকুরদাদা আপনি নেমে আসেন তেড়েমেড়ে ।
 
বলেন রেগে, “চশমাটা কী
ঠ্যাং গজিয়ে ভাগল না কি ?
খোঁজার নামে কেবল ফাঁকি দেখছি আমি এসে !”
 
যেমন বলা দারুণ রোষে,
কপাল থেকে অমনি খসে
চশমা পড়ে তক্তপোশে সবাই ওঠে হেসে !
 
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
— — — — — — — — — — — — — — — — —
 
 
 
 
 
 
error: Content is protected !!