জটিল বানান, দুষ্ট বানান, খটকা বানান, শুদ্ধীকরণ, প্রমিতীকরণ, প্রমিত বানান

ড. মোহাম্মদ আমীন
 
 
প্রথম ভাগ

পর্ব/১

১. নৈঃশব্দ্য ( ভুল নৈঃশব্দ)
২. নৈঃসঙ্গ্য (ভুল নৈঃসঙ্গ )
৩. ন্যক্কারজনক (ভুল ন্যাক্কারজনক)
৪. ন্যূনতম (ভুল নূন্যতম)
৫. পক্ব (ভুল পক্ক)
নৈঃসঙ্গ্য বিশেষ্য, অর্থ একাকীত্ব।নিঃসঙ্গ বিশেষণ, অর্থ একাকী। নৈঃশব্দ্য বিশেষ্য, অর্থ নীরবতা। নিঃশব্দ বিশেষণ, অর্থ নীরব। পক্ব অর্থ পাকা।
 
পর্ব /২
লিখুন উপলক্ষ্য, উপলক্ষ্যে ( লিখবেন না : উপলক্ষ, উপলক্ষে)। [লক্ষ্য থেকে উপলক্ষ্য, লক্ষ থেকে উপলক্ষ হয় না।]
লিখুন ঘুস ( লিখবেন না : ঘুষ)
লিখুন ধরন (লিখবেন না : ধরণ)
লিখুন ধারণ (লিখবেন না : ধারন)
লিখুন ধরণি (লিখবেন না : ধরণী)
লিখুন পটোল (লিখবেন না : পটল)
 
লিখুন পরিবহণ (লিখবেন না : পরিবহন) [ণত্ববিধি অনুযায়ী : পরিবহণ]
লিখুন ব্যাবহারিক ( লিখবেন না : ব্যবহারিক) [ব্যবহার+ ইক= ব্যাবহারিক।]
সূত্র : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
 
পর্ব /৩
আলো করা ( উজ্জ্বল করা), কিন্তু আলোকরা(উজ্জ্বলকারী)।
এক কথা ( যে কথার নড়চড় হয় না), কিন্তু একবাক্যে (এক কথায়, বিনা প্রতিবাদে), একনজরে(এক পলকে), বাক্যহারা (নির্বাক, শান্ত)।
এক কুড়ি (বিশটি), কিন্তু একহালি(চারটি)।
 
এক নলা (গ্রাস; এক নলা ভাত), কিন্তু একনলা (এক নলবিশিষ্ট)।
দুকুল (পিতার বংশ ও মাতার বংশ), কিন্তু দুকূল (দুই তীর), দু-কূল (রেশমি কাপড়)
সে ভাবে (সে চিন্তা করে), কিন্তু সেভাবে ( সেরূপে, সেরকম)।
 
পর্ব /৪
‘প্রায়, প্রধান, বহুল, বিশেষ, অনেক, কয়েক, কিছু, নানা, নানান, বহু, বিচিত্র, বিভিন্ন, সব, সারা, হরেক’ ইত্যাদি শব্দ, সম্পর্কযুক্ত শব্দের পূর্বে ফাঁক রেখে বসে। যথা: প্রায় প্রতিদিন, প্রায় স্থানে, প্রধান ডাকঘর, বহুল প্রচলিত, বহুল আলোচিত, বিশেষ বাহক, বিশেষ ঘটনা, অনেক বছর, কয়েক দিন, কিছু গান, নানা মত, নানান রং, বহু দেশ, বিচিত্র পাখি, বিভিন্ন জাতি, সব কথা, সারা দেশ, হরেক রকম।
তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। যথা: নানারূপ, নানাবিধ, বহুকাল, বহুক্ষণ, সবকিছু, সারাক্ষণ, কয়েকজন, অনেকক্ষণ, কিছুকাল, অনেকজন, সবশেষে ইত্যাদি।
 
পর্ব/৫
১. অকস্ম্যাৎ নয়, অকস্মাৎ (হঠাৎ, সহসা)
২. অগ্নাশয় নয়, অগ্ন্যাশয় (পাচনগ্রন্থি)
৩. অগ্নুৎপাত নয়, অগ্ন্যুৎপাত (আগ্নেয়গিরি থেকে প্রস্তরখণ্ড লাভা ছাই প্রভৃতি উদ্‌গিরণ)
 
৪. অনিন্দ নয়, অনিন্দ্য (যা নিন্দনীয় নয়, অনিন্দনীয়, অতি সুন্দর)
৫. অন্তেষ্টিক্রিয়া নয়, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া (মৃতের সৎকার)
৬. অচিন্ত নয়, অচিন্ত্য (চিন্তা করা যায় না এমন), কিন্তু অচিন্তিত (পূর্বে চিন্তা করা হয়নি এমন, অভাবিত)
 
 
দ্বিতীয় ভাগ
 
পর্ব/৬
অন্তঃসত্তা অর্থ — আত্মা, আমি;
কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা অর্থ —গর্ভবতী।
 অন্তরঙ্গ (অন্‌তরংগো) অর্থ — আত্মীয়, বন্ধু, অভ্যন্থরস্থ অঙ্গ, ঘনিষ্ঠ;
কিন্তু অন্তরজ্ঞ (অন্‌তরগ্‌গোঁ) অর্থ — অন্তর্যামী, দূরদর্শী, বিশেষজ্ঞ প্রভৃতি।
 অন্তস্তলশব্দের অর্থ — মনোমধ্যে, মন, হৃদয় প্রভৃতি।এই অর্থ প্রকাশে ‘অন্তস্থল’ লেখা ভুল।
অতএব অন্তস্থল লিখবেন না।
এতদ্বারা (এত+দ্বারা) ভুল
শুদ্ধ হচ্ছে এতদ্দ্বারা (এতদ্+দ্বারা)।
অন্তরীক্ষ নয়
অন্তরিক্ষ (আকাশ) লিখুন।
 অন্তরীণ নয়
অন্তরিন (গৃহবন্দি) লিখুন।
এক মিনিটের পাঠশালা
 
পর্ব /৭
 অসূর্যম্পশ্যা (অশুরজম্‌পোশ্‌শা)
যে নারীকে সূর্যকিরণও স্পর্শ করেনি এমন বা অন্তঃপুরবাসিনী অর্থে অসূর্যম্পশ্যা লিখুন, অসুর্যস্পর্শা লিখবেন না।
 আবৃত্তি লিখবেন না
আবৃতি: আবরণ, আচ্ছাদন, বেষ্টিত স্থান প্রভৃতি অর্থে আবৃতি লিখুন।
 আবৃতি লিখবেন না
আবৃত্তি : ছন্দ, ব্যঞ্জনা প্রভৃতি অভিব্যক্তি সহকারে উচ্চকণ্ঠে পাঠ অর্থে আবৃত্তি (আবৃত্‌তি) লিখুন
 আহূত : আমন্ত্রিত অর্থে আহূত লিখুন
আহুত লিখবেন না।
 আহুত : আহুতি অর্থ হিন্দু পূজার হোম। আহুতি দেওয়া হয়েছে এমন অর্থে আহুত লিখুন
আহূত লিখবেন না।
  নৈর্ঋত (নোই্‌র্‌রিত্) লিখুন
নৈঋত লিখবেন না।
  শিরশ্ছেদ (শিরোশ্‌ছেদ্) লিখুন
শিরচ্ছেদ লিখবেন না।
এক মিনিটের পাঠশালা
 
পর্ব /৮
 এক কথা
অর্থ : যে কথার নড়চড় হয় না। যেমন : হাবিব সাহেব এক কথার মানুষ। বাক্যে এটি বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
 এককথা
অর্থ: সংক্ষিপ্ত বর্ণন, সংক্ষেপ। যেমন : এককথায় তিনি একজন ভালো মানুষ।এরূপ আরো শব্দ : একগলা, একগাল, একচর, একচালা, একচুল প্রভৃতি।
  এ-কার
অর্থ : ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে ‘এ’ স্বর যুক্তকরণ চিহ্ন। বাক্যে ‘এ-কার’ শব্দটি বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন : ‘ছেলে’ শব্দের বানানে দুটো ‘এ-কার’ আছে।
 এ কার
অর্থ : এটি কার, ইহা কাহার। যেমন : এ কার বাড়ি?
 একার
অর্থ : একজনের। যেমন : তার একার পক্ষে কাজটি কষ্টসাধ্য। বাক্যে এটি বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
 এ কি
এটি একটি ‘বিস্ময়সূচক’ শব্দ। যেমন : এ কি, তুমি এখনো যাওনি? এ কি সত্য সকলই সত্য, হে আমার চিরভক্ত। ‘এ কি’ কথাটি বাক্যে অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
 এ কী
কথাটির অর্থ ‘এ বিষয়টি কী’, যেমন : এ কী বললে? ‘এ কী’ কথাটি বাক্যে সর্বনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এক মিনিটের পাঠশালা
 
পর্ব /৯
 উহ্য (উজ্‌ঝো)
বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘উহ্য(√বহ্‌+অ)’ শব্দের অর্থ বহনীয়।
 ঊহ্য (উজ্‌ঝো)
বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘ঊহ্য (√ঊহ্+য) শব্দের অর্থ অনুক্ত, অনুচ্চারিত, অব্যক্ত; প্রকাশিত না হলেও আছে বলে অনুমিত, অনুমেয়, অপ্রকটিত প্রভৃতি।
 ঊনবিংশ
উনবিংশ নয়, লিখুন ঊনবিংশ; কিন্তু উনিশ, উনত্রিশ, উনচল্লিশ, উনপঞ্চাশ, উনষাট ইত্যাদি, তবে ঊনত্রিংশ (২৯ সংখ্যক), ঊননবতি(৮৯ সংখ্যক), ঊনষষ্টি (৫৯ সংখ্যক) প্রভৃতি।
ঋগ্বেদ
‘ঋগ্বেদ’ নয়, লিখুন ঋগ্‌বেদ। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘ঋগ্‌বেদ (ঋক্‌+বেদ)’ হচ্ছে — চতুর্বেদের প্রথম ও প্রধান বেদ
 
 
পর্ব/১০
নিচে কিছু দুষ্ট শব্দের শুদ্ধ বানান দেওয়া হলো। কয়েক বার পড়লে মনে রাখা কঠিন হবে না।
অপাঙ্‌ক্তেয় / অলঙ্ঘ্য / আকাঙ্ক্ষা / আর্দ্র/
উজ্জ্বল / উত্ত্যক্ত / কৃচ্ছ্র / ক্বচিৎ / ক্রূর
ক্ষুন্নিবৃত্তি / জ্যোৎস্না /জোছনা/ জ্যোতিষ্ক / তৎক্ষণাৎ
তদ্ব্যতীত / দুর্নিরীক্ষ্য / দ্ব্যর্থ / দ্যূতক্রীড়া
দারিদ্র্য / দৌরাত্ম্য / ন্যুব্জ /ন্যূন
পঙ্‌ক্তি / পরাঙ্মুখ / পার্শ্ব / প্রতিদ্বন্দ্বিতা
প্রতিদ্বন্দ্বী / গার্হস্থ্য
কর্ত্রী।
তৃতীয় ভাগ

পর্ব / ১১

নানাভাবে নানা ভাবে, সেভাবে সে ভাবে।
নানা ভাবে : এই শব্দজোড়ের অর্থ মাতামহ (মায়ের বাবা) চিন্তা করে
নানাভাবে : শব্দটির অর্থ বিভিন্ন উপায়ে, বিভিন্ন কৌশলে।
প্রয়োগ :
নানা ভাবে সে হয়রানির শিকার হচ্ছে। (নানা মনে করে, সে হয়রানির শিকার হচ্ছে।)
নানাভাবে সে হয়রনির শিকার হচ্ছে। ( বিভিন্ন উপায়ে বা বিভিন্ন দিক হতে সে হয়রানির শিকার হচ্ছে।)
নানা ভাবে, সে নানাভাবে হয়রানির শিকার।
সে ভাবে : এই শব্দ জোড়ের অর্থ সে চিন্তা করে
সেভাবে : শব্দটির অর্থ সেই প্রকারে, সেই উপায়ে, সেই কৌশলে।
ফাউ
৩. মেম্বারশীপ নয়, লিখুন মেম্বারশিপ
৪. অন্তস্থল নয়, লিখুন অন্তস্তল (অন্তর্‌+তল = অন্তস্তল)।
৫. ধরণী নয়, লিখুন, ধরণি
৬. নিরবিচ্ছিন্ন নয়, লিখুন নিরবচ্ছিন্ন (নির্‌+ অবচ্ছিন্ন = নিরবচ্ছিন্ন)।
 
পর্ব /১২
কৌতূক নয়, কৌতুক (দীর্ঘ ঊ-কার নয়)।
ক্রুর নয়, ক্রূর (দীর্ঘ ঊকার)।
ক্ষীয়মান নয়, ক্ষীয়মাণ।
ক্ষুন্ন নয়, ক্ষুণ্ণ ( ণ+ন)।
ক্ষুব্দ নয়, ক্ষুব্ধ (ব+ধ)।
ক্ষেপন নয়, ক্ষেপণ
ক্ষেপনাস্ত্র নয়, ক্ষেপণাস্ত্র
খঞ্জনী নয়, খঞ্জনি
খুটিনাটি নয়, খুঁটিনাটি
খুড়ী নয়, খুড়ি
খুশী নয়, খুশি
গড্ডালিকা নয়, গড্ডলিকা (ড্ড আকার-বিহীন)।
 
ক্ষেতমজুর নয়, খেতমজুর
খেলাধূলা নয়, খেলাধুলা/ খেলাধুলো
গত্যান্তর নয়, গত্যন্তর
 
পর্ব / ১৩
 
কাঁচ নয়, কাচ। কাংখিত নয়, কাঙ্ক্ষিত।
কানপাতা নয়, কান পাতা (কিন্তু কানপাতলা)।
 
কানমলা নয়, কান মলা (কিন্তু কানফুল, কানবালা, কানভাঙানি)।
কিংবদন্তী নয়, কিংবদন্তি।
কুটনীতি নয়, কূটনীতি।
 
কুৎসিৎ নয়, কুৎসিত।
কূটিল নয়, কুটিল।
কৃচ্ছতা নয়, কৃচ্ছ্রতা।
 
কৃচ্ছসাধন নয়, কৃচ্ছ্রসাধন।
কুহরণ নয়, কুহরন (কূজন, কুহুধ্বনি)।
কৃষ্টিবান নয়, কৃষ্টিমান।
 
কেন্দ্রিয় নয়, কেন্দ্রীয়।
কেরাণী নয়, কেরানি।
কোণাকুণি নয়, কোনাকুনি।
 
পর্ব / ১৪
অধিবিন্না : বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত অধিবিন্না শব্দের অর্থ দ্বিতীয় বার বিবাহ করেছে এমন পুরুষের জীবিত প্রথম স্ত্রী।
অধীত: বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত অধীত শব্দের অর্থ পাঠ করা হয়েছে এমন বা পঠিত।এই শব্দের বানানে ধ-য়ে ঈ-কার অপরিহার্য। আমাদের এক বন্ধুর ছোটো ভাইয়ের নাম ছিল অধীত।
অধীতি : বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত অধীতি শব্দের অর্থ অধ্যয়ন। এই শব্দের বানানে ধ-য়ে ঈ-কার এবং ত-য়ে ই-কার। আমার এক ছাত্রীর নাম অধীতি।
অধীতী : সংস্কৃত অধীতী শব্দের অর্থ বিশেষ্যে ছাত্র, শিক্ষার্থী পাঠক এবং বিশেষণে অধ্যয়নকারী, কৃতবিদ্য প্রভৃতি। এই শব্দের বানানে ধ-য়ে ঈ-কার এবং ত-য়ে ঈ-কার। অধীতী নামের দুই ছাত্রী পেয়েছি আমি। দুজনেই কৃতবিদ্য হয়েছে।
 
পর্ব/ ১৫
প্রাঙ্গন নয়, প্রাঙ্গণ; কিন্তু অঙ্গন, যেমন: শিক্ষাঙ্গন।
মনখোলা : মনের কথা অকপটে খুলে বলা।
মনখোলা : খোলা মনের অধিকারী)।
 
মনগলা নয়, লিখুন মন গলা।
মহামতী নয়, লিখুন মহামতি, কিন্তু শ্রীমতী।
মাননীয়াষু নয়, লিখুন মাননীয়াসু (মহিলার ক্ষেত্রে)।
 
মাননীয়েসু নয়, লিখুন মাননীয়েষু (পুরুষের ক্ষেত্রে)।
মুহূর্মুহ নয়, লিখুন মুহুর্মুহু (চারটি ‍উ-কার)।
মৃত্যুত্তর নয়, লিখুন মৃত্যূত্তর (ত-য়ে ঊ-কার), কিন্তু মরণোত্তর।
 
মৃণ্ময় নয়, মৃন্ময় (ন+ম; মৃৎ+ময়ট্‌; মাটির তৈরি), কিন্তু হিরণ্ময়।
লেখালেখি নয়, লেখালিখি।
শিহরণ নয়, লিখুন শিহরন।
 
চতুর্থ ভাগ
 
 
 
পর্ব /১৬
কটুক্তি নয়, কটূক্তি।
কতৃক নয়, কর্তৃক।
কতৃত্ত্ব নয়, কর্তৃত্ব।
কতৃপক্ষ নয়, কর্তৃপক্ষ।
কথপোকথন নয়, কথোপকথন।
কদাচিত নয়, কদাচিৎ।
কনা নয়, কণা।
কনিষ্ট নয়, কনিষ্ঠ।
কন্ঠস্ত নয়, কণ্ঠস্থ।
কয়েদী নয়, কয়েদি।
করনিক নয়, করণিক।
কর্তী নয়, কর্ত্রী।
 
কর্মচারি – কর্মচারী
কলংক নয়, কলঙ্ক
কলসী নয় কলসি
কল্যান নয়, কল্যাণ
কষ্ঠি – কষ্টি
 
পর্ব /১৭
 উহ্য নয়, লিখুন ঊহ্য
 উৎকর্ষতা নয়, লিখুন উৎকর্ষ।
 ঊনিশ নয়, উনিশ (কিন্তু ঊনবিংশ)।
 এককৃত নয়, লিখুন একীকৃত
একনিষ্ট নয়, লিখুন একনিষ্ঠ
 একভূত নয়, লিখুন একীভূত।
 একাধিক্রমে নয়, লিখুন একাদিক্রমে।
এক্ষুণি নয়, লিখুন এক্ষুনি (কিন্তু এক্ষণ, এক্ষণে)।
এতদোদ্দেশ্যে নয়, লিখুন এতদুদ্দেশ্যে (তেমনি এতদুপলক্ষ্যে)।
 
এতদ্ব্যতীত নয়, লিখুন এতদ্‌ব্যতীত।

এতদ্‌সঙ্গে নয়, লিখুন এতৎসঙ্গে।
 এতদ্সত্ত্বেও  নয়, লিখুন এতৎসত্ত্বেও।
এশিয় নয়, লিখুন এশীয় [( তেমন কানাডীয়, ভারতীয়, আরবীয় প্রভৃতি ) ‘-ঈয়’ প্রত্যয় যুক্ত হওয়ায় বিদেশি শব্দ হওয়া সত্ত্বেও বানানে ঈ-কার এসেছে।]

 
পর্ব /১৮
ঐকবদ্ধ নয়, লিখুন ঐক্যবদ্ধ।
ঐক্যতা নয়, লিখুন একতা
 ঐক্যতান নয়, লিখুন ঐকতান
 ঐক্যমত নয়, লিখুন ঐকমত্য
ওতঃপ্রোত নয়, লিখুন ওতপ্রোত
 ঔচিত্ত নয়, নয় লিখুন ঔচিত্য।
কংকণ নয়, লিখুন কঙ্কণ।
কংকাল নয়, লিখুন কঙ্কাল।
 কচিৎ নয়, লিখুন ক্বচিৎ।
 
পর্ব /১৯
ক্ষীয়মাণ : সংস্কৃত ক্ষীয়মাণ শব্দের অর্থ বিশেষণে— ক্ষয় হচ্ছে এমন।
ছ-টা: ‘ছ-টা’ শব্দের অর্থ বিশেষণে— ৬টি, ৬ সংখ্যক; বিশেষ্যে — ৬ ঘটিকা।
ছটা: ‘ছটা’ শব্দের অর্থ বিশেষ্যে — দীপ্তি, সৌন্দর্য, দ্যুতি, কান্তি।
ছত্রি: ‘ছত্র‘ শব্দের অর্থ বিশেষ্যে—যানবাহনের ছাদ, নৌকার ছই, মশারি টাঙানোর কাঠামো।
ছত্রী: বিশেষণে— ছত্রধারী।
ছা-পোষা : শব্দটির অর্থ বিশেষেণে— সীমিত আয়ে একাধিক সন্তানের ভরণপোষণ করতে হয় এমন, নীরিহ, দরিদ্র এবং বিশেষ্যে— নীরিহ ব্যক্তি।
জন্ম দিন : শব্দজোড়ের অর্থ জন্ম দেওয়ার অনুরোধ।[ হে প্রভু, আমার অন্তরে সুবোধের জন্ম দিন।]
জন্মদিন : শব্দটির অর্থ জন্মগ্রহণের দিন বা তারিখ। [ আজ তার জন্মদিন।]
সূত্র : শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি।

পর্ব /২০

উচ্ছাস নয়, লিখুন উচ্ছ্বাস
উজ্জিবীত নয়, লিখুন উজ্জীবিত
 
উর্মি নয়, লিখুন ঊর্মি ( ঊ)।
উপলক্ষ নয়, লিখুন উপলক্ষ্য
 
উদ্ধত্য নয়, লিখুন ঔদ্ধত্য
উদ্বিঘ্ন নয়, লিখুন উদ্বিগ্ন।
 
উদ্ভিজ নয়, লিখুন উদ্ভিজ্জ।
উদ্ভুত নয় লিখুন, লিখুন উদ্ভূত
 
উনবিংশ নয়, ঊনবিংশ
ঊনিশ নয়, লিখুন উনিশ।
 
 
পঞ্চম ভাগ
 

পর্ব /২১

উকি নয়, লিখুন উঁকি (আড়াল থেকে লুকিয়ে দেখার চেষ্টা)।
‘উচু নিচ’ নয়, লিখুন উঁচুনিচু (সংস্কৃত উচ্চ-নিম্ন)।
‘উঠতে বসতে’ নয়, লিখুন উঠতেবসতে (যখন-তখন)।
উত্তরসুরী নয়, লিখুন উত্তরসূরি।
উত্তলন নয়, লিখুন উত্তোলন
উত্যক্ত নয়, লিখুন উত্ত্যক্ত (ত্ত-য়ে য-ফলা)
উদীচি নয়, লিখুন উদীচী (দুটোই ঈ-কার)
উপ-সচিব (সংস্কৃতে), উপসচিব ( বাংলায়)।
(প্রীতিসূচক দান অর্থে) উপাহার নয়, লিখুন উপহার।
(অল্প আহার অর্থে) উপহার নয়, লিখুন উপাহার।
উপায়ন্তর নয়, লিখুন উপায়ান্তর (উপায়+অন্তর; অ+অ=আ)
উর্ধ্ব নয়, লিখুন ঊর্ধ্ব (ঊ)
এক মিনিটের বাইরের অংশ দেখতে চাইলে: http://www.draminbd.com/এক-মিনিটের-পাঠশালা-উ-ঊ-বিস/
উৎস : শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি
 

পর্ব /২২

মেম্বারশীপ নয়, লিখুন মেম্বারশিপ।
অন্তস্থল নয়, লিখুন অন্তস্তল (অন্তর্‌+তল = অন্তস্তল)।

ধরণী নয়, লিখুন, ধরণি (ই-কার)।
নিরবিচ্ছিন্ন নয়, লিখুন নিরবচ্ছিন্ন (নির্‌+ অবচ্ছিন্ন = নিরবচ্ছিন্ন)।
 
নগরায়ন নয়, লিখুন নগরায়ণ (নগর+আয়ন; অন্তঃস্থ-র থাকায় ‘আয়ন’ হয়ে গেল ‘আয়ণ’)।
নাড়িভুড়ি নয়, লিখুন নাড়িভুঁড়ি
 
নিয়মি নয়, নিয়মী (নিয়ম পালন করে এমন, সংযমী)।
নুব্জ্য নয়, ন্যুব্জ (উচ্চারণ: নুবজো)।
 
ন্যুন নয়, লিখুন ন্যূন (উচ্চারণ: নুনো)।
নুন্যতম নয়, লিখুন ন্যূনতম
 
সূত্র: ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

পর্ব /২৩

ইদানিং নয়, লিখুন— ইদানীং
ইয়ত্বা নয়, লিখুন— ইয়ত্তা
ইষ্ঠ নয়, লিখুন — ইষ্ট
ইষৎ নয়, লিখুন— ঈষৎ
ঈস্পিত নয়, লিখুন— ঈপ্সিত
উচিৎ নয়, লিখুন— উচিত
উচ্চৈস্বরে নয়, লিখুন— উচ্চৈঃস্বরে
উচ্ছ্বল নয়, লিখুন— উচ্ছল
উজ্বল নয়, লিখুন— উজ্জ্বল
উত্তরন নয়, লিখুন — উত্তরণ

পর্ব/২৪

অ-গুরু ও অগুরু
‘অ-গুরু’ শব্দের অর্থ— শিষ্যকে খারাপ শিক্ষা দেয় এমন গুরু, খারাপ গুরু, যে গুরু শিষ্যকে কুপথে পরিচালিত করে, যার শিক্ষা সঠিক নয়। অন্যদিকে, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে ‘অগুরু’ শব্দের অর্থ— যার গুরু নেই। শিংশপাগাছ, শিশুগাছ প্রভৃতিও অগুরু নামে পরিচিত। বাংলায় লঘু বা হালকা বোঝাতেও শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
 
অন্বর্থনামা
সংস্কৃত ‘অন্বর্থনামা’ শব্দটি বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নামের অর্থের সঙ্গে যার বা যাদের স্বভাবের মিল আছে তাদের অন্বর্থনামা বলা হয়।
 
অবচ্ছিন্ন ও অবিচ্ছিন্ন
অবচ্ছিন্ন শব্দের অর্থ— বিশিষ্ট, মিলিত, সংযুক্ত, বিচ্ছিন্ন (নিরবচ্ছিন্ন), বিভক্ত। অবিচ্ছিন্ন শব্দের অর্থ— অখণ্ডিত, ধারাবাহিক
 
অ-শ্রম ও অশ্রম
‘অ-শ্রম’ শব্দের অর্থ— পণ্ডশ্রম, অকার্যকর শ্রম, অর্থহীন শ্রম, খারাপ শ্রম। অন্যদিকে, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে ‘অশ্রম’ শব্দের অর্থ— শ্রমের অভাব, শ্রমহীনতা, অনায়াস।
 
অ-সঙ্গ ও অসঙ্গ
‘অ-সঙ্গ’ শব্দের অর্থ— খারাপ সঙ্গ, অযোগ্য সঙ্গ, অবাঞ্চিত সঙ্গ। একই অভিধানমতে, ‘অসঙ্গ’ শব্দের অর্থ— সঙ্গহীন, একা, অসংলগ্ন, বৈরাগ্য, অনাসক্তি।
 
পর্ব/২৫
অন্তস্থল নয়, লিখুন অন্তস্তল (অন্তর্‌+তল = অন্তস্তল)।

ধরণী নয়, লিখুন, ধরণি (ই-কার)। 

নিরবিচ্ছিন্ন নয়, লিখুন নিরবচ্ছিন্ন (নির্‌+ অবচ্ছিন্ন = নিরবচ্ছিন্ন)।
 
সুষ্ঠ নয়, লিখুন সুষ্ঠু; সুষ্ঠুভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে হবে।
 
সূচি থেকে সূচ্যগ্র: সূচি+অগ্র; অর্থ সূচের ডগা, অতি সামান্য। সূচের ডগার মতো ক্ষুদ্র। বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদিনী।
 
নগরায়ন নয়, লিখুন নগরায়ণ (নগর+আয়ন; অন্তঃস্থ-র থাকায় ‘আয়ন’ হয়ে গেল ‘আয়ণ’)।
বানানগুলো উদ্বেল,  উদ্বোধন, বুদ্বুদ, উদ্বৃত্ত, দিগ্বিজয় এবং কদম্ব নয়;  বানানগুলো হচ্ছে যথাক্রমে: উদ্‌বেল, উদ্‌বোধন, বুদ্‌বুদ, উদ্‌বৃত্ত এবং দিগ্‌বিজয়।
 
 
ষষ্ঠ ভাগ

পর্ব/২৬

 
এতদ্দ্বারা
পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন,
শামসুর রাহমান,
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত,
অন্নদাশঙ্কর রায়,
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়,
ইবরাহীম খাঁ,
ড. মুহম্মদ এনামুল হক,
আহমদ ছফা,
মাইকেল মধুসূদন দত্ত,
Ptolemy,
মৈত্রেয়ী দেবী,
গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী,
বিভূতিভূষণ,
বড়ু চণ্ডীদাস,
আরজ আলী মাতুব্বর
সৈয়দ মুজতবা আলী
 

পর্ব/২৭

সহযোগী, কিন্তু সহযোগিতা
জীবী, কিন্তু জীবিকা
প্রাণী, কিন্তু, প্রাণিবিদ্যা
সুস্থ, কিন্তু সুষ্ঠু
সংস্কৃতি, কিন্তু সাংস্কৃতিক
 
নেতা, কিন্তু নেতৃবৃন্দ, নেতৃগণ
ভ্রাতা, কিন্তু ভ্রাতৃবৃন্দ, ভ্রাতৃগণ
নিরীহ, কিন্তু নীরব
ভূগোল, কিন্তু ভৌগোলিক
পুরস্কার, কিন্তু পরিষ্কার

পর্ব/২৮

ডজনের জন্ম ইংল্যান্ডে না কি পারস্যে?
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের ( ২০১৭ খ্রি.) ৫৬৩ পৃষ্ঠায় ডজন (dozen) ভুক্তিতে লেখা হয়ছে: ‘ডজন’ ইংরেজি শব্দ। অর্থ হলো— বারোটির গুচ্ছ। পরবর্তী ভুক্তি ‘ডজনখানেক’। এখানে বলা হয়েছে ডজন ফরাসি শব্দ। কোনটি সত্য? ডজনের জন্ম আসলে কোথায়?
 
পাকিস্তানি না কি পাকিস্তানী?
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান(২০১৭)-এর ৯৬৪ পৃষ্ঠায় বিজয়দিবস ভুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে পাকিস্তানী। আমরা কোনটি লিখব।
 
আকাশ অর্থে অন্তরিক্ষ না কি অন্তরীক্ষ?
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান-এর ১২৭ পৃষ্ঠায় আকাশ ভুক্তিতে লেখা অন্তরীক্ষ। আবার একই অর্থে ৫৪ পৃষ্ঠায় মূল অন্তরিক্ষ ভুক্তিতে লেখা হয়েছে অন্তরিক্ষ।কোনটি শুদ্ধ, কোনটি লিখব আমরা?
 

পর্ব/২৮

ইন-প্রত্যয়ান্ত শব্দের ‘গণ’ যুক্ত হলে ঈ-কার পরিবর্তন হয়ে ই-কার হয়ে যায়। যেমন :
প্রাণী, কিন্তু প্রাণিগণ।
সহকারী, কিন্তু সহকারিগণ।
কর্মচারী, কিন্তু কর্মচারিগণ, কর্মচারীবৃন্দ
কর্মী , কিন্তু কর্মিগণ, কর্মিবৃন্দ
আবেদনকারী,  কিন্তু আবেদনকারিগণ ইত্যাদি।
 
প্রশ্নবোধক সর্বনাম হিসেবে ‘কে’ আলাদা বসে। যেমন : তুমি কে? তিনি কে? লোকটি কে? ইত্যাদি।
বিভক্তি হিসেবে সর্বনাম পূর্ব শব্দের সঙ্গে সেঁটে বসে। যেমন : তোমাকে, আমাকে, দেশকে, জাতিকে, মাকে,  আমাকে যেতে হবে। 
ঈ, ঈয়, অনীয় প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দ ঈ-কার  আনে। যেমন : জাতি থেকে জাতীয়; দেশি থেকে দেশীয়; পানি থেকে পানীয় ইত্যাদি।
ব্যতিক্রম: ইন্দ্র> ইন্দ্রিয়।
 
হীরা ও নীল অর্থে সকল বানানে ঈ-কার হবে। যেমন: হীরা, হীরক, হীরামন, নীল, সুনীল, নীলক, নীলিমা ইত্যাদি।

পর্ব/২৯

অশুদ্ধ > শুদ্ধ: শ্রবন > শ্রবণ রেনু > রেণু মৃণ্ময় > মৃন্ময় ব্যবধাণ > ব্যবধান দর্শণ > দর্শন দুস্কর > দুষ্কর হিরন্ময় > হিরণ্ময় নমষ্কার > নমস্কার দুর্ণাম > দুর্নাম সুসমা > সুষমা সাধারন > সাধারণ বানিজ্য > বাণিজ্য নিস্পাপ > নিষ্পাপ বেণি > বেণী দুস্কর > দুষ্কর প্রার্থণা > প্রার্থনা প্রণষ্ট > প্রনষ্ট পরিস্কার > পরিষ্কার বিসন্ন > বিষণ্ণ শ্রাবন > শ্রাবণ পুন্য > পুণ্য ওস্ঠ >ওষ্ঠ সোড়শ > ষোড়শ মূর্ধণ্য > মূর্ধন্য
এককথায় প্রকাশ
========
ঋতুদ্বয়ের মিলনকাল : ঋতুসন্ধি
ঋষির দ্বারা উক্ত : আর্ষ
ঋণ গ্রহণ করে যে : অধমর্ণ
ঋণ দেয় যে : উত্তমর্ণ
ঋদ্ধিযুক্ত ব্যক্তি : ঋদ্ধিমান
ঋণের সুদ হিসেবে জমির ফসল দান : জায়সুদি
 
————————————
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
— — — — — — — — — — — — — — — — —
Spelling and Pronunciation
HTTPS://DRAMINBD.COM/ENGLISH-PRONUNCIATION-AND-SPELLING-RULES-ইংরেজি-উচ্চারণ-ও-বান/
 
 
 
 
error: Content is protected !!