জনক : লিউয়েন হুক : জীবাণু বিদ্যার জনক

লিউয়েন হুক : জীবাণু বিদ্যার জনক
ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্থনি ভন লিউয়েনহুক (অক্টোবর ২৪, ১৬৩২ – আগস্ট ৩০, ১৭২৩) প্রথম অণুবীক্ষণযন্ত্র তৈরি করেন এবং ব্যাক্টেরিয়া, ঈস্ট, রটিফার, স্নায়ুকোষ, হাইড্রা, প্রোটোজোয়া, শুক্রাণু এবং ভলভক্স ইত্যাদির সঠিক বর্ননা দেন। তিনি ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে অণুজীবের অবাতবৃদ্ধি আবিষ্কার করেন। তিনি প্রমাণ করেন পতঙ্গের চক্ষু সরল নয়-পুঞ্জাক্ষি অর্থাৎ অনেকগুলো ক্ষুদ্র চক্ষুর মিলন। তাই তাকে জীবাণু বিদ্যার জনক বলা হয়। তিনিই প্রথম বলেন, রক্তের মধ্যে রক্তরসসহ বিভিন্ন কণিকা বিদ্যমান এবং শিরা ও ধমনীর সংযোগস্থলে রক্তজালক বর্তমান। মাছ, উভচর প্রাণী এবং মানুষের লোহিত রক্ত কণিকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের কথা তিনিই প্রথম ঘোষণা করেন। লিউয়েন হুককে গবেষণা কর্মে উৎসাহ প্রদান ও আবিষ্কারের সম্মান স্বরূপ রাশিয়ার সম্রাট পিটার দি গ্রেট ও ইংল্যান্ডের রানি এলিজাবেথ তাঁর গৃহে এসে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে ব্যাক্টেরিয়া প্রত্যক্ষ করেন। তিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ২০০-৪০০ গুণ বিবর্ধন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রায় ২৫০টি অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করেছিলেন। তার গবেষণা অনুজীববিজ্ঞানের আধুনিকতার ভিত্তি। ব্যক্তিজীবনে প্রথমে তিনি ছিলেন একজন ঝাড়ুদার। অধ্যয়ন, শ্রম, মেধা, সাধনা ও অধ্যবসায়ের কারণে তিনি সর্বকালের সেরা কজন বিজ্ঞানীর একজনে পরিণত হন। এই ঝাড়ুদারই একদিন হয়েছিল সর্বোচ্চ অভিজাতদের সংস্থা লন্ডনের রয়াল সোসাইটির সদস্য।

ড. মোহাম্মদ আমীন

জনক : জন লক : আধুনিক গণতন্ত্রের জনক 

error: Content is protected !!