জাতীয় সংগীতের ঘ্রাণ অঘ্রান: কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই; অতৎসম শব্দে ণ : কুর্নিশ; শিরহণ না কি শিহরণ

ড. মোহাম্মদ আমীন

জাতীয় সংগীতের ঘ্রাণ অঘ্রান: কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই; অতৎসম শব্দে ণ : কুর্নিশ; শিরহণ না কি শিহরণ

জাতীয় সংগীতের ঘ্রাণ অঘ্রান: কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই

ঘ্রাণ অর্থ গন্ধ। রবীন্দ্রনাথও ‘ঘ্রাণ’ দিয়ে আমাদের জাতীয় সংগীতে গন্ধের কথা বলেছেন, “ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে—।”
ঘ্রাণ বানানে মূর্ধন্য-ণ কেন?
ণত্ববিধি মতে, র ধ্বনির (র, র-ফলা, রেফ) পরের দন্ত্য-ন, মূর্ধন্য-ণ হয়ে যায়। তাই ঘ্রাণ বানানে মূর্ধন্য-ণ। ঘ্রাণ থেকে অঘ্রাণ, মানে গন্ধহীন। শব্দটি বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঘ্রাণ বানানে যে কারণে মূর্ধন্য-ন, সে একই কারণে অঘ্রাণ বানানেও মূর্ধন্য-ণ
তাহলে রবীন্দ্রনাথ অঘ্রান বানানে দন্ত্য-ন দিলেন কেন?
কোথায়?
আমাদের জাতীয় সংগীতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন: “ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি- – -।” রবীন্দ্রনাথ কি ভুল করেছেন?
না, তিনি ভুল করেননি। রবীন্দ্রনাথের এই অঘ্রান, গন্ধ অঘ্রাণ নয়। সংস্কৃত অগ্রহায়ণ (বাংলা পঞ্জিকার অষ্টম মাস) থেকে উদ্ভূত অঘ্রান। এটি অতৎসম । অতৎসম শব্দের বানানে সাধারণত মূর্ধন্য-ণ হয় না। তাই অঘ্রান বানানে দন্ত্য-ন। গন্ধজ্ঞাপক ঘ্রাণ ও গন্ধহীন অঘ্রাণ তৎসম শব্দ।তাই বানানে মূর্ধন্য-ণ। মনে রাখতে হবে ণত্ববিধি কেবল তৎসম শব্দে চলে। এজন্য দরুন কিন্তু দারুণ, ধরন কিন্তু ধারণ, করণিক কিন্তু কেরানি, কোণ কিন্তু কোনা, এক্ষণে কিন্তু এক্ষুনি, করুণানিধান কিন্তু করোনাভাইরাস।
কী দারুণ! রবি আমাদের জাতীয় সংগীতে ণ ন কাউকে বঞ্চিত করেননি। এমন সর্বজনীন জাতীয় সংগীত কোথায় পাবে আর?
 
অতৎসম শব্দের বানানে কি মূর্ধন্য-ণ থাকে?
অনেকে বলেন থাকে না। আমি কিন্তু দেখেছি। যেমন: ক্ষণে, ক্ষণে ক্ষণে, বর্ণা, বর্ণিল, বর্ণানুক্রমে, বর্ণালি, কোণঠাসা, কোণঘেঁষা প্রভৃতি অতৎসম হলেও তাদের বানানে ণ আছে। এরূপ আরও কিছু শব্দ আছে। জানা থাকলে বলুন।
————————————————————————–
ক্ষণে: স. ক্ষণ+বা.এ
বর্ণ: সংস্কৃত বর্ণ থেকে উদ্ভূত খাঁটি বাংলা বর্ণা। অর্থ বর্ণনা করা ব্যাখ্যা করা।
বর্ণালি: বাংলা শব্দ। অর্থ spectrum.
বর্ণিল: সংস্কৃত বর্ণ থেকে উদ্ভূত খাঁটি বাংলা শব্দ। অর্থ বর্ণময়, রঙিন।
বর্ণানুক্রমে: সংস্কৃত ‘বর্ণানুক্রম’ ও বাংলা ‘এ’ নিয়ে গঠিত।

কুর্নিশ বানানে ণ দেব না কেন?

কুর্নিশ তুর্কি শব্দ। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত এই কুর্নিশ শব্দটির অর্থ সম্ভ্রমপূর্ণ অভিবাদন। বিদেশি শব্দের বানানে ণ হয় না। তাই কুর্নিশ বানানে মূর্ধন্য-ণ দেবেন না, দন্ত্য-ন দেবেন। ণ-এর মতো এত লম্বা পা নিয়ে কুর্নিশ করা মুশকিল হয়ে যাবে। একই কারণে কোরআন, কোরান, কোরবানি প্রভৃতি শব্দের বানানেও ণ নেই।
 
শিহরণ নয়, শিহরন
অতৎসম শব্দে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, শিহরন বাংলা শব্দ। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত শিহরন শব্দের অর্থ রোমাঞ্চ, কম্পন প্রভৃতি। অতৎসম শব্দ বলে ‘শিহরন’ বানানে মূর্ধন্য- ণ অনাবশ্যক।
 

প্রয়োজনীয় কিছু লিংক

শুবাচ গ্রুপ এর লিংক: www.draminbd.com

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি
শুবাচ আধুনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান
 
এক মিনিট সময় দিন বানানগুলো শিখে নিন
error: Content is protected !!