জানাজানি জানব হানাহানি করব না: অভিনব অভিজ্ঞতা

ড. মোহাম্মদ আমীন

জানাজানি জানব হানাহানি করব না: অভিনব অভিজ্ঞতা শুবাচ

জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা ১

বাংলায় অতৎসম শব্দের বানানে প্রথমে সাধারণত ব্য হয় না। ব্যা হয়। এই যেমন: ব্যাবসা। এটি অতৎসম। অতৎসম ব্যাবসা শব্দের বানানে ব্য-এ আ-কার আছে। তৎসম ব্যবসায় শব্দের বানানে ব্য-এ আ-কার নেই। বাকি উদাহরণ আর প্রত্যুদাহরণ আপনাদের অধিকারে। মনে মনে মিলিয়ে নিন। ব্যতিক্রম পান কি না দেখুন। ভুল হলেও বলে দেবেন। জানব।

———————-
‘সাধারণত ’মারাত্মক সুবিধাবাদী শব্দ। এটাকে ঢাল হিসেবে নিলে আপনাকে সহজে কেউ হারাতে পারবে না। আমি কী বলতে চাইছি, নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন। এটাও যযাতির অংশ। এসব কোন বইতে পাবেন? ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র নামের বইয়ে।  প্রকাশক: পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
 
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা
আপনি অতৎসম শব্দের বানানে সব পাবেন। এমনকি ষ আর ণ বর্ণও পাবেন। ষ-যুক্ত ক (ক্ষ) যুক্তব্যঞ্জনও পাবেন। কিন্তু কখনো চন্দ্রবিন্দু পাবেন না। দেখুন পান কি না। পেলে জানাবেন। জানব। জানার কাছে সব আছে, কিন্তু শেষ নেই।
উদাহরণ ও প্রত্যুদাহরণ আপনার অধিকারে।
 
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা
 যে শব্দের বানানে চন্দ্রবিন্দু আছে চোখ বুজে বলে দিন সেটি তৎসম নয়, অতৎসম শব্দ। সুতরাং, চন্দ্রবিন্দু-যুক্ত বানানের সব শব্দই অতৎসম। ব্যতিক্রম পেয়ে থাকলে জানাবেন। আমরা জানার জন্য অপেক্ষা করে আছি। জানলে যারা জানতে চান তাঁদের জানানো আপ মহানুভবতার পরিচায়ক।
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা
হিন্দি ঝাংক থেকে উদ্ভূত ঝাঁক অর্থ—  (বিশেষ্যে) পাখি পতঙ্গ প্রভৃতির দল। ঝাঁক শব্দের বানানে চন্দ্রবিন্দু আছে। তাই ঝা-এর পর ক-হয় এমন সব শব্দের প্রথম ঝ-এর আ-কারের মাথায় চন্দ্রবিন্দু বসিয়ে দেবেন। যেমন: ঝাঁকড়মাকড়, ঝাঁকড়া, ঝাঁকড়ামাকড়া, ঝাঁক বাঁধা, ঝাঁকবাঁধা, ঝাঁকরানি, ঝাঁকরানো, ঝাঁকা, ঝাঁকানি, ঝাঁকানো, ঝাঁকামুটে, ঝাঁকি, ঝাঁকিদর্শন, ঝাঁকুনি, ঝাঁকেঝাঁকে প্রভৃতি। 
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা
 
ঝাঁজ বানানে চন্দ্রবিন্দু আছে। তাই সব ঝাঁজ ও ঝাঁঝ বানানে চন্দ্রবিন্দু দেবেন। যেমন: ঝাঁজর, ঝাঁজরা, ঝাঁজরি, ঝাঁজালো, ঝাঁজি, ঝাঁঝ, ঝাঁঝর, ঝাঁঝরা, ঝাঁঝরি, ঝাঁঝা, ঝাঁঝালো, ঝাঁঝি প্রভৃতি বানানেও চন্দ্রবিন্দু হবে।
 
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা
ব্যতিক্রান্ত ক্ষেত্র ছাড়া গ, ক্ত, জ, ঞ্জ, ত, থ, ব, ভ, ষ্ট, স্ত প্রভৃতির পূর্বে শব্দের প্রথমে সাধারণত ব-য়ে য-ফলা (ব্য) হবে। যেমন— ব্যগ্র, ব্যক্ত, ব্যক্তি, ব্যক্তিত্ব, ব্যঙ্গ, ব্যঞ্জন, ব্যতিক্রম, ব্যতিক্রান্ত, ব্যথা, ব্যতীত, ব্যবসায়, ব্যবসিক, ব্যর্থ, ব্যবস্থা, ব্যভিচার, ব্যষ্টি, ব্যস্ত, ব্যবহার, ব্যয় ইত্যাদি। ক্ষেত্রবিশেষে ধ, প, য় বর্ণের আগেও ব্য হয়। যেমন: ব্যধিকরণ, ব্যপদেশ, ব্যপদিষ্ট, ব্যয় প্রভৃতি।
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা
 ক, খ, ঘ, দ, ধ, প, প্ত, স, হ প্রভৃতি বর্ণের পূর্বে ব-য়ে য-ফলা আ-কার (ব্যা) হবে। যেমন—ব্যাকরণ, ব্যাকুল, ব্যাকৃতি, ব্যাখ্যা, ব্যাঘাত, ব্যাধি, ব্যাপক, ব্যাপার, ব্যাপৃত, ব্যাপ্তি, ব্যাপ্য, ব্যাস, ব্যাসার্ধ ব্যাহত, ব্যাহরণ, ব্যাপী, ব্যাপারী, ব্যাপার ইত্যাদি। দ্রষ্টব্য: ব, প, স, বর্ণের পূর্বে ব্য ও ব্যা ব্যবহারের কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। তবে এই ব্যতিক্রান্ত শব্দ বিরল।
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা
বিদেশি ও অতৎসম শব্দের বানানে ব্যা হবে। যেমন: ব্যাংক, ব্যাট, ব্যাজ, ব্যাজার, ব্যাটা, ব্যানার, ব্যারাক, ব্যারিস্টার, ব্যালট, ব্যাবসা প্রভৃতি।
স্মর্তব্য: এটি বানান নিমোনিক। ব্যতিক্রম অনিবার্য। তাই গণিতের মতো শতভাগ প্রযোজ্য হবে— এমনটি আশা করা সমীচীন নয়।
সূত্র: ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. 
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা
 বিশেষ্য পদের শেষে ‘অ/আ’ থাকলে বান বসবে কিন্তু ‘ই/ঈ, বা উ/ঊ’ থাকলে মান বসবে। যেমন: অ/আ: অর্থ> অর্থবান, ক্ষমতা> ক্ষমতাবান, চরিত্র> চরিত্রবান, দয়া> দয়াবান, প্রজ্ঞা> প্রজ্ঞাবান, পুণ্য>পুণ্যবান; ই/ঈ, উ/ঊ: কৃষ্টি> কৃষ্টিমান, আয়ু> আয়ুষ্মান,দ্যুতি> দ্যুতিমান, ঋদ্ধি> ঋদ্ধিমান, অংশু> অংশুমান, শক্তি> শক্তিমান। কিন্তু, অগ্নি> অগ্নিবাণ।
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা ১০
ত্যক্ত ও ত্যজন (ত্যজ্যমান) কিংবা এ দুটি শব্দ যোগে গঠিত শব্দ ছাড়া বাংলায় আর কোনো শব্দের প্রথমে ত্য হয় না। সবগুলো ত্যা দিয়ে শুরু করতে হয়। যেমন: ত্যাঁদড়, ত্যাগ, ত্যাজ্য, ত্যাড়া, ত্যারচা এবং এগুলো সহযোগে গঠিত অন্যান্য শব্দ।
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা১১
 
ড্যাশ(—) বানান ছোটো। মাত্র দুটি বর্ণ। তাই তাকে লম্বা করে জন্ম দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, হাইফেন(-) বেঁটে হলেও বানানে ড্যাশ-এর দ্বিগুণ বর্ণ রয়েছে। বেঁটে বলে তাকে দেওয়া হয়েছে লম্বা নাম। অর্থাৎ, এ দুটো যতিচিহ্নের মধ্যে যার নাম লম্বা সে বেঁটে এবং যার নাম বেঁটে সে লম্বা। তাই লেখার সময় ড্যাশকে হাইফেন-এর দ্বিগুণ লম্বা করে লিখতে হয়।
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা ১২
বিদেশি এবং অতৎসম শব্দের বানানের প্রথমে য-ফলা সর্বদা আ-কার নিয়ে বসে। যেমন: অ্যাডমিন, অ্যাকাউন্ট, চ্যালা, চ্যাপটা, জ্যাঠা, ড্যাশ, ঢ্যাঁড়শ, ব্যাংক, ট্যাংক, ধ্যাৎ, ত্যাড়া, ত্যাঁদড়ামি, ত্যাঁদড়, ন্যাকড়া, ন্যাড়া, ন্যাতানো, ন্যাকামি, প্যাক, ফ্যাক্স, ফ্যাশন, ফ্যাঁকড়া, ফ্যাকাশে, ফ্যাসিবাদ, ভ্যাবাচ্যাকা, ভ্যান, ব্যাট, ব্যাটা, ব্যানার, ব্যান্ডসংগীত, ম্যাগাজিন, ম্যাচ, ম্যানেজার, ম্যালেরিয়া, ম্যাক্সি, র‌্যাক, র‌্যালি, ল্যাংড়া, ল্যাজ, ল্যাপটপ, ল্যান্ড, ল্যাবরেটরি, শ্যালক, শ্যাম্পু, স্যানাটোরিয়াম, স্যান্ডউইচ, স্যাকরা, হ্যান্ডবিল, হ্যাজাক, হ্যাংলামি — ।
নিমোনিকটির ব্যতিক্রম আছে কী?  থাকলে বলুন।
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা ১৩
 
উচিত (√উচ্‌+ত) সংস্কৃত শব্দ। বাক্যে সাধারণত বিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহৃত শব্দটির অর্থ – যোগ্য, যথাযথ প্রভৃতি। শব্দটির শেষ বর্ণ উচ্চারণে হসন্ত। তাই বানানে ‘খণ্ড-ৎ’ হবে না কি ‘আস্ত-ত’ হবে তা নিয়ে সংশয়ে লেগে যায়। সংশয় দূর করার জন্য একটা নিমোনিক মনে রাখুন : অপূর্ণ বর্ণ হিসেবে খণ্ড-ৎ অনুচিত বর্ণ। তাই ‘উচিত’ বানানে উচিত বর্ণ ‘আস্ত-ত’ দিয়ে লিখুন।
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা ১৪
ব্যক্তি না হলে সেসব শব্দের বানানে সাধারণত তরকারি বানানের ‘-কারি’ দেবেন। যেমন: পাইকারি, পায়চারি, সরকারি, দরকারি, তরকারি। এসব শব্দ ব্যক্তি বোঝায় না। তাই তরকারি বানানের -কারি।
ব্যক্তি প্রকাশ করলে ‘-কারী’ দিতে হবে। কারণ, ব্যক্তির সঙ্গে তরকারি দিলে খেয়ে ফেলবে। তাই ব্যক্তি প্রকাশে ‘-কারি’ হয় না; ‘কারী’ হয়। যেমন: সহকারী, উপকারী, কর্মচারী, দরখাস্তকারী, হঠকারী, নভোচারী, অন্যায়কারী।
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা ১৫
মানুষ গর্তে পড়ে, প্রেমে পড়ে, ম্যানহোলে পড়ে, টেবিলে পড়ে,
পানিতে পড়ে, কষ্টেও পড়ে। সুখেও পড়ে,
দুঃখেও পড়ে কিন্তু কখনও
কাপড় পড়ে না।
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা ১৬
নিরীহদেরই নীরব থাকতে হয়। এটাই জগতের নিয়ম। তাই আগে নিরীহ তারপর নীরবতা। বর্ণমালায় ই, ঈ বর্ণের আগে। এজন্য নিরীহ বানানের প্রথমে ই-কার এবং নীরব বানানের ঈ-কার। নিরীহ ও নীরব বানান লেখার সময় সংশয় এলে মনে মনে বলতে থাকুন: নিরীহদের নীরব থাকতে হয়। আমি নিরীহ বলে নীরব।
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা ১৭
ফোঁটা ফোঁট জল পড়ে জ্বর আসতে পারে। তাই জলের ফোঁটায় ছাতা দিতে হয়। ওই ছাতা হচ্ছে চন্দ্রবিন্দু। এজন্য তরল পদার্থের বিন্দু, টিপ, তাসের চিহ্ন, তিলক (ভাইফোঁটা) প্রভৃতি ফোঁটা বানানে চন্দ্রবিন্দু দিতে হয়। ফোঁড় বানানে চন্দ্রবিন্দু দিতে হবে। কারণ ফোঁড়তে গেলে সুচালো জিনিস লাগে। ওটি চন্দ্রবিন্দু।
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা ১৮
উত্ত্যক্ত বানানটিতে ত্-য়ে ত‌ দিয়ে য-ফলা দিতে হয়। মনে রাখবেন উত্ত্যক্ত= উত্+ত্যক্ত। অতি ত্যক্তই উত্ত্যক্ত। তাই বানানে অতিরিক্ত একটি ত্ দিয়ে তার সঙ্গে উত্ত্যক্ত করার প্রমাণস্বরূপ একটি য-ফলা দিতে হয়। আপনি কাউকে উত্ত্যক্ত করবেন, অথচ বেতস্বরূপ হাতে য-ফলা-দণ্ড থাকবে না, তা কীভাবে হয়?
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা ১৯
 
জানাজানি জানব: অভিনব অভিজ্ঞতা ২০
ভুঁড়ি শব্দের অর্থ বড়ো পেট। তাই বড়ো পেটের প্রমাণস্বরূপ ‘ভুঁড়ি’ বানানে ড়। এটি অতৎসম। তাই চন্দ্রবিন্দু এবং উ-কার। বাকি যেটি সেটি ভূরি। মানে প্রচুর। এখানে চন্দ্রবিন্দু নেই। ঊ-কারও  নেই। 
 
 
 
জানাজানি জানব হানাহানি করব না: অভিনব অভিজ্ঞতা সমগ্র নিচের লিংকে
https://draminbd.com/জানাজানি-জানব-হানাহানি-ক/
 
 
 
error: Content is protected !!