জার্মান ফরাসি; ফরাসি ফারসি, গোল্লায় যাওয়া

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ:  https://draminbd.com/জার্মান-ফরাসি-ফরাসি-ফারস/
জার্মান ও ফরাসি: জার্মান ও ফরাসি কোনও দেশ বা দেশের নাম নয়। অনেকে জার্মান ও জার্মানি এবং ফরাসি ও ফ্রান্স অভিন্ন মনে করেন । প্রকৃতপক্ষে জার্মানির অধিবাসী ও তাদের ভাষাকে জার্মান বলা হয়। অন্যদিকে ফ্রান্সের অধিবাসী ও তাদের ভাষাকে ফরাসি (বা ফ্রেঞ্চ) বলা হয়। আর একটা বিষয় লক্ষণীয়, ফরাসি আর ফারসি এক নয়। ফারসি হচ্ছে ইরানের ভাষা, যাকে পার্সিয়ানও বলে কিন্তু ফরাসি হচ্ছে ফ্রান্সের নাগরিকদের ভাষা। ফ্রান্স ছাড়াও আরও অনেক দেশের নাগরিক ফ্রেন্স বা ফরাসি ভাষায় কথা বলে। অবশ্য তাদের ভাষা ফরাসি হলেও নাগরিকগত্ব বিবেচনায় তারা ফরাসি হিসেব পরিচিত নন।
ফরাসি ও ফারসি: ফরাসি হলো ফ্রান্সের ভাষা, ফ্রান্সের জনগোষ্ঠী। যাকে ফ্রেঞ্চ বলা হয়। এটি ইংরেজীর পর দ্বিতীয় সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিক ভাষা। পৃথিবীর ৫৪ টি দেশে এই ভাষা প্রচলিত। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ডের একাংশ, ডেনমার্কের একাংশ, কানাডার কয়েকটি প্রদেশ , সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, পুর্ব আফ্রিকার অনেক দেশ, ভারতের পান্ডেচেরি রাজ্য, আফ্রিকার মরক্কো, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, এশিয়ার ভিয়েতনাম, লাওসের কিছু এলাকা, আমেরিকার লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্য-সহ অনেক এলাকার অধিবাসীর  প্রধান ভাষা ফরাসি।  ইংরেজি শব্দভান্ডারের কমপক্ষে ৭০ ভাগ শব্দের উৎস ফরাসি। উনবিংশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত ফরাসি ই ছিল Lingua franca (আন্তর্জাতিক ভাষার তুল্য)। 
ফারসি হচ্ছে পার্সি বা ইরানিদের ভাষা।  উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের পূর্ব পর্যন্ত দাপ্তরিক ভাষা ছিল ফারসি। ব্রিটিশরা উপমহাদেশ দখলের পর ফারসির বদলে ইংরেজি হয়ে যায় ব্রিটিশ-ভারতের দাপ্তরিক ভাষা। ফার্সি ভাষা মধ্য এশিয়ায় প্রচলিত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার ইরানীয় শাখার অন্তর্ভুক্ত একটি ভাষা। পারস্যের প্রাচীন জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে ফার্সি ভাষার উদ্ভব হয়েছে। বর্তমানে ভাষাটির তিনটি সরকারি রূপ প্রচলিত: ইরানে এটি পর্সি নামে পরিচিত। আফগানিস্তানে এটি দ্যারী নামে পরিচিত; তাজিকিস্তানে  তজিকি নামে পরিচিত। এই তিনটি দেশের সরকারি ভাষা ফারসি। ফরাসি ভাষা একটি রোমান্স ভাষা যার মূল প্রচলন হয়েছিল ইউরোপ মহাদেশে। প্রধানত ফ্রান্স ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও তার পার্শ্ববর্তী কিছু দেশে। এছাড়াও ফরাসি ভাষা জাতিসংঘ ও আরও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার দাপ্তরিক ভাষা।
গোল্লায় যাওয়া:গোল্লায় যাওয়া’ কথার অর্থ অধঃপাত। ‘গোল্লায় যাওয়া’ কথায় বিদ্যমান ‘গোল্লা’ অর্থ শূন্য। ‘পরীক্ষায় গোল্লা পাওয়া’ অর্থ পরীক্ষায় শূন্য পাওয়া, পরীক্ষায় চরমভাবে খারাপ করা,  চরম অধঃপাত, উন্নতি হতে দূরে সরে যাওয়া। পরীক্ষায় শূন্য বা গোল্লা পাওয়া মানে কোনো পরীক্ষার্থীর চরম পতন তা যে পরীক্ষায় হোক না। গণিতে শূন্যের মান যাই হোক না, পরীক্ষায় শূন্য পাওয়া কোনোভাবে কাম্য নয়; এর মানে চরমভাবে ফেল করা। ‘গোল্লায় যাওয়া’ কথার নিহিত অর্থ চরম অধঃপাতের চিহ্ন হিসেবে পরিচিত শূন্যের জগতে চলে যাওয়া। এই সূত্রে ‘গোল্লায় যাওয়া’ কথাটি অধঃপাত কথার সমার্থক হয়ে যায়।
—————————————————————-
error: Content is protected !!