জিজ্ঞাসা বনাম প্রশ্ন: বাড়ির ত্রিসীমানা: মওজুদ মজুত ও মজুদ

ড. মোহাম্মদ আমীন

 এই পেজের সংযোগ: https://draminbd.com/জিজ্ঞাসা-বনাম-প্রশ্ন-বাড়/

জিজ্ঞাসা বনাম প্রশ্ন: বাড়ির ত্রিসীমানা: মওজুদ মজুত ও মজুদ

মওজুদ মজুত ও মজুদ
মওজুদ: এই শব্দটি আরবি উৎসের। আভিধানিক অর্থ— (বিশেষণে) সঞ্চিত এবং (বিশেষ্যে) সঞ্চয়, জমা।
মজুত: আরবি মৌজুদ থেকে উদ্ভূত মজুত অর্থ— (বিশেষ্যে) সঞ্চয় এবং (বিশেষণে) সঞ্চিত। মজুত থেকে এসেছে মজুতদার, মজুতদারি, মজুতঘর প্রভৃতি।
অর্থ থেকে দেখা যায়, মওজুদ ও মজুত সমার্থক।
মধ্যপ্রাচ্যের সব মওজুদ/মজুত তেল এখন আমেরিকার ঘরে মওজুদ/মজুত।
মজুদ: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে মজুদ বানানের কোনো শব্দ নেই।
 
জিজ্ঞাসা ও প্রশ্ন
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত প্রশ্ন(প্রচ্ছ্‌+ন) অর্থ— (বিশেষ্যে) জিজ্ঞাসা (কঠিন প্রশ্ন); অনুসন্ধানের বিষয়; সমস্যা। প্রশ্ন থেকে এসেছে— প্রশ্নকর্তা, প্রশ্নপত্র, প্রশ্নবাণ, প্রশ্নবোধক, প্রশ্নব্যাংক, প্রশ্নমালা, প্রশ্নাতীত, প্রশ্নাত্মক, প্রশ্নোত্তর প্রভৃতি শব্দ। সংস্কৃত   জিজ্ঞাসা [জ্ঞা+সন্‌+অ+আ (টাপ)] অর্থ—  (বিশেষ্যে) জানার ইচ্ছা, কৌতূহল; প্রশ্ন (জিজ্ঞাসা করা); জ্ঞানানুসন্ধান, তত্ত্বানুসন্ধান।
আভিধানিক অর্থ বিবেচনায় দেখা যায়— জিজ্ঞাসা ও প্রশ্ন সমার্থক। তবে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যদিও এর কোনো ব্যাকরণিক নির্দেশনা নেই। যেমন:        
প্রশ্নের ক্ষেত্রে পৃষ্ট বিষয়ের গুরুত্ব জিজ্ঞাসার চেয়ে অধিক। সাধারণভাবে প্রাতষ্ঠানিক ও অনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসা কথাটির চেয়ে প্রশ্ন কথাটি ব্যবহার করা হয়। যেমন: সাক্ষাৎকার বোর্ডের প্রশ্নগুলো সব জানা ছিল। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পড়ে খুশি হয়েছি। অনানুষ্ঠানিক বিষয়ে জিজ্ঞাসার ব্যবহার অধিক পরিলক্ষিত হয়। যেমন: বাবার জিজ্ঞাসা/জিজ্ঞাস্য বিষয় আমি কখন বাজারে যাব।
 
 
বাড়ির ত্রিসীমানা
“বাড়ির ত্রিসীমানায় আসবি না, ঠ্যাং ভেঙে হাতে ধরিয়ে দেব।” এখানে বর্ণিত ত্রিসীমানা কী?
অভিধানমতে, ত্রিসীমানা অর্থ— (বিশেষ্যে) তিনটি প্রান্ত বা কিনারা; সান্নিধ্য, সমীপ্য। অর্থাৎ, ত্রিসীমানা= তিন সীমানা বা তিনটি সীমা যার। এখন দেখা যাক, ত্রিসীমানা কেন এবং ত্রিসীমানা বলতে কী বুঝায়।
যে-কোনো জায়গার সার্বিক বিবেচনায় সীমানা থাকে তিনটি, চারটি নয়। যেমন: দৈর্ঘ্যসীমা, প্রস্থসীমা এবং উল্লম্বসীমা বা ঊর্ধ্বসীমা। অর্থাৎ: দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা মিলে সামগ্রিক সীমানা। যাকে গাণিতিক বা হিসাবের ক্ষেত্রে ঘনমাত্রা বলা হয়। এজন্য যে-কোনো বস্তু, প্রাণী বা স্থানকে ত্রিমাত্রিক বলা হয়।
এখানে ত্রিসীমানা হচ্ছে: ঊর্ধ্ব, নিচ এবং চারপাশ। কোথাও কারো প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে রোধ করতে হলে বর্ণিত ত্রিসীমানা বন্ধ করা আবশ্যক। এই তিন সীমানার বাইরে কোনো সীমা আর নেই।
 
চুন চুনা চুনকাম চুনকালি এবং চুনাপুঁটি ও চুন্নি
চুন হলো ঝিনুক শামুক প্রভৃতি পুড়িয়ে পাওয়া ক্ষারপদার্থ। একসময় কেবল এভাবে চুন উৎপাদন করা হতো। এখন এর প্রধান উৎস খনি। চুনের রং সাদা। একদম কাকের বিষ্ঠার মতো। নানাকাজে চুন ব্যবহার করা হয়। পান খেতেও চুন লাগে। কবির ভাষায় চুন ছাড়া পান খাওয়া কী চলে- – -।  চুন-এর সঙ্গে কাম লাগলে হয় চুনকাম। তখন এর অর্থ চুনগোলা পানির প্রলেপ। এই প্রলেপ পাকা দেওয়ালে দেওয়া হয়। চুনকালি অর্থ কলঙ্ক। দেওয়ালে চুনকাম করলে দেওয়াল সুন্দর হয়, কিন্তু মুখে পড়লে হয়ে যায় চুনকালি, মানে কলঙ্ক। চুন দিয়ে তৈরি বা চুনযুক্ত কিংবা চুনের মতো বৈশিষ্ট্যের অধিকারী জিনিসকে বলা হয় চুনা। চুন, পুঁটি মাছের সঙ্গে লাগলে হয়ে যায় খুদে, খুদে মাছ। এই যেমন চুনাপুঁটি। অনেকে বলে— চুনোপুঁটি। যে বা যারা চুন উৎপাদন করে তাকে বা তাদের বলে চুনারি বা চুনুরি। চুন্নির সঙ্গে কিন্তু, চুনের কোনো সম্পর্ক নেই। যে নারী চুরি করে তাকে বলে চুন্নি। চুন্নিকে চোরের বউ হতে হবে এমন কোনো নির্দিষ্টতা নেই।
 
 

 
লিংক:https://draminbd.com/জিজ্ঞাসা-বনাম-প্রশ্ন-বাড়/
 
 
 
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
 
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
error: Content is protected !!