ঠ বিধি, শিহরণ না কি শিহরন, দোছতরি, কানীন কানীনী; ফস্টিনস্টি নিয়ে ফষ্টিনষ্টি

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/ঠ-বিধি-শিহরণ-না-কি-শিহরন-দো/

ঠ-বিধি:  ঠ বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া শব্দ সাধারণত অতৎসম হয়। ব্যতিক্রম খুব বিরল। যেমন: ঠক্কুর। প্রসঙ্গত, সংস্কৃত ঠক্কুর থেকে ঠাকুর শব্দের উদ্ভব। এই ঠক্কুর ছাড়া আর কোনো তৎসম শব্দ দেখা যায় না।

শিহরণ না কি শিহরন:  উত্তরশিহরন। কারণ, ‘শিহরন’ অতৎসম শব্দ। অতৎসম শব্দের বানানে সাধারণত মূর্ধন্য-ণ হয় না। যেমন: কুরআন, কর্নেল, ঠান্ডা, ভান্ডার, আন্ডা, বরন, হর্ন, ইরান, তুরান, ইত্যাদি। এসব শব্দ অতৎসম। তাই বানানে দন্ত্য-ন। তৎসম হলে এসব শব্দের বানানে ‘ণ‘ হতো।

কিমা:  কুচি কুচি করে কাটা মাংসকে এককথায় কী বলা হয়? কুচি কুচি করে কাটা মাংসকে এককথায় ‘কিমা’ বলা হয়। কিমা ফারসি উৎসের শব্দ। তারা কিমা পরোটা খাচ্ছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে মেরে একদম কিমা বানিয়ে দেব।

 দোছতরি: ইংরেজি FALSE CEILLING কথার বাংলা প্রতিশব্দ কী? ইংরেজি ‘False ceiling’ কথার বাংলা প্রতিশব্দ দোছতরিদোছতরি দেশি শব্দ। অভিধান মতে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত অর্থ— ঘরের বড়ো ছাদের নিচে নির্মিত ছোটো ছাদ। দোছতরি শব্দের উচ্চারণ: দোছোত্‌রি।

কানীন কানীনী:  কুমারীর গর্ভজাত সন্তানকে জারজ বলা যায়। এর কি কোনো শ্রুতিমধুর ইতিবাচক শব্দ আছে?  আছে। শব্দটি হচ্ছে ‘কানীন’কুমারীর গর্ভজাত পুত্র সন্তান বা কুমারী মাতার গর্ভজাত পুত্র সন্তানকে এককথায় ‘কানীন’ বলা হয়। সংস্কৃত কন্যা থেকে কানীন (কন্যা+ঈন)। এর স্ত্রীবাচক পদ কানীনী

ফাউ:  আমরা আম কিনতে গেলে, গাছের মালিক কিছু আম বেশি দেয়। যেমন, ৪০ কেজি আম কিনলে ৮ কেজি আম বেশি দেয় বা বলে ৪৮ এ মণ। আসলে এই অতিরিক্ত আম দেওয়াকে আমরা বলি ‘ধলন’ দেওয়া। এর প্রমিত রূপ কী?  প্রমিত রূপ ফাউ। ফাউ দেশি শব্দ। (বিশেষ্যে) খুচরা বিক্রয়কালে ক্রেতাকে নির্দিষ্ট পরিমাণের অতিরিক্ত যা দেওয়া হয় তা ফাউ। (বিশেষণে) শব্দটির অর্থ অতিরিক্ত, উপরি। দিলাম ফাউ, নিলে নাও, না নিয়ে যাও।

ফস্টিনস্টি নিয়ে ফষ্টিনষ্টি: ফষ্টিনষ্টি বা ফস্টিনস্টি শব্দের অর্থ হাসিঠাট্টা, লঘু পরিহাস, ফাজলামি প্রভৃতি। এটি অতৎসম শব্দ। সে হিসেবে বানান হওয়া উচিত ‘ফস্টিনস্টি’। কিন্তু বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে শব্দটির বানান মূর্ধন্য-ষ দিয়ে লেখা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন পণ্ডিতের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, উচ্চারণের কথা ভেবে অতৎসম সত্ত্বেও ‘ফস্টিনস্টি’ শব্দটিকে অনেকে ফষ্টিনষ্টি লেখার পক্ষপাতী। তাই তারা ‘ফষ্টিনষ্টি’ লিখেন। বাংলা একাডেমি, পশ্চিমবঙ্গের বাংলা অ্যাকাদেমিকে অনুসরণ করতে গিয়ে ‘ফস্টিনস্টি’ শব্দটিকে ‘ফষ্টিনষ্টি’ করে দিয়েছেন।

‘বাংলা একাডেমি’ প্রণীত প্রমিত বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী অতৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ প্রয়োগ নিষিদ্ধ। সেখানে কেবল উচ্চারণের দোহাই দিয়ে অতৎসম ‘ফষ্টিনষ্টি’ শব্দকে প্রমিত ঘোষণা, বাংলা ভাষা নিয়ে একাডেমির ফষ্টিনষ্টির একটি খারাপ নজির। অবশ্য এরূপ আরো নজির রয়েছে। উচ্চারণ অনুযায়ী বানান নির্ধারণ করতে গেলে, বাংলা একাডেমিকে, তাদের রীতি ভেঙে আরো অনেক অতৎসম শব্দের বানান পরিবর্তন করতে হয়।আমি মনে করি বাংলা একাডেমি নির্দেশিত প্রমিত বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী শব্দটির বানান ‘ফস্টিনস্টি’ হওয়া সমীচীন।
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!