ডিসি বনাম ডেপুটি কমিশনার

ড. মোহাম্মদ আমীন
ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর থেকে জেলা প্রশাসক। ১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম জেলা কালেক্টর পদ সৃষ্টি করেন। তখন পদটির নাম ছিল ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর। এজন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে এখনও কালেক্টরেট বলা হয়। এরপর প্রাশাসনিক প্রয়োজনে ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরকে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার ক্ষমতা সম্বলিত ‘ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট’ পদের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

পাকিস্তান আমলে জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধনের জন্য ডেপুটি কমিশনার নামের আর একটি পদ সৃষ্টি করা হয়। ডেপুটি কমিশনার পদ সৃজনের দ্বারা আগের ‘ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর ও ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট’ পদ বিলুপ্ত করা হয়নি বা উক্ত পদের জন্য অন্য কাউকে নিয়োগ প্রদান করা হয়নি। বরং, ‘ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর ও ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট’ পদের অধিকারীকে ‘ডেপুটি কমিশনার’ পদের দায়িত্বও প্রদান করা হয়।

২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের ১লা নভেম্বর থেকে বিচার বিভাগ পৃথক কার্যকর করা হলে ‘ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮’ পরিবর্তন করে বিচারিক কাজের জন্য জেলা পর্যায়ে ‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট’ পদ সৃষ্টি করা হয়, কিন্তু জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব আগের মতো ‘ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট’-এর উপরেই থেকে যায়।

Magistrate শব্দটি ল্যাটিন Magistratus শব্দ থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ Administrator বা শাসক। এজন্য ভারতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বাংলায় ‘জেলাশাসক’ বলা হয় । ‘শাসক’ শব্দটিকে শোভনীয় করে বাংলাদেশে ‘প্রশাসক’ শব্দটি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘জেলা প্রশাসক’ মূলত বহুল ব্যবহৃত ‘District Magistrate’ শব্দের পরিবর্তিত বাংলা রূপ। শব্দটির অর্থ জানার জন্য দেখতে পারেন “Oxford Latin Dictionary Later Printing Edition
by P. G. W. Glare (Editor)”.
—————————————————————
সূত্র : ড. মোহাম্মদ আমীন, প্রশাসনে একান্ন, আগামী প্রকাশনী।


error: Content is protected !!