ঢাকার ইতিবৃত্ত : প্রথম ও প্রধান/১

ড. মোহাম্মদ আমীন

ঢাকা
“গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান”-এর ৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ঢাকা বাংলাদেশের বৃহত্তম শহর। ভৌগোলিকভাবে ঢাকা বাংলাদেশের মধ্যভাগে বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে সমতল এলাকায় অবস্থিত।ঢাকা একটি অতিমহানগরী (মেগাশহর); ঢাকা মহানগরী এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ। জনসংখ্যার বিচারে এটি দক্ষিণ এশিয়ার দিল্লি, করাচি ও মুম্বাইয়ের পর চতুর্থ বৃহত্তম শহর এবং সমগ্র বিশ্বের নবম বৃহত্তম শহর। জনঘনত্বের বিচারে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরী। ১৩৪ বর্গমাইল আয়তনের এই শহরে প্রতি বর্গমাইল এলাকায় ১ লাখ ১৫ হাজার লোকের বাস। ঢাকা, “মসজিদের শহর” এবং বিশ্বের “রিক্সার রাজধানী” নামেও পরিচিত। এই শহরে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ রিক্সা চলাচল করে। ঢাকা শহর ২৫টি সংসদীয় এলাকায় বিভক্ত। ঢাকা নগরী চারটি নদী দ্বারা পরিবেষ্ঠিত।

রাজধানী হিসেবে ঢাকা
ঢাকা প্রথমে সমতট, পরে বঙ্গ ও গৌড় প্রভৃতি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতকের শেষের দিকে মুসলমানেরা ঢাকা দখল করে। মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জুলাই ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়। স¤্রাট আকবরের আমলে বাংলা-বিহার-উড়ষ্যার প্রাদেশিক রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল। ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেন। ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন। ১৭১৭ ষ্টিাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। ব্রিটিশরা রাজধানী হিসেবে কলকাতাকে নির্বাচিত করলে ঢাকার গুরুত্ব আবারো কমতে থাকে। ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গভঙ্গের পরে ঢাকা নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হয়। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা আবার তার গুরুত্ব ফিরে পায়। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়। কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত বিভাগের পরে ঢাকা পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসনিক রাজধানীতে পরিণত হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজধানী ঘোষিত হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী।

নামকরণ
কথিত হয়, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার একটি বিগ্রহ খুঁজে পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ বল্লাল সেন ওই এলাকায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল, তাই রাজা, মন্দিরের নাম রাখেন ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকে স্থানটির নাম হয় ঢাকা। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, মোঘল স¤্রাট জাহাঙ্গীর যখন ঢাকাকে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন; তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশস্বরূপ ‘ঢাক’ বাজানোর নির্দেশ দেন। এই ঢাক বাজানোর শব্দ যতদূর শোনা গিয়েছিল ততদুর ঢাকা শহরের সীমা নির্ধারণ করা হয়। ঢাকা বাজানোর এ কাহিনি থেকে শহরের নাম হয় ঢাকা।

ডিএমপি
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন মোট ১২টি পুলিশ স্টেশনে প্রায় ৬০০০ এরও বেশি পুলিশ সদস্য ছিল। শহরের জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পুলিশবাহিনীতে সদস্য সংখ্যা ২৩০০০ এ উন্নীত করা হয়। এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় ৩৩টি পুলিশ স্টেশনের মাধ্যমে। বর্তমানে নতুন আরও ১৮টি পুলিশ স্টেশন প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।

সুপ্রীম কোর্ট ও হাই কোর্ট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট এবং হাই কোর্ট ঢাকা শহরে অবস্থিত। বায়তুল মুকাররম বাংলাদেশর জাতীয় মসজিদ। মক্কার কাবা শরিফের নকশায় অনুপ্রাণিত হয়ে এই মসজিদের ডিজাইন করা হয়েছে। এই শহরের অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থান সমূহের মধ্যে রয়েছে বড় কাটরা, লালবাগ কেল্লা, হোসেনি দালান, আহসান মঞ্জিল, বাহাদুর শাহ্ পার্ক-জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি।

দেখুন:  ঢাকার প্রথম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ

ঢাকার ইতিবৃত্ত প্রথম ও প্রধান/২

ঢাকা পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশন

ঢাকার প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠার

বিসিএস প্রিলিমিনারি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

Language
error: Content is protected !!