ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একনজরে: বিসিএস প্রস্তুতি

বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জুলাই থেকে যার শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দের ২১ জানুয়ারি ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে এলে তিনি সরকারের কাছে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করার প্রতিশ্রুি ব্যক্ত করেন। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যারিস্টার রবার্ট নাথানের নেতৃত্বে নাথান কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির ২৫ টি সাব কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ভারত সরকার প্রস্তাবিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য রূপরেখা স্থির করে। ভারত সচিব ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে নাথান কমিটির প্রতিবেদন অনুমোদন দেন। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে ইমপেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্ববান জানান। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড চেমসফোর্ড কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়র সমস্যাসমূহ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। সেই কমিশনের উপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে পরামর্শ দেবার দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ও কার্যক্রমের সূচনা
কমিশনের প্রধান ছিলেন মাইকেল স্যাডলার। স্যাডলার কমিশন ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তেরটি সুপারিশ করে। কিছু রদবদলসহ তা ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতীয় আইন সভায় গৃহীত হয়। গভর্নর জেনারেল ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ শে মার্চ এতে সম্মতি প্রদান করেন। স্যাডলার কমিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক রেজিস্টার পি জে. হার্টগ। তিনি ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ১লা ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। ১৯২১ খ্রিষটাব্দের ১লা জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রেজিস্টার, লাইব্রেরিয়ান
উপাচার্য পি. জে. হার্টগকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে সাহায্য করেন মি. ডাব্লিউ হোরনেল, স্যার নীলরতন সরকার, স্যার আশুতোষ মুখপাধ্যায়, নবাব স্যার শামসুল হুদা ও নবাবজাদা খান বাহাদুর কে এম আফজাল। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে খান বাহাদুর নাজিরুদ্দীন আহমেদ প্রথম রেজিস্টার নিযুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম লাইব্রেরিয়ান হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মি এফ সি টার্নার। ঢাকা সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শামসুল ওলামা আবু নছর ওয়াহিদ অস্থায়ীভাবে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান হন। তিনি একই সাথে ঢাকা মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পদেও বহাল ছিলেন। পরে ওই পদে ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জুলাই ড. আবদুস সাত্তার সিদ্দিকী যোগদান করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বে প্রথম বাংলা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্বতন্ত্র সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগ খোলা হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ছিল ওরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের অন্তর্গত। সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগের প্রথম অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘বৌদ্ধ গান ও দোহা’র আবিষ্কারক কলকাতা সংস্কৃত কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। লেকচারার হিসেবে যোগ দেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রথম কমপারেটিভ ফিললজি বা তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব বিভাগের প্রথম ছাত্র এবং এম এ রিসার্চ এসিসটেন্ট মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও বিশিষ্ট লিপি বিশারদ শ্রী রাধাগোবিন্দ বসাক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রাকালীন শিক্ষক
ইতিহাস বিভাগে যোগদান করেছিলেন ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ও এ এফ রহমান। পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন বিভাগে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয় তাদের মধ্যে সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও সুরেন্দ্রনাথ ঘোষের নাম উল্লেখযোগ্য। রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম প্রধান ছিলেন ড. জ্ঞানচন্দ্র। অধ্যাপক নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত প্রথম আইন বিভাগের প্রধান নিয়োগ পান। কলা অনুষদে ২৮ জন, বিজ্ঞান অনুষদে ১৭ জন এবং আইন অনুষদে ১৫ জন শিক্ষক নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জুলাই যাত্রা শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা বিভাগ
ইংরেজি, সংস্কৃত ও বাংলা, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ, ফার্সি ও উর্দু, ইতিহাস, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, অঙ্ক বা গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন আইন এবং শিক্ষা এই ১২ টি বিভাগ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে ছাত্রছাত্রী
বিভিন্ন বিভাগের বিএ, বিএসসি ও অনার্স এবং এমএ ক্লাসে মোট ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৬০ জন শিক্ষক নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথম তিন বছরের অনার্স চালু হয়, যা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু ছিল দুই বছরের। যে সব প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে শিক্ষকতার সাথে জড়িত ছিলেন তারা হলেন : হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এফ.সি. টার্নার, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, জি.এইচ.ল্যাংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, ডব্লিউ.এ. জেনকিন্স, রমেশচন্দ্র মজুমদার, স্যার এ. এফ. রাহমান, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।

প্রথম সিনেট সভা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোর্ট বা বর্তমানে সিনেট-এর প্রথম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয় ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই আগস্ট অপরাহ্ন ৩.৩০ মিনিটে কোর্ট হাউস তথা পুরাতন গভর্নর হাউস বা হাইকোর্ট ভবনে। প্রথম বার্ষিক অধিবেশনের মুলতবি সভা বসে ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই অগাস্ট।

প্রথম সিনেট সভার কার্যক্রম
প্রথম সিনেট সভায় “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন” বিবেচনা করা হয়। এই আইনের খসড়া বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবার পূর্বে রচনা করেছিলেন টার্নার, ল্যাংলি এবং মিস্টার জেনকিনস।

সিন্ডেকেট গঠন
১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই সেপ্টেম্বর উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোর্টের বিশেষ সভায় “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় “এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল” (বর্তমানে সিন্ডিকেট)” গঠিত হয়। এর দুদিন পর ১২ই সেপ্টেম্বর ফিনান্স কমিট গঠন করা হয়।

একাডেমিক কাউন্সিলের প্রথম সভা
১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বরে একাডেমিক কাউন্সিলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৭ মার্চ একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কেন্দ্র থেকে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে একজন সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থার জন্য সরকারের কাছে প্রস্ততাব রাখা হয়।

প্রথম অনার্স পরীক্ষা এবং উদ্দেশ্য
১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ শে মার্চ একাডেমিক কাউন্সিল তিন বছরের অনার্স কোর্সের প্রথম চুড়ান্ত পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করে। ১৯২৩ খ্রিষ্টব্দের ১৭ই আগস্ট একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তা হলো “ঞৎঁঃয ংযধষষ ঢ়ৎবাধরষ” অর্থাৎ সত্যের জয় সুনিশ্চিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল
১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল ঢাকা হল (পরে শহীদুল্লাহ হল), জগন্নাথ হল এবং মুসলিম হল (পরে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল) নিয়ে। প্রত্যেকটি হলকে চারটি হাউসে বিভক্ত করা হয়েছিল। চারশ ছাত্রের জন্য এবং প্রতি পঁচাত্তর জন ছাত্রের তত্ত্ববধানের জন্য একজন করে আবাসিক শিক্ষক বা হাউস টিউটরের ব্যবস্থা ছিল। হিন্দু ছাত্রদের জন্য জগন্নাথ হল, মুসলমান ছাত্রদের জন্য সলিমুল্লাহ মুসলিম হল আর সর্বধর্মের ছাত্রদের জন্য ঢাকা হল স্থাপিত হয়।

মুসলিম ছাত্রদের জন্য হল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু মুসলিম ছাত্রদের জন্য স্থাপিত প্রথম হল “সলিমুল্লাহ মুসলিম হল”। এ হলের প্রথম প্রোভস্ট নিযুক্ত হন ইতিহাস বিভাগের রিডার স্যার এ এফ রাহমান। ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২ শে অগাস্ট বাংলার গভর্নর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর স্যার স্ট্যানলি জ্যাকসন ঢাকার প্রয়াত নবাব স্যার সলিমুল্লাহর নামানুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সলিমুল্লাহ মুসলিম হল’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

হিন্দু ছাত্রদের জন্য হল
১৯৩১-৩২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত কেবল হিন্দু ছাত্রদের অবস্থানের জন্য নির্মিতি হলের নির্মাণের কাজ শেষ হয়। হলের নামকরণ হয় ঢাকার বলিয়াদির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরীর দানে তার পিতা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নামে। জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নামেই ঢাকার জগন্নাথ কলেজের নামকরণ করা হয়েছিল। জগন্নাথ হলের প্রথম প্রভোস্ট ছিলের আইন বিভাগের প্রথম অধ্যাপক নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত।

সাহিত্যপত্র বাসন্তিকা
অধ্যাপক নরেশচন্দ্র সেনগুপ্তের উৎসাহে জগন্নাথ হলের প্রথম বার্ষিক সাহিত্যপত্র ‘বাসন্তিকা’ ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়। নরেশচন্দ্র সেনগুপ্তের পর প্রভোস্ট হন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগ (ইংরেজি বিভাগ; এমএ-১৯২৩)। লীলা নাগ ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের ২১ শে অক্টোবরে ভারতের আসাম প্রদেশের গোয়ালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম গিরিশ চন্দ্র নাগ ও মাতার নাম কুঞ্জলতা নাগ। বিপ্লবী অনিল রায়ের সঙ্গে বিবাহ হওয়ার পর নাম হয় লীলা রায়। তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়ে ‘পদ্মাবতী’ স্বর্ণপদক-সহ বি.এ. পাশ করেন। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকায় ‘উত্তরবঙ্গ বন্যাত্রাণ কমিটি’র সহ-সম্পাদিকা নিযুক্ত হন। এই সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয় নিয়ে এমএ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখনো সহ-শিক্ষা চালু হয়নি। ফলে এমএ ক্লাসে ভর্তি হওয়ার সময় তাঁকে বেশ বেগ পেতে হয়। তাঁর অনমনীয় দৃঢ়তা, মেধা ও ইচ্ছা বিচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চান্সেলর ড. হার্টগস তাঁকে ভর্তির অনুমতি প্রদান করেন। এই সময় লীলা নাগই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও একমাত্র ছাত্রী। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজি বিষয়ে দ্বিতীয় বিভাগে এম.এ. পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ছাত্রী ছিলেন সুষমা সেনগুপ্তা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্রী ছিলেন গণিত বিভাগের ফজিলতুন্নেসা। তিনি ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক এবং ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বিভাগে ইডেন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। ফজিলাতুন্নেছা ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে বিএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে গণিত শাস্ত্রে এমএ ক্লাসে ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট (গোল্ড মেডালিস্ট) হয়েছিলেন। ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে বিলেতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য গমন করেন। নিখিল বঙ্গে তিনিই প্রথম মুসলিম মহিলা গ্র্যাজুয়েট। উপমহাদেশে মুসলিম মহিলাদের মধ্যে তিনিই প্রথম বিলাত থেকে ডিগ্রি এনেছিলেন। তাঁর পড়াশোনার ব্যাপারে করটিয়ার জমিদার মরহুম ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (চাঁদ মিয়া) বিশেষ উৎসাহ ও অর্থ সাহায্য করেন। বিলেতে তাঁর অবস্থান কালীন ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে তিনিই প্রথম ডিপিআই (ডিরেক্টর অফ পাবলিক ইন্সট্রাকশন)। লন্ডন থেকে ফিরে ১৯৩০ সালে তিনি কলকাতায় প্রথমে স্কুল ইন্সপেক্টরের চাকুরিতে যোগদান করেন। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের আগস্টে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গীয় মুসলিম সমাজ-সেবক-সংঘে’র বার্ষিক অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে তাঁর বক্তব্যটি নারী জাগরণের মাইল ফলক হয়ে আছে।

প্রথম মুসলিম নারী অধ্যক্ষ
১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণকারী ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্রী ফজিলাতুন্নেছা ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে বেথুন কলেজে গণিতের অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন। বেথুন কলেজে চাকুরিরত অবস্থায় দেশবিভাগের পর তিনি ঢাকায় এসে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ঢাকা ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। এর আগে কোনো মুসলিম নারী অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেনি। তাই তাঁকে বাংলাদেশের প্রথম মুসলিম নারী অধ্যক্ষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই বিদুষী নারী ১৯৭৭ সালে ২১ অক্টোবর ঢাকায় মারা যান। এই মহীয়সী নারীর স্মৃতি রক্ষার্থে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ফজিলাতুন্নেছার নামে হল নির্মাণ করা হয়।

ছাত্রীদের অবস্থানের জন্য হাউস
ঢা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ শে নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ নং বাংলো ‘চামেরি হাউস’-এ (বর্তমানে সিরডাপ ভবন) প্রথম উইমেনস হাউস প্রতিষ্ঠা করা হয়। উইমেনস হাউস মাত্র তিন জন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। মিসেস পি. নাগ এই হাউসের হাউস টিউটর নিযুক্ত হন। ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত উইমেনস হাউস চামেরি হাউসেই ছিল। ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে তা ১০ নং বাংলো তথা বর্তমানে বিজ্ঞান গ্রন্থাগার-স্থানে স্থানান্তরিত হয়। পরে মেয়েদের হোস্টেল পুনরায় চামেরি হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়।

ফজলুল হক মুসলিম হল
১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ১লা জুলাই অবিভক্ত বাংলার তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী এ কে ফজলুক হকের নামানুসারে “ফজলুল হক মুসলিম হল” প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভবনের (বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ) যে অংশে সলিমুল্লাহ হলের বর্ধিতাংশ ছিল সেখানে ফজলুল হক হল যাত্রা শুরু করে। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ভবনে সামরিক হাসপাতাল স্থাপিত হলে ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ফজলুল হক হল বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয়, পূর্বে যা ছিল ঢাকা ইন্টারমেডিয়েট কলেজ হোস্টেল। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ফজলুল হক হলের প্রথম প্রভোস্ট এবং প্রথম দুজন হাউস টিউটর কাজী মোতাহার হোসেন এবং আব্দুস সামাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকটি বিষয় একনজরে
ঢাকা বিশ্ববিস্যালয়ের প্রথম ছাত্রী- লীলা নাগ; ঢাকা বিশ্ববিস্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্রী- ফজিলাতুন্নেছা; ঢাকা বিশ্ববিস্যালয়ের প্রথম নারী শিক্ষক করুণাকণা গুপ্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা উপ-উপাচার্য – ড. জিন্নাতুন্নেছা তাহমিদা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি -পি জে হার্টগস।

উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের প্রথম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়। উপমহাদেশে এটিই দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যার চার জন প্রাক্তন ছাত্র নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।

বিসিএস প্রিলিমিনারি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

error: Content is protected !!