তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : কম্পিউটারের ইতিহাস

ড. মোহাম্মদ আমীন

কম্পিউটারের জনক
ইংরেজ যন্ত্র প্রকৌশলী, গণিতবিদ, আবিষ্কারক ও দার্শনিক চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage) কম্পিউটারের জনক হিসাবে স্বীকৃত। তিনি ডিফারেন্স ইঞ্জিন ও অ্যানালাইটিকাল ইঞ্জিন নামের দুইটি যান্ত্রিক কম্পিউটার তৈরি করেন। তাঁর তৈরি অ্যানালাইটিকাল ইঞ্জিন যান্ত্রিকভাবে গাণিতিক অপারেশন সম্পাদন করতে পারত এবং এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য আজকের কম্পিউটারের ডিজাইনে এখনও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থের অভাবে ব্যাবেজ তাঁর প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করতে পারেননি। চার্লস ব্যাবেজ ১৭৯১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ শে ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই অক্টোবর মারা যান। প্রসঙ্গত, তিনি সরকারের দেওয়া নাইটহুড এবং ব্যারনেটের উভয় খেতাবই প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, “ সামান্য অর্থের জন্য আমি আমার কম্পিউটার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পরিনি, খেতাব দিয়ে আমি কী করব?”

কম্পিউটারের আদি পুরুষ
প্রাচীন কালে মানুষ সংখ্যা বুঝানোর জন্য ঝিনুক, নুড়ি, দড়ি গিট ইত্যাদি ব্যবহার করত। পরবর্তীকালে গণনার কাজে বিভিন্ন কৌশল ও যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সহজে গণনার জন্য ব্যবহৃত অ্যাবাকাস (অনধপঁং) নামের যন্ত্রকেই কম্পিউটারের ইতিহাসে প্রথম যন্ত্র বলা হয়। এটি আবিষ্কৃত হয় খ্রিষ্টপূর্ব ২৪০০ অব্দে ব্যাবিলনে। অ্যাবাকাস হচ্ছে ফ্রেমে সাজানো গুটির স্থান পরিবর্তন করে গণনা করার যন্ত্র।

তাত্ত্বিক কম্পিউটার প্রকৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক
ইংরেজ কম্পিউটার প্রকৌশলী, গণিতজ্ঞ, যুক্তিবিদ, দার্শনিক, গোপন সংকেত বিশেষজ্ঞ, গাণিতিক জীববিজ্ঞানী এবং ম্যারাথন দৌড়বিদ অ্যালান ম্যাথিসন টুরিং (John Napier) তাঁর তৈরী টুরিং মেশিনের (ঞঁৎরহম সধপযরহব) মাধ্যমে গণনা ও অ্যালগোরিদম ধারণার প্রচলন করেন। টুরিংকে তাত্ত্বিক কম্পিউটার প্রকৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ শে জুন জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই জুন মারা যান।

নেপিয়ার-এর অস্থি ও প্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর
১৬১৬ খ্রিষ্টাব্দে স্কটল্যান্ডের গণিতবিদ জন নেপিয়ার গণনার কাজে ছাপা বা দাগ কাটাকাটি অথবা দ- ব্যবহার করেন। এসব দ- জন নেপিয়ার (Rechoning Mechine) এর অস্থি নামে পরিচিত। ১৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে ১৯ বছর বয়স্ক ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেইজ প্যাসকেল সর্বপ্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন। তিনি দাঁতযুক্ত চাকা বা গিয়ারের সাহায্যে যোগ বিয়োগ করার পদ্ধতি চালু করেন।

রিকোনিং মেশিন
১৬৭১ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান গণিতবিদ গটফ্রাইড ভন লিবনিজ প্যাসকেলের যন্ত্রের ভিত্তিতে চাকা ও দন্ড ব্যবহার করে গুণ ও ভাগের ক্ষমতাসম্পন্ন আরো উন্নত যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তৈরি করেন। তিনি যন্ত্রটির নাম দেন রিকোনিং যন্ত্র (জবপযড়হরহম গবপযরহব)। ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দে টমাস ডি কোমার রিকোনিং যন্ত্রের পরিমার্জন করে লিবনিজের যন্ত্রকে আরো উন্নত করে তুলেন

দেখুন : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) আইসিটি লিংক

error: Content is protected !!