তপশিল, তপশিলি, সংবিধানের তপশিল, তপশিলি ব্যাংক

ড. মোহাম্মদ আমীন

পোস্ট সংযোগ: https://draminbd.com/তপশিল-তপশিলি-সংবিধানের-ত-2/

তপশিল, তপশিলি, সংবিধানের তপশিল, তপশিলি ব্যাংক

সংবিধানের তপশিল বলতে কী বুঝি

 
তপশিল ও তপশিলি: তপশিল আরবি উৎসের শব্দ। বাক্যে বিশেষ্যে হিসেবে ব্যবহৃত তপশিল অর্থ— জমির চৌহদ্দির বিবরণ; বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রণীত তালিকা যেমন: সংবিধানের তপশিল, নির্বাচনের তপশিল, বিশেষ গ্রন্থের তপশিল। ইংরেজি schedule তপশিল শব্দের একটি প্রতিশব্দ। তবে সব তপশিল সিডিউল নয়। যেমন: জমির চৌহদ্দির বিবরণ শিডিউল নয়, এলাকা চিহ্নিতকরণ। তপশিল থেকে তপশিলি। এটি বিশেষণ। এর অর্থ— তপশিলভুক্ত; তালিকাভুক্ত। যেমন: তপশিলি সম্প্রদায়, তপশিলি ব্যাংক, তপশিলি সংস্থা, তপশিলি বিষয়।
 
 
সংবিধানর তপশিল: সংবিধানের তপশিল কথায় বর্ণিত তপশিল অর্থ— বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রণীত তালিকা বা schedule। বিশেষ উদ্দেশ্যে যেসব ঐতিহাসিক ঘোষণা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংবিধানে আবশ্যকীয় বিবরণ হিসেবে যুক্ত বা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে সেসব বিষয়কে সংবিধানের তপশিল বা schedule বলা হয়।
 
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, তপশিল বানানে তালব্য-শ। কোনো বানানে দন্ত্য-স থাকলে ধরে নিতে হবে তা ভুল বা মুদ্রণপ্রমাদ।
 
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তপশিল
 
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭টি তপিশিল রয়েছে। যেমন:
 
প্রথম তপশিল: [সংবিধানের ৪৭ নং অনুচ্ছেদ]— অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন। যেমন: পূর্ববঙ্গ, পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলের কিছু কিছু আইনের কার্যকারিতা-বিষয়ক।
 
দ্বিতীয় তপশিল: [রাষ্ট্রপতি নির্বাচন−সংবিধান (চতুর্থ সংশোধন) আইন]— ১৯৭৫ (১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ২নং আইন)-এর ৩০ ধারাবলে দ্বিতীয় তপশিল বিলুপ্ত।] কারণ, এখন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় না।
 
তৃতীয় তপশিল: [শপথ ও ঘোষণা,সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ]— রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাতেন প্রধান বিচারপতি। এছাড়া রয়েছে অন্যান্য শপথ-পাঠ-বিষয়ক বিধি।  রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাতেন প্রধান বিচারপতি। পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করান স্পিকার। রাষ্ট্রপতি যাদের শপথ পাঠ করার তাঁরা হলেন— প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও প্রধান বিচারপতি। স্পিকার শপথ পাঠ করান— রাষ্ট্রপতি ও  সংসদ সদস্যদের।  প্রধান বিচারপতি শপথ পাঠ করান— সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের, সকল নির্বাচন কমিশনার, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য।
 
চতুর্থ তপশিল: [১৫০(১) অনুচ্ছেদ]— ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি। এ তপশিলের উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— সংবিধান প্রণয়নের পূর্বে যাঁরা বিভিন্ন পদে (রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, নির্বাচন কমিশনার) অধিষ্ঠিত ছিলেন—সংবিধান রচিত হওয়ার পর অনুরূপ পদ নতুন সংবিধানমতে পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পদে অধিষ্ঠিত থাকা-বিষয়ক।
 
পঞ্চম তপশিল: [১৫০ (২) অনুচ্ছেদ]১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।

ষষ্ঠ তপশিল:[অনুচ্ছেদ ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২ এবং ২৩] সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন)-এর ৫৪(গ) ধারাবলে বিলুপ্ত। কেননা এই ধারাগুলো ১৯৭৫ এর পর বিভিন্ন সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য যুক্ত করা হয়েছিল।

সপ্তম তপশিল: [১৫০ (২) অনুচ্ছেদ]জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা] ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ মধ্যরাত শেষে; অর্থাৎ ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা। ঘোষণাটি নিম্নরূপ (অনূদিত):

“ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছ, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো।  পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।”
শেখ মুজিবুর রহমান
২৬ মার্চ ১৯৭১

এই পোস্টের লিংক: https://draminbd.com/তপশিল-তপশিলি-সংবিধানের-ত/

প্রয়োজনীয় লিংক

অজানা অনেক মজার বিষয়

চাহিদা শিখ ও তারিখ শব্দের উৎস

কোথায় কী লিখবেন: বাংলা বানান প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

গম্বুজ বনাম মিনার, গাং বনাম গঙ্গা, সরকারি কিন্তু সহকারী

 

error: Content is protected !!