তাই বনাম তা-ই; তা তা তা তা তা; এতদ্বারা নয়, এতদ্দ্বারা

ড. মোহাম্মদ আমীন

তাই বনাম তা-ই; তা তা তা তা তা; এতদ্বারা নয়, এতদ্দ্বারা

তাই বনাম তা-ই

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘তাই’ শব্দের তিনটি পৃথক ভুক্তি দেখা যায়। প্রথম ভুক্তিমতে, সংস্কৃত ‘তদ্‌’ থেকে উদ্ভূত ও বাক্যে সর্বনাম হিসেবে ব্যবহৃত ‘তাই’ শব্দের অর্থ— সেই বস্তুই, সেই কাজই এবং তাহাই শব্দের চলিত রূপ। যেমন: রাতে বিড়াল দেখল ছেলেটি, তাই দেখে ভয়ে সে অজ্ঞান। যা চাইছি তাই দিতে হবে। আমার তাই প্রয়োজন। তাই যদি না পাই তো আমার যা-ইচ্ছে তাই করব।
দ্বিতীয় ভুক্তিমতে, সংস্কৃত ‘তস্মাৎ’ থেক উদ্ভূত ও বাক্যে অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত ‘তাই’ শব্দের অর্থ— সুতরাং, সে জন্য। যেমন: ক্লাস ছিল, তাই যেতে পারিনি। তাই তোমারে দেখতে এলেন অনেক দিনের পর।
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

তৃতীয় ভুক্তিমতে, তাই শব্দের অর্থ শিশুর করতালি, হাত তালি প্রভৃতি। যেমন: তাই তাই তাই, মামার বাড়ি যাই/ মামি করছে দুধভাত নাক ডুবিয়ে খাই।

তা-ই: অভিধানে তা-ই বানানের কোনো শব্দ নেই। অনেকে ‘তা-ই’ শব্দটি ‘তাহাই’ শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। আবশ্যকতা কিংবা বাধ্যবাধকতা বা জেদ, গুরুত্ব ইত্যাদি প্রকাশে ‘তাই’ এর স্থলে ‘তা-ই’ ব্যবহার করা হয়। যারা এটি ব্যবহার করেন তাদের অভিমত— জোর দেওয়ার জন্য ‘তা-ই’ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তা-ই শব্দটি অনাবশ্যক। তাহাই শব্দের চলিত রূপ তাই। সুতরাং, তা-ই শব্দটি নিরর্থক এবং অপ্রয়োজনীয়।
উদহারণ: যা চাইছি তাই (তা-ই) দিতে হবে। আমার তাই (তা-ই) প্রয়োজন। তাই যদি না পাই তো আমার যা-ইচ্ছে তাই (তা-ই )করব। এখানে তাই-এর স্থলে তা-ই লেখা সমীচীন নয়।
অতএব, লিখুন তাই
‘তা’ অর্থ কী?
অভিধানে পৃথক ভুক্তিতে পাঁচটি তা আছে। প্রত্যেকের অর্থ ভিন্ন। দেখুন নিচে পাঁচ ‘তা’-এর অর্থ এবং প্রযোজ্য ব্যুৎপত্তি বা উৎস।

১. তা: সংস্কৃত তদ্‌ থেকে উদ্ভূত তা অর্থ (অব্যয়ে) কথার মাত্রাবিশেষ ( তা তুমি কখন আসবে?); তাতে ( তা আমি কী করতে পারি) এবং (সর্বনামে) সে, সেই বস্তু বা বিষয় (মন যা চায় তা পায় না)।

২. তা: সংস্কৃত তাপ থেকে উদ্ভূত তা অর্থ (বিশেষ্যে) সাধারণত হাঁস মুরগি পাখি প্রভৃতির ডিম ফোটানোর জন্য ডিমের ওপর আলতোভাবে বসে দেহের তাপদান (কবুতরটি ডিমে তা দিচ্ছে); (আলংকারিক) গোপন প্ররোচনা, উসকানি (ঝগড়ায় তা দিয়ো না)।

৩. তা: ফারসি উৎসের তা অর্থ কাগজের ফালি, এক দিস্তার চব্বিশ ভাগের এক ভাগ (এক তা কাগজ দাও তো ভাই)।

৪. তা: সংস্কৃত ‘তার’ থেকে উদ্ভূত তা অর্থ (বিশেষ্যে) পাক, মোচড় (গোঁফে তা না দিয়ে একটা সাহায্য করো)

৫. তা: এই তা অর্থ অব্যয়ে ভাবার্থক প্রত্যয়বিশেষ; বিশেষণ পদের শেষে যুক্ত করলে বিশেষ্য পদে পরিণত হয় এমন প্রত্যয় (অলস> অলসতা)।

এতদ্বারা জানানো যাচ্ছে যে— কথার অর্থ কী?

“এতদ্বারা জানানো যাচ্ছে যে…” বাক্যে এতদ্বারা শব্দটির দ্বারা কী বুঝানো হয়? এতদ্বারা (এত+দ্বারা) বানানের কোনো শব্দ কোনো অভিধান নেই। হয় না। যদি থেকে থাকে, তাহলে তার অর্থ কী হতে পারে দেখুন। এতদ্বারা= এত+দ্বারা। অভিধানমতে, সংস্কৃত এতবৎ থেকে উদ্ভূত এত শব্দের অর্থ (বিশেষণে) এই পরিমাণ, অনেক, বেশি।সুতরাং, এতদ্বারা শব্দের অর্থ হয়—এই পরিমাণ দ্বারা, অনেক দ্বারা, বেশি দ্বারা। সে হিসেবে “এতদ্বারা জানানে যাচ্ছে যে—” কথাটির অর্থ হয়— “এই পরিমাণ দ্বারা/ অনেক দ্বারা/ বেশি দ্বারা জানানো যাচ্ছে যে- —।” এটি একটি হাস্যকর কথা। আসলে শব্দটির বানান হবে এতদ্দ্বারা (এতদ্‌+দ্বারা)। যার অর্থ (অব্যয়ে) ইহার দ্বারা। প্রসঙ্গত এতদ্ (ই+তদ্) হচ্ছে ঘোষ বর্ণের পূর্বে এতৎ শব্দের রূপ। যেমন—এতদ্‌বিষয়, এতদ্‌ব্যতীত, এতদ্‌হেতু। এ বিবেচনায়, “এতদ্দ্বারা জানানো যাচ্ছে যে- – -” কথার অর্থ হয়, ইহার দ্বারা জানানো যাচ্ছে যে- – -।
সূত্র: ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. ।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page

poodleköpek ilanlarıankara gülüş tasarımıantika alanlarPlak alanlarantika eşya alanlarAntika mobilya alanlarAntika alan yerler
Casibomataşehir escortjojobetbetturkey