তুঘলকি কাণ্ড বাগ্‌ধারার উদ্ভব, চোরে কামারে সাক্ষাৎ নেই, সিঁদকাঠি গড়া

ড. মোহাম্মদ আমীন

তুঘলকি কাণ্ড বাগ্‌ধারার উদ্ভব, চোরে কামারে সাক্ষাৎ নেই, সিঁদকাঠি গড়া

শব্দটির আভিধানিক অর্থ: গোঁয়ার্তুমি, সৃষ্টিছাড়া, অপরিকল্পিত, অদূরদর্শিতা প্রভৃতি। এটি একটি ঐতিহাসিক নাম থেকে সৃষ্ট বাগ্‌ভঙ্গি। দিল্লির সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলক-এর কর্মকাণ্ড ও চাল-চলনের ওপর ভিত্তি করে এর উদ্ভব।
 
মুহম্মদ বিন তুঘলক ১৩২৫ হতে ১৩৫১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত অগ্রসর চিন্তা ও পরিবর্তনকামী চেতনার অধিকারী আধুনিক মনের সৃজনশীল একজন মানুষ। মধ্যযুগের সুলতান হলেও তার দৃষ্টি ছিল সুদূর ভবিষ্যতের আরও সুদূরে।ফলে তার কর্মকাণ্ড মধ্যযুগীয় মনোভাবের অধিকারী তৎকালীন মানুষের কাছে ছিল উদ্ভট। শাসনকার্যে আধুনিকতা এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যে তিনি অনেক পরিবর্তন এনেছিলেন। তাঁর এ পরিবর্তনের মধ্যে শাসনকার্যে উলেমাদের অনাবশ্যক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা ছিল অন্যতম। এছাড়া তিনি দোয়াব অঞ্চলের করবৃদ্ধি, দিল্লি থেকে দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তর, মুদ্রাসংস্কার এবং তামার নোট প্রচলন করেন। এসব কাজকেও অনেকে খামখেয়ালি বলে আখ্যায়িত করে। তুঘলকের সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আধুনিকমনস্কতার পরিচায়ক হলেও যাদের জন্য তিনি এসব করেছিলেন তারা ছিল ধর্মীয় কুসংস্কার ও প্রাচীন ধ্যান-ধারণায় আবদ্ধ সংকীর্ণ মনের অধিকারী।
 
ফলে তুঘলকের পরিবর্তন ধর্মান্ধ ও পশ্চাৎপদ মানসিকতায় আবদ্ধ জনগণ গ্রহণ করতে পারেনি। সমকালীন ইতিহাসবেত্তাদের অনেকে তাঁকে পাগল রাজা, খামখেয়ালিপূর্ণ শাসক প্রভৃতি আখ্যায়িত করেছেন। ইতিহাসের পৃষ্ঠা থেকে গৃহীত মুহম্মদ বিন তুঘলক-এর এমন কার্যক্রম ও কাণ্ড ‘তুঘলকি বা তুঘলকি কাণ্ড বাগ্‌ধারা রূপে বাংলায় স্থান করে নেয়।
 
চোরে কামারে সাক্ষাৎ নেই, সিঁদকাঠি গড়া : প্রাচীন কালে সিঁদকাঠি তৈরির গোপন কার্যকলাপ থেকে প্রবাদটির উদ্ভব। সেকালে, চোর সিঁদকাঠি তৈরি করার জন্য অজ্ঞাতসারে কামারশালায় সিঁদকাঠির লোহা এবং লোহার নিচে স্বাভাবিক মজুরির চেয়ে বেশি পরিমাণ টাকা রেখে চলে যেত। কামার সেই লোহা দিয়ে সিঁদকাঠি তৈরি করে সেখানে রেখে দিত। চোর রাতে এসে সিঁদকাঠি নিয়ে যেত। অন্তর্নিহিত অর্থ : চাক্ষুষ পরিচয় ছাড়া কার্য সাধন।
 
 
দেখুন  অন্যান্য বিষয় নিচের লিংকে:
error: Content is protected !!