দাপ্তরিক প্রমিত বাংলা বানান

ড. মোহাম্মদ আমীন

 দাপ্তরিক প্রমিত বাংলা বানান

অভিধান ও বাংলা বানানবিধি লিংক

বাংলা অভিধান ও বাংলা বানানবিধির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লিংক এখানে দেওয়া হলো। নিচের লিংকসমূহে ক্লিক করলে বাংলা একাডেমির সর্বশেষ সংশোধন করা বাংলা বানানসমূহ পাওয়া যাবে। জানা যাবে বাংলা একাডেমি কেন এবং কোন বিধানের বলে কীভাবে বানানগুলো সংশোধন করেছে।
 

শুবাচ প্রমিত বাংলা বানান অভিধান, বাংলা একাডেমির সর্বশেষ সংশোধিত বানান-সহ

বাংলা অভিধান ও বাংলা বানানবিধির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লিংক:

 

এক মিনিট সময় দিন বানানগুলো শিখে নিন

 
 

 

প্রাত্যহিক জীবনে নান্দনিক বাক্যচয়নের কয়েকটি সূত্র

 কোলেন ও বিসর্গ: গ দেখতে অনেক মিল থাকলেও কোলন ও বিসর্গ দুটো পৃথক চিহ্ন। প্রথমটি একটি যতি চিহ্ন এবং দ্বিতীয়টি বাংলা বর্ণমালার একটি ব্যঞ্জনবর্ণ। কোলন উল্লম্বভাবে অবস্থিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুটি বিন্দু কিন্তু বিসর্গ হচ্ছে উল্লম্বভাবে অবস্থিত ছোট ছোট দুটি বৃত্ত। অথচ অনেকে কোলন আর বিন্দুকে অভিন্ন গণ্য করে।
বাংলায় কোলন (:) চিহ্নের আগমন পঞ্চাশ-ষাট বছরের বেশি নয়। তাই অনেকের কাছে চিহ্নটির ব্যবহার পরিষ্কার নয়। তবে ইংরেজিতে চিহ্নটির ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। আগে যে সকল স্থান ও ক্ষেত্রে ড্যাশ () বা কোলন ড্যাশ (:) চিহ্ন দেওয়া হতো, বর্তমানে সে স্থান বা ক্ষেত্রসমূহে কোলন (:) ব্যবহার করা হয়। সুতরাং কোলন চিহ্নটি ড্যাশ বা কোলন ড্যাশের বিকল্প চিহ্নমাত্র। কেউ ইচ্ছে করলে কোলন চিহ্নের পরিবর্তে ড্যাশ বা কোলন দিতে পারেন।

কোলনের দায়িত্ব : বাক্যের অন্তর্গত কোনো অংশকে বিশদ করাই কোলনের দায়িত্ব। বাক্যে কোলনের পূর্ববর্তী যে সকল বিশেষ্য, সর্বনাম বা বিশেষণপদ সরবরাহ করার কথা বলা হয়েছে, কোলনের পরবর্তী অংশে সেগুলো উপস্থাপন করা হয়। যেমন:  সার্ক সম্মেলনে যে সাতটি রাষ্ট্র যোগ দিয়েছে, সেগুলো হলো : শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ।
অনেকে যতিচিহ্ন হিসাবে বিসর্গ (ঃ)-এর স্থলে কোলন (:) লিখে ফেলেন। যেমন: দু:খ, স্বত:স্ফূর্ত, অত:পর ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো হবে দুঃখ, স্বতঃস্ফূর্ত, অতঃপর।
অনেকের মাঝে মোহাম্মদ/মুহাম্মদ/ডাক্তার/ডক্টর প্রভৃতি শব্দের সংক্ষিপ্তরূপ হিসাবে ‘মোঃ/মুঃ/ডাঃ/ডঃ/দ্রঃ/বিঃ দ্রঃ’ প্রভৃতি লেখার প্রবণতা লক্ষণীয়। প্রকৃতপক্ষে বিসর্গ একটি পৃথক (ঃ) বর্ণ; কোনো সংক্ষেপকরণ চিহ্ন নয়। তাই শব্দ সংক্ষেপকরণে অযথা অন্য একটি বর্ণের আমদানি অনুচিত। প্রমিত বাংলায় একবিন্দু (.)-কে সংক্ষেপকরণ চিহ্ন হিসাবে ব্যবহার করা হয়। তাই শব্দ সংক্ষেপকরণে বিসর্গ ব্যবহার বিধেয় নয়।
বিসর্গ ব্যবহার করলে ‘মোঃ/মুঃ/ডাঃ/ডঃ/দ্রঃ/বিঃ দ্রঃ’ প্রভৃতি শব্দ যথাক্রমে ‘মোহ্/মুহ্/ডাহ্/ডহ্/ দ্রহ্/ বিহ্ দ্রহ্’ ইত্যাদিরূপে উচ্চারণ করতে হয়। যা অর্থহীন। অতএব শব্দ সংক্ষেপকরণে বিসর্গ পরিহার করুন। লিখুন মো./মু./ডা./ড./দ্র./বি.দ্র.। ‘মোঃ/মুঃ/ডাঃ/ডঃ/বিঃ/বিঃ দ্রঃ’ লিখবেন না।

যতিচিহ্ন কম্পোজকরণ
অনেকে বলেন কোলন টাইপ করার আগে ও পরে একটা স্পেস দেওয়া সমীচীন। এরূপ করলে অনেক সময় কোলন একই নিচের লাইনে চলে আসে ফলে যে উদ্দেশ্যে কোলন দেওয়া হয়েছে তার শুধু ব্যাহতই হয় না, বাক্যের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে যায়। এ জন্য কোলনের আগে স্পেস না দেওয়া উত্তম। তবে কোলনের পর অবশ্যই স্পেস দিতে হবে।
ঠিক তেমনি কমা (,), দাঁড়ি (।) প্রভৃতি যতিচিহ্নের পূর্বে স্পেস দিতে হবে না কিন্তু পরে স্পেস দিতে হবে। উদাহরণ : তিনি এসে বললেন, আকাশের অবস্থা ভালো নেই। ড্যাশ, হাইফেন ও বিকল্প চিহ্নের (/) আগে বা পরে কোনো স্পেস দিতে হবে না। তবে অনেকে ড্যাশ চিহ্নের পরে একটা স্পেস দিতে থাকেন। এর কারণ ড্যাশ ও হাইফেন-এর প্রয়োগকে আরও স্পষ্ট করা।
ড্যাশ ও হাইফেন : দেখতে একই রকম হওয়ায় অনেকে কোলন আর বিসর্গের মতো ড্যাশ () ও হাইফেন (-)-এর ব্যবহারকেও গুলিয়ে ফেলে। এটি মনে রাখা উচিত যে, ড্যাশ আর হাইফেনের প্রায়োগিক উদ্দেশ্য ভিন্ন। সমাসবদ্ধ পদে দুই বা ততোধিক শব্দকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্যক্ষেত্রে স্পষ্ট অর্থ অনুধাবনের সুবিধার্থে হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন আম-জাম-কলা, আলো-হাওয়া প্রভৃতি।

হাইফেন
বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত যতি চিহ্নের মধ্যে হাইফেন অন্যতম। বাক্যের সঙ্গে নয়, শব্দের সঙ্গে হাইফেনের স¤পর্ক। এটি দেখতে ড্যাশের মতো হলেও দৈর্ঘ্যে ড্যাশের চেয়ে ছোট। এর ব্যবহার বিরামচিহ্নের ন্যায় নয়। শব্দের বর্ণসমষ্টির সংযোগ প্রকাশের জন্য হাইফেন ব্যবহার করা হয়। বিরামচিহ্ন বলা হলেও হাইফেনে কোনো বিরাম দিতে হয় না। বাক্যস্থিত সমাসবদ্ধ পদে হাইফেনের বহুল ব্যবহার লক্ষ করা যায়। হাইফেন দিয়ে সমাসবদ্ধ পদ চিহ্নিত করা হয়। যেমন: আম-জাম-কলা সবগুলো লাল-পাত্রে রাখা হয়েছে। অনুগামী ও অনুকার শব্দে হাইফেন বসাতে হয়। যেমন মাল-পত্র গাড়িতে তোল, ডর-ভয় বলতে তোমার কিছু নেই।দুই বা দুইয়ের বেশি পদের সমাসে সাধারণত হাইফেন বসে। যেমন: বাপে-পুতে লড়াই, কে কারে ডরায়। আমি-তুমি-সে। টাকা-পয়সা-ধন-দৌলত, যা আছে নে। উল্লেখ্য দ্বন্দ্ব সমাস ছাড়াও অন্যান্য সমাসবদ্ধ পদে হাইফেন বসানো যায়। যেমন: আল্লাহ-সৃষ্ট। দুইয়ের বেশি শব্দ মিলিত হয়ে একটি শব্দ গঠন করলে হাইফেন বসানো হয়। শব্দের দ্বিত্ব ঘটলে হাইফেন ব্যবহার করা হয়। যেমন: ঝগড়া-রত বুড়ো-লোক, কেঁদে-কেঁদে দেখায় শোক।যেখানে সন্ধি সম্ভব নয় কিংবা সন্ধি করা উচিত নয় সেখানে হাইফেন বসে। যেমন: মহা-প্রলয়ে যেন শেষ হয়ে যাবে ধরা। যৌগিক ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হলে শব্দে হাইফেন বসে। যেমন দম-বন্ধ-হয়ে আসা রোগী। ক্রিয়া বিশেষণে শব্দের দ্বিত্ব হলে হাইফেন বসে। যেমন: যেতে-যেতে পথে, পূর্ণিমা রাতে-…। বহুবর্ণযুক্ত দুটি শব্দের মধ্যে সমাস হলে হাইফেন ব্যবহার করা হয়। যেমন পুষ্পভারনত-বৃক্ষ, ক্ষত্রিয়সুলভ-আচরণ। দপ্তর, অধিদপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও পদের মধ্যে হাইফেন বসে। যেমন: প্রধান-মন্ত্রী, কৃষি-মন্ত্রী, শিক্ষা-সচিব, উপ-সচিব, যুগ্ম-সচিব ইত্যাদি।সংখ্যা প্রকাশে অনেক সময় হাইফেন ব্যবহৃত হয়। জার্মানি ৮-০ গোলে সৌদি আরবকে হারিয়ে দিয়েছে। স্থান, অনুষ্ঠান এবং দিক নির্দেশের ক্ষেত্রে শব্দে হাইফেন বসে। যেমন সিমলা-চুক্তি, কাশ্মীর-সমস্যা, পূর্ব-পশ্চিম ইত্যাদি।


ড্যাশ (-) বাক্যে বিধৃত কোনো বিবৃতি সম্পূর্ণ করতে কিংবা বিশদ করতে ড্যাশচিহ্নের ব্যবহার করা হয়। ড্যাশ এবং হাইফেন একই রকম হলেও ড্যাশ হাইফেনের চেয়ে একটু লম্বা। সাধারণত বাক্যে সংশ্লিষ্ট উদাহরণ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপনের জন্য ড্যাশ ব্যবহার করা হয়। যেমন: কাল তিন প্রকার, যেমন:  বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ। প্যারেনথেসিসে কমা বা বন্ধনীর পরিবর্তে ড্যাশ ব্যবহৃত হয়। যেমন: অফিসে: না, ক্লাবে যাবার পূর্বে দেখলাম: লোকটি মরে আছে। বাক্য অসম্পূর্ণ রাখলে ড্যাশ ব্যবহার করতে হয়। যেমন মোদের গরব, মোদের আশা – – -।

সংক্ষেপিত শব্দে যতি চিহ্নের ব্যবহার
আগে শব্দ সংক্ষেপ করার জন্য ‘বিসর্গ’ বা ‘অনুস্বার’ ব্যবহার করা হতো। যেমন মোঃ বা মোহাং, ডঃ, মিঃ ইত্যাদি। আধুনিক-প্রমিত বানানে শব্দ সংক্ষেপ করার জন্য ‘অনুস্বার’ বা ‘বিসর্গে’র পরিবর্তে শুধু ডট চিহ্ন (.) ব্যবহার করা হয়। যেমন ড./কি.মি./মি.মি, বি.এসসি, এম.বি.বি.এস ইত্যাদি। সংক্ষেপিত শব্দে ষষ্ঠী বিভক্তির প্রয়োগ নিয়ে বেশ জটিলতা দেখা যায়। সংক্ষেপিত শব্দের শেষে ইচ্ছেমতো চিহ্ন ব্যবহার না-করে শুধু হাইফেন (-) ব্যবহার বিধেয়। যেমন পিডিবি-র অফিস, ইউনিসেফ-এর প্রতিনিধি, ইউনেসকো-র সৌজন্যে ইত্যাদি।

উদ্ধৃতি লেখার নিয়ম
উদ্ধৃতি লেখার ক্ষেত্রে মূল রচনায় যা আছে তা লিখতে হবে। কোনো অংশ বাদ দিতে হলে বাদ-দেওয়া অংশে তিনটি ডট ব্যবহার করা প্রয়োজন। যেমন ‘যে জন বঙ্গতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী  – – – জন্ম নির্ণয় ন জানি।’

তারিখ লেখার কৌশল
দিন তারিখ বিভিন্নভাবে লেখা হয়ে থাকে। কিন্তু এর একটি আদর্শমান রয়েছে। তা অনেকে জানেন না। নিচে তারিখ লেখার নিয়মগুলো উল্লেখ করা হলো :
ক. গদ্য রচনায় সাধারণত ১লা, ২রা, ৩রা, ৪ঠা, ৫ই, ২২শে অঙ্কের পাশে বাক্য বসিয়ে তারিখ লেখা সমীচীন নয়। লিখতে হবে ১ জানুয়ারি কিন্তু পড়তে হবে পহেলা জানুয়ারি।
খ. তারিখ, মাস ও বছর পাশাপাশি লিখলে কমা, বিকল্প চিহ্ন বা একবিন্দু দিয়ে আলাদা করতে হবে। যেমন শ্রাবণ ২, ১৪০৯; ১২/২/২০০২ কিংবা ১২.২.২০০২ ইত্যাদি।
গ. শতাব্দকে সংক্ষেপে লিখতে হলে শেষ দুটো সংখ্যা লিখতে হবে এবং তার পূর্বে অনুক্ত সংখ্যার জন্য ঊর্ধ্বকমা (উল্টোটি নয়) বসাতে হবে। যেমন ’৯৮, ’৯৯ খ্রিস্টাব্দ। তবে ২০০০-এর পরবর্তী অঙ্ক দুটো শূন্য বলে পুরো ২০০০-ই লিখতে হবে। তেমনি ৩০০০, ৪০০০ প্রভৃতির জন্য পুরো সংখ্যাটি লেখা আবশ্যক।

বিসর্গ (ঃ) বর্ণের প্রকৃতি
বিসর্গ সাধারণত তৎসম শব্দে ব্যবহৃত হয়। বিস্ময়সূচক কয়েকটি শব্দ ছাড়া বিদেশি ও খাঁটি বাংলা শব্দে বিসর্গের প্রয়োগ নেই বললেই চলে। আনন্দ, বেদনা, বিস্ময় ইত্যাদি প্রকাশের জন্য মাঝে মাঝে ‘বিসর্গ ব্যবহার করা হয়। তবে ইদানীং প্রমিত বানানে বিসর্গের পরিবর্তে ‘হ্’ ব্যবহার অধিক লক্ষণীয়।
যেমন আঃ > আহ্; বাঃ > বাহ্ ইত্যাদি। বাংলা শব্দে বিসর্গের কোনো স্বতন্ত্র প্রয়োগ নেই। বিসর্গ সর্বদা কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শব্দের মধ্যাংশে কিংবা শেষে বসে। কখনো শব্দের প্রথমে বসে না।
বাংলা ভাষায় শব্দের শেষে বিসর্গের উচ্চারণ ‘হ্’ এর মতো। যেমন বাঃ এর উচ্চারণ বাহ্; আঃ এর উচ্চারণ আহ্, মোঃ এর উচ্চারণ মোহ্, ডাঃ এর উচ্চারণ ডাহ্। তবে শব্দের মাঝখানে বসলে বিসর্গের উচ্চারণ কখনো হসন্ত বা ‘খণ্ড-ত’-এর মতো হয়ে যায়। যেমন ইতঃপূর্বে (উচ্চারণ
ইতোহ্প্পুরব্বে)। আবার কখনো কখনো বিসর্গের প্রভাবে বিসর্গ পরবর্তী ব্যঞ্জনবর্ণ দ্বিত্ব লাভ করে। যেমন দুঃখ (দুখ্খো); নিঃসঙ্কোচ (নিশ্শঙকোচ্) প্রভৃতি। বানান ও উচ্চারণে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

পঙ্্ক্তির শেষে শব্দ ভাঙার নিয়ম
ইংরেজির মতো বাংলাতেও পঙ্্ক্তির শেষে শব্দকে ভাঙতে হয়। ইংরেজিতে সিলেবল, সাফিক্স বা প্রিফিক্স অনুযায়ী শব্দ ভাঙার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাংলায় সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। অন্যদিকে যুক্তাক্ষরের জন্য সিলেবল অনুযায়ী বাংলা শব্দকে ভাঙা যায় না। মুদ্রিত গ্রন্থে পঙ্্ক্তি বা লাইনের শেষে অনেক সময় একটি শব্দকে ভেঙে পরের লাইনে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়।
ক. তিন, চার বা পাঁচ কিংবা ততোধিক অক্ষর বিশিষ্ট কোনো শব্দকে এমনভাবে ভাঙা যাবে না, যাতে শব্দের শুরুতে লাইনে একটি অক্ষর থেকে যায়। যেমন বহমান (ব/হমান), মাতাল (মা/তাল বা মাতা/ল), বিপদ (বিপ/দ বা বি/পদ) ইত্যাদি।
খ. কোনো শব্দকে এমনভাবে ভাঙা যাবে না, যাতে পরের লাইনে যুক্তাক্ষর দিয়ে শুরু হয়। শব্দ ভাঙার সময় পরের লাইনে যাতে প্রথমে যুক্তাক্ষর না হয় তা দেখতে হবে। যেমন প্রতিষ্ঠিত (প্রতি/ষ্ঠিত), মাস্তুল (মা/স্তুল)।
গ. ভাঙা শব্দের প্রতিটি অংশে কমপক্ষে দুটো বর্গ থাকতে হবে। আদাজল (আদা/জল), বহমান (বহ/মান)।
ঘ. সমাসবদ্ধ পদের দুটো অংশের মধ্যখানে ভাঙা যাবে। যেমন বহুরূপী (বহু/রূপী), আম-জাম (আম/জাম)।
ঙ. চার-পাঁচ বা ততোধিক অক্ষরযুক্ত শব্দ অর্থগত বিবেচনায় দুই ভাগে বিভাজনীয় না হলেও ধ্বনি তথা সিলেবল বিবেচনায় ভাঙা যাবে। যেমন উলট/পালট, ঝক/মক।
চ. হাইফেন যুক্ত শব্দ ভাঙার প্রাক্কালে হাইফেনটি পরের লাইনে রাখতে হবে। যেমন আম/-জাম, স্নেহ/-দয়া, ভাই/-বোন, সোনা/-রুপা ইত্যাদি।
ছ. ভাঙা শব্দের প্রথম অংশের পরে হাইফেন বসবে। যেমন সিংহাসন (সিংহ-/আসন), দয়াবান (দয়া-/বান)।
জ. লাইনের শেষে একটি অক্ষর থাকতে পারে, যার বাকি অংশ পরের লাইনে, সেক্ষেত্রে দুটো-অংশের স্বাভাবিক বিভাজন বজায় রাখতে হবে। যেমন প্রকৃষ্ট (প্র/কৃষ্ট), প্রদীপ (প্র/দীপ) ইত্যাদি।

error: Content is protected !!