দাবদাহ তাপদাহ তাপপ্রবাহ: কোনটি অধিক যৌক্তিক; চুতিয়া: ‍চুতিয়া শব্দের অর্থ, কাদের চুতিয়া বলে

ড. মোহাম্মদ আমীন

দাবদাহ তাপদাহ তাপপ্রবাহ: কোনটি অধিক যৌক্তিক; চুতিয়া: ‍চুতিয়া শব্দের অর্থ, কাদের চুতিয়া বলে

শুবাচির প্রশ্ন: দাবদাহ ও তাপদাহ কোনটি অধিকতর যৌক্তিক? অধিকতর যৌক্তিক হচ্ছে ‘তাপপ্রবাহ’। কারণ, এই উষ্ণতা তাপের প্রবাহ; ‘দাব’ বা ‘তাপ’-র দাহ নয়। ‘দাহ’ মানে দহন— বঙ্গবাজার দাহ। আধুনিক বাংলা অভিধানমতে—

  • পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

    দাব /দাব্/: দাব (√দু+অ) অর্থ (বিশেষ্যে) অরণ্য, অনল, অগ্নি, তাপ

  • দাহ /দাহো/: দাহ (√দহ্+অ) অর্থ (বিশেষ্যে) দহন (গৃহদাহ), মৃতের সৎকার (শবদাহ)।
  • দাবানল /দাবানল্/: দাবানল (দাব+অনল) অর্থ (বিশেষ্যে) গ্রীষ্মকালে বনাঞ্চলে গাছের শুকনো ডালের পরস্পর ঘর্ষণের ফল সৃষ্ট যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, দাবাগ্নি।
‘দাব’ ও ‘দাহ’ নিয়ে দাবদাহ /দাবোদাহো/। এর আভিধানিক অর্থ (বিশেষ্যে) দাবানল বা দাবাগ্নির তাপ। এখন যে উষ্ণতা অনুভূত হচ্ছে তা দাবানল বা দাবাগ্নির তাপ নয়। ‘দাব’ শব্দের একটি অর্থ যেহেতু ‘তাপ’— হয়তো এজন্য ‘দাবদাহ’ শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এই তাপ কাউকে দাহ করছে না। এ বিবেচনায় ‘তাপদাহ’ কথাটিও যথার্থ নয়। অধিকন্তু, বর্তমানে অনুভূত তাপ ‘প্রবাহ’ নির্ভর। তাই ‘দাহ’ কথার চেয়ে ‘প্রবাহ’ কথাটি অধিকতর যুক্তিযুক্ত হতো।
সুতরাং, ‘দাবদাহ’ ও ‘তাপদাহ’ উভয় শব্দ যে অর্থে প্রয়োগ করা হচ্ছে আভিধানিক অর্থ এবং বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় যথোপযুক্ত নয়। তবে ব্যাকরণিকভাবে শব্দ দুটি শুদ্ধ। ব্যাকরণিকভাবে শুদ্ধ হলে কোনো শব্দের বহুল প্রয়োগ তার আভিধানিক অর্থকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। সংগত কারণে ‘দাবদহ’ ও ‘তাপদহ’ বহুল প্রয়োগ হলে ‘তাপপ্রবাহ’ অর্থেও ব্যবহার করা যায় বইকি।
তাপপ্রবাহ: বর্তমানে যে অর্থে ‘দাবদাহ’ ও ‘তাপদহ’ শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত অর্থবহ শব্দ হচ্ছে ‘তাপপ্রবাহ’। তাপপ্রবাহ (তাপ+প্র+√বহ্+অ) অর্থ (বিশেষ্যে) উষ্ণতার স্রোত, প্রচণ্ড উত্তাপ। সূত্র: কোথায় কী লিখবেন বাংলা বানান: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, ড. মোহাম্মদ আমীন,পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
চুতিয়া: ‍চুতিয়া শব্দের অর্থ
‘চুতিয়া’ শব্দের মূল উৎসের আক্ষরিক অর্থ যোনি (vagina) থেকে বের হওয়া। এর মূল চুত/চ্যুত (choot)। শব্দটি এসেছে ‘চুট’ থেকে। হিন্দি ও উর্দু ভাষায় যার অর্থ যোনি। ভারতীয় বিভিন্ন ভাষার প্রাচীন অভিধানে শব্দটির আদি অর্থ দেখানো হয়েছে, নপুংসক, পুরুষত্বহীন, স্ত্রীর ব্যাভিচারের কারণে যৌনরোগে আক্রান্ত পুরুষ।… … … পরবর্তীকালে শব্দটি আদি ‘যোনি/নপুংসক’ অর্থ হারিয়ে ‘বোকা/মূর্খ’ অর্থ ধারণ করে। কারণ, যে পুরুষ স্ত্রীর ব্যাভিচার কিংবা তদ্‌কারণে কারণে রোগাক্রান্ত হয়, কিন্তু স্ত্রীর ব্যাভিচার থামাতে পারেন না সে তো বোকাই।
. . . জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’ বলছে হিন্দি ‘চূতীয়া’ থেকে উদ্ভূত বাংলা চুতিয়া অর্থ (বিশেষ্যে) মূর্খ, লোহা পেটানোর হাতুড়ি। অনেকে বলেন, সংস্কৃত ‘চূত’ থেকে হিন্দিতে বোকা অর্থদ্যোতক ‘চুতিয়া’ এসেছে। হিন্দি শব্দকোষমতে, ‘চূত’ বা ‘পতিত’ থেকে চুতিয়া। বুদ্ধিচ্যুত বা জ্ঞানচ্যুত হলে চুতিয়া। হিন্দি অভিধানে শব্দটি শালীন। আধুনিক বাংলায় শব্দটি অশালীন।
অসমিজ ভাষায় ‘চুতিয়া’ অর্থ উত্তম, বিশুদ্ধ জল, বিশুদ্ধ জলের নিকটবর্তী জনগোষ্ঠী, পর্বত শৃঙ্গ। বিষ্ণুপ্রসাদ রাভা, ডব্লিউ বি ব্রাউন এবং পবনচন্দ্র শাইকিয়া তাঁদের গ্রন্থে লিখেছেন, ‘চু-তি-য়া’ শব্দটি ‘দেউরি চুতিয়া’ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ বিশুদ্ধ জলের নিকটে বসবাসরত মানুষ। ‘চু’ অর্থ বিশুদ্ধ, ‘তি’ অর্থ পানি এবং ‘য়া’ অর্থ ভূমিতে বসবাসরত জনগোষ্ঠী। আর এম নাথ তাঁর ‘ব্যাকগ্রাউন্ড অব আসামিজ কালচার’ গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন, এখানকার ভাষায় পর্বতশৃঙ্গ অর্থ-দ্যোতক ‘চুত’ থেকে ‘চুতিয়া’ শব্দের উদ্ভব। আসামের সমভূমিতে আসার আগে ‘চুতিয়া’ জনগোষ্ঠীর লোকজন পাহাড়ে বাস করতেন।
‘চুতিয়া’ অসম-এর একটি আদিম জনগোষ্ঠীর নাম। … … … বর্তমান অসমের লখিমপুর, ধেমাজি, তিনিচুকীয়া, ডিব্রুগড়, শিবসাগর, গোলাঘাট, নগাঁও, মরিগাওঁ এবং দরং জেলায় চুতিয়াদের দেখা যায়। বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলেও এদের বসবাস আছে। . . .
আসামের অসমিয়া ক্রনিকলে চুতিয়া জাতির ইতিহাস বর্ণিত। সেখানকার তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রদায়টির নাম চুতিয়া রাজা অসম্ভিনার নামে রাখা হয়েছিল। তিনি সপ্তম শতকের প্রথদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বাস করতেন। সে সময়ে চুতিয়া রাজবংশের লোকেরা বর্তমান ভারতের আসাম ও অরুণাচল প্রদেশে সাম্রাজ্য গঠন করেছিলেন। … … … বর্তমান ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাঁচি জেলায় চুতিয়া (Chutia) নামের একটি থানা আছে।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page

poodleköpek ilanlarıankara gülüş tasarımıantika alanlarPlak alanlarantika eşya alanlarAntika mobilya alanlarAntika alan yerler
Casibomataşehir escortjojobetbetturkey