দিন দীন আর দ্বীন

ড. মোহাম্মদ আমীন

দিন, দীন আর দ্বীন 

সংযোগ: https://draminbd.com/দিন-দীন-আর-দ্বীন/

““ইসলাম আমার ধর্ম।” অর্থে “ইসলাম আমার দীন।” বা  “ইসলাম আমার  দ্বীন ।” লেখা যাবে কী?  লেখা তো যাবে। আপনি যদি লিখেন তো কে বাধা দেবে?। কিন্তু এমনটি লেখা আদৌ উচিত হবে না।  অভিধানমতে, ‘দীন’ অর্থ— গরিব, অসহায়, হীন। সে হিসেবে “ইসলাম আমার দিন” কথার অর্থ হয়— “ইসলাম আমার গরিব।” যেমন: দীনে দয়া কর। “ইসলাম আমার ধর্ম” অর্থ লিখতে পারেন— “ইসলাম আমার দিন।” দিন শব্দের অনেকগুলো অর্থের মধ্যে একটি হচ্ছে— ধর্ম।  অন্যদিকে, বাংলায়  ব্যাকরণ ও বানানবিধি অনুযায়ী ‘দ্বীন’ বানানের কোনো  শুদ্ধ  শব্দ হতে পারে না।  কারণ বিদেশি শব্দে  অন্তস্থ-ব-ফলা বিধেয় নয়। তাই দ্বীন বানানের কোনো শুদ্ধ শব্দ নেই। যদি অভিধানে বা অন্য কোথাও থেকে থাকে তা অশুদ্ধ। অনুরূভাবে অশুদ্ধ: হজ্ব, (শুদ্ধ: হজ)।
প্রসঙ্গত, অভিধান দোকানের মতো।  দোকানে ক্রেতার চাহিদা মেটানোর জন্য  ভালোমন্দ, তাজা-পচা সব  জিনিস  রাখা হয়।  সাধারণত দোকানদারের উদ্দেশ্য ক্রেতার চাহিদাপূরণ, ভালোমন্দ বিবেচনা করা নয়।  অনেক দোকানে পচা জিনিসও রাখা হয়। অভিধানেও প্রয়োগ ব্যবহার ও প্রচলন বিবেচনায় শুদ্ধ-অশুদ্ধ সব  শব্দ  ঠাঁই পেতে পারে।  কিছু কিছু অভিধানে শব্দের ব্যাকরণিক শুদ্ধতার চেয়ে প্রচলনকে অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়। তাই, অমুক অভিধানে আছে বলে শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ এমন কথাটি জোর দিয়ে বলার কোনো সুযোগ নেই। অভিধান সংকলক আর বৈয়াকরণ দুটি ভিন্ন সত্তা। এজন্য অভিধান  বাছাই করার সময়  যাচাই করে নেওয়া সমীচীন।
দীন অর্থ ধর্ম নয়, এটি কোথায় পেলেন?

আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘দীন’ শব্দের অর্থ দরিদ্র, করুণ, নিঃস্ব, নীচ, অনুদার এবং বিশেষ্যে দরিদ্র বা দুঃখী

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
মোবাইল: ০১৮১৯ ৮৮৫৮১৭

ব্যক্তি। সহজ কথায় এবং আপনার ভাষায় ফকিন্নি। আপনার ধর্ম ইসলাম, আমারও। ইসলাম দরিদ্র হবে কেন, কেন হবে করুণ, নিঃস্ব, নীচ এবং অনুদার? নিজের ধর্মকে এত ছোটো মনে করা আদৌ কোনো ধার্মিকের লক্ষণ নয়।


প্রশ্নকর্তা
রেগে গিয়ে “দীন মানে ধর্ম” বলেই পাশের দেরাজ থেকে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান নিয়ে পাতা উলটাতে শুরু করলেন। কয়েক মিনিট পর মুখটা ফ্যাকাশে করে হতাশ গলায় বললেন, তাই তো, দীন মানে তো ফকিন্নি।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে দিন শব্দের দুটি পৃথক ভুক্তি রয়েছে।প্রথম ভুক্তিমতে, ‘দিন’ যখন সংস্কৃত; তখন শব্দটির অর্থ সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়, দিবস, দিবা, চব্বিশ ঘণ্টাকাল, অহোরাত্র, আয়ু (দিন আমার ফুরিয়ে এল।) সময় (দিন থাকতে চলে এসো, দেরি করো না।), কাল (সুদিন) প্রভৃতি। দ্বিতীয় ভূক্তিমতে, ‘দিন’ যখন আরবি, তখন শব্দটির অর্থ ধর্ম। যেমন : তিনি দিনদার মানুষ। ইসলাম আমার দিন। হিন্দু পৃথিবীর প্রাচীনতম দিন।

অন্যদিকে, বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘দীন’ শব্দের অর্থ দরিদ্র, করুণ, নিঃস্ব, নীচ, অনুদার এবং বিশেষ্যে দরিদ্র বা দুঃখী ব্যক্তি।
অতএব, ভুলেও বলবেন না “ইসলাম আমার দীন”, বলুন, “ইসলাম আমার দিন”।
রোজা রমজানের জ-বিধি/১
আরবি ও ফারসি শব্দে য-এর স্থলে জ হবে। যেমন: অজু, জমজম, মজলুম, রমজান, আজব, আজান, আরজ, ইজ্জত, ইজারা, উজির, ওয়াজিব, কাজি, খাজনা, খারিজ, খোজা, গজল, জনাব, জবাব, জবাই, জব্দ, জমায়েত, জরিপ, জরিমানা, জানাজা, জারি, জিন, জিনিস, জুম্মা, জুমা, মসজিদ, জেলা, জেল্লাদার, জেহাদ, জোলাপ, জোহর, জুলুম, জোব্বা, নজর, নজরানা, জেনা, মজবুত, মজলিশ, হজ, হজম, হজরত, হাজি, হাজির, হাজত, হুজুর—।
আজাদ, জোয়ান, জোর, জঙ্গি, জবর, জবরদস্ত, জমিদার, জলদি, জলসা, জাদু, জানোয়ার, জামা, জায়গা, জায়গির, জাহাঁপনা, জাহান্নম, জিগির, জিন, জিন্দা, জিন্দিগি, তরমুজ, বাজার, বাজি, মজা, মজুরি, রোজগার, রোজনামচা, রোজা, নামাজ, জেনানা —-।

সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা বানান: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

 

শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!