দি গাম্বিয়া (The Gambia) : ইতিহাস ও নামকরণ

ড.  মোহাম্মদ আমীন

দি গাম্বিয়া (The Gambia)

গাম্বিয়া নদীর নাম হতে গাম্বিয়া নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটির নামকরণ করা হয়। গাম্বিয়া হচ্ছে পর্তুগিজ গাম্ব্রা (Gambra) ও কাম্ব্রা (Cambra) শব্দের অপভ্রংশ। অন্যদিকে নামটি আঞ্চলিক কাম্ব্রা বা কাম্বার (Kambra or Kambaa) অপভ্রংশ। মূলত ম্যান্ডিকান ‘কাবু নদী’ হতে কাম্ব্রা বা কাম্বা নামের উৎপত্তি। উল্লেখ্য, ম্যান্ডিকান কাবু (Kaabu) শব্দের অর্থ রাজা। আবার অনেকে মনে করেন, পতুর্গিজ কাম্বিও  শব্দের অর্থ বাণিজ্য বা লেনদেন। এ অঞ্চলটি ছিল দাস ব্যবসার অন্যতম ঘাটি। এখানে দাস ব্যবসা উপলক্ষ্যে প্রচুর লেনদেন হতো। তাই পর্তুগিজরা এলাকাটির নাম দেয় কাম্বিও। যা অপভ্রংশে গাম্বিয়া নামে স্থিতি লাভ করে।

‘গাম্বিয়া (The Gambia) বা গাম্বিয়া প্রজাতন্ত্র পশ্চিম আফ্রিকার একটি রাষ্ট্র। এটি আফ্রিকা মহাদেশের মূল ভূখন্ডের ক্ষুদ্রতম দেশ। এর উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে সেনেগাল দ্বারা পরিবেষ্টিত। পশ্চিমে রয়েছে আটলান্টিক মহাসাগর। গাম্বিয়া নদী দেশটির মধ্যভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়েছে। গাম্বিয়া সাগর উপকূল থেকে মহাদেশের প্রায় ৩২০ কিলোমিটার অভ্যন্তর পর্যন্ত চলে গেছে। তবে এর সর্বোচ্চ প্রস্থ মাত্র ৫০ কিলোমিটার। বন্দর শহর বাঞ্জুল দেশটির রাজধানী। সেরেকুন্দা দেশের বৃহত্তম শহর।

গাম্বিয়া একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এখানকার বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র। চীনাবাদাম এখানকার প্রধান উৎপাদিত শস্য ও প্রধান রপ্তানি দ্রব্য। পর্যটন শিল্প থেকেও আয় হয়। আটলান্টিক সাগরের উপকূলের সমুদ্রসৈকতগুলো ঘুরতে এবং গাম্বিয়া নদীর বিচিত্র পাখি দেখতে পর্যটকেরা গাম্বিয়া আসেন।

গাম্বিয়ার মোট আয়তন ১০,৬৮৯ বর্গকিলোমিটার বা ৪,০০৭ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয় ভাগের পরিমাণ ১১.৫০%। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের হিসাবমতে, গাম্বিয়ার জনসংখ্যা ১৮,৮২,৪৫০ জন এবং প্রতি বর্গকিলোমিটার লোকসংখ্যা ১৭৬.১ জন। আয়তন বিবেচনায় গাম্বিয়া পৃথিবীর ১৬৪-তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় পৃথিবীর ৭৪-তম জনবহুল দেশ।

২০১২ খ্রিস্টাব্দের হিসাবমতে, গাম্বিয়ার জিডিপি (পিপিপি) ৩.৪০৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ১,৮৬৪ ইউএস ডলার। অন্যদিকে, জিডিপি (নমিনাল) ৯১৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ৫০২ ইউএস ডলার। মুদ্রার নাম দালাসি (উধষধংর)। সরকারিভাবে গাম্বিয়ার অধিবাসীদের গাম্বিয়ান বলা হয়। গাম্বিয়া ১৯শ শতকে একটি ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হয়। ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশটি যুক্তরাজ্য হতে স্বাধীনতা লাভ করে। সরকারি ভাষা ইংরেজি। তবে আরও বেশ কয়েকটি ভাষা প্রচলিত। জনগণের ৯০% মুসলিম। বাকিরা খ্রিস্টান ও অন্যান্য স্থানীয় ধর্মের অনুসারী।

১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে গাম্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাম্বিয়া (Zambia) এর সঙ্গে সংশয় দূর করার লক্ষ্যে গাম্বিয়া (Gambia) নামের সঙ্গে দি যুক্ত করা হয়েছে। গাম্বিয়ার সঙ্গে কেবল একটি দেশ সেনেগালের সীমান্ত রয়েছে। গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক পদবি শেখ প্রফেসর ডক্টর প্রেসিডেন্ট। গাম্বিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের নাম বৃশ্চিক (The Scorpions)।

গাম্বিয়ার জনগণ গর্তে পাথর ফেলে নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে গাম্বিয়া কমনওয়েলত ত্যাগ করে। গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের উক্তি, ব্রিটিশ তাদের কিছুই শেখায়নি, কেবল শিখিয়েছে কীভাবে গাইতে হয় : বাহ বাহ ব্ল্যাক শিপ এবং গড সেভ দ্যা কুইন (Baa, Baa Black Sheep and God Save the Queen)।

গ্যাবন (Gabon): ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র : কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

error: Content is protected !!